1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

আইনের প্যাঁচে এখন পর্যুদস্ত নির্দোষ রসরাজ

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরের রসরাজ দাস এখন আইনের জটিলতায় পড়েছেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ যে মামলা করেছে, তা জামিন অযোগ্য৷ আবার পুলিশ তাঁকে নির্দোষ বললেও তদন্ত রিপোর্ট কবে দিতে পারবে তা নিশ্চিত নয়৷

রসরাজের বাবা-মা

সংবাদ সম্মেলনে রসরাজের বাবা-মা

সে কারণে রসরাজ কবে ছাড়া পাবেন, তা কেউ বলতে পারে না৷ না পুলিশ, না রসরাজের আইনজীবী৷ তার ওপর তাঁর পরিবারের সদস্যরা এতই সাধারণ যে, আইনের মারপ্যাঁচ তাঁরা বোঝেন না৷ তাঁদের একটাই কথা, ‘‘রসরাজ তো কোনো দোষ করেনি৷ তারপরও ওকে ছাড়ে না কেন?''

রসরাজের বাড়ি নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিনবেড় গ্রামে৷ সে পেশায় জেলে৷ রসরাজকে আটক ও মারপিট করে পুলিশে দেয়া হয় ২৯ অক্টোবর বিকেলে৷ এর আগের দিন তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অবমাননাকর একটি পোস্টের অভিযোগ করে উত্তেজনা ছড়ানো হয়৷ পুলিশ তাঁকে আটকের পর নাসিরনগর থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) ধারায় মামলা করে৷ পরদিন ৩০ অক্টোবর সমাবেশের নামে নাসিরনগর সদর উপজেলায় হিন্দু বসতিতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়৷ ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা৷

অডিও শুনুন 01:28

‘আমার ভাই কোনো দোষ না করেও জেলে গেছে’

রসরাজকে ঐ মামলায় আটকের পর রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়৷ কিন্তু পুলিশ তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে যে, রসরাজের মোবাইল ফোন থেকে কোনো ফেসবুকে পোস্ট করা হয়নি৷ তারপরও এখানো রসরাজ কেন কারাগারে?

এই প্রশ্নের জবাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা গেছে রসরাজের মোবাইল ফোন থেকে ফেসবুকে ওই পোস্ট দেয়া হয়নি৷ কিন্তু তাঁর আইডি থেকে পোস্ট দেয়া হয়েছে৷ এখন আমাদের তদন্তের বিষয় হলো, তাহলে কে পোস্ট দিয়েছে? বিষয়টি আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি৷''

তিনি আরো জানান, ‘‘তাঁর ফেসবুক থেকে পরে ক্ষমা চেয়ে যে ব্যক্তি পোস্ট দিয়েছে, তাকে আমরা চিহ্নিত করেছি৷ কিন্তু আটক করতে পারিনি৷ আমরা সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে কিছু তথ্য পেয়েছি৷ এছাড়া কম্পিউটারের চারটি সিপিইউ জব্দ করেছি, যার ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি৷ রিপোর্ট পেলে বোঝা যাবে ওই কম্পিউটারের কোনোটি থেকে পোস্ট দেয়া হয়েছে কিনা৷ আমরা আইপি অ্যাড্রেসও চিহ্নিত করার কাজ করছি৷''

তাই তিনি বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে৷ তবে এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে, কে পোস্টটি দিয়েছিল৷''

অডিও শুনুন 03:24

‘রসরাজের জামিন পাওয়া নির্ভর করছে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর’

শুরুতে রসরাজের পক্ষে কোনো আইনজীবীকে কাজ করতে দেয়া না হলেও, এখন অ্যাডভোকেট নাসির মিয়া তাঁর আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘তথ্য প্রযুক্তি আইনের যে ধারায় রসরাজের বিরুদ্ধে পুলিশের এইআই কাওসার মামলা করেছেন, তা জামিন অযোগ্য৷ আমরা জামিনের আবেদন জানিয়েও জামিন পাইনি৷ ৩ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার পরবর্তী তারিখ৷ সেদিন আবার জামিনের আবেদন জানাবো৷ তবে জামিন পাওয়া নির্ভর করছে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর৷ আদালত পুলিশের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছে৷ কিন্তু পুলিশ কবে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে, তা পুলিশই জানে৷''

তিনি আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘পুলিশের কারণেই এখন রসরাজকে কারাগারে পঁচতে হচ্ছে৷ সে এখন জেলা কারাগারে আছে৷ পুলিশ যদি প্রথমেই মামলা করে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে দেখতো, তাহলে এই নির্দোষ লোকটিকে জেলে যেতে হতো না৷ পুলিশ যদি তাঁকে ৫৪ ধারায়ও সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার করতো, তাহলেও এতদিনে রসরাজ জামিনে মুক্তি পেতেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘রসরাজ যে বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে জড়িত না, তা সবদিক থেকেই প্রমাণিত৷ তারপরও পুলিশ যতদিন পর্যন্ত আদালতে রসরাজকে নির্দোষ বলে প্রতিবেদন না দেবে, ততদিন তাঁকে  কারাগারেই থাকতে হবে৷''

অডিও শুনুন 01:43

‘রসরাজ না দিলেও পোস্টটি কে দিয়েছিল তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না’

এরইমধ্যে পুলিশ স্থানীয় একটি সাইবার ক্যাফের মালিক জাহঙ্গিরকে আটক করেছে৷ সেখান থেকে কম্পিউটার জব্দও করা হয়েছে৷ ধারণা করা হচ্ছে, ওই সাইবার ক্যাফে থেকেই বিতর্কিত পোস্টটি দেয়া হয়৷

রসরাজের মা ঢাকায় এসে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর ছেলের জামিনে মুক্তি প্রার্থনা করেছেন৷ কিন্তু মুক্তি মিলছে না৷ রসরাজের ভাই দয়াময় দাস ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘আমরা ঘটনার পর থেকে পলাতক জীবনযাপন করেছি৷ আমাদের বাড়ি ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে হামলা চালিয়ে৷ কয়েকদিন হলো বাড়ি ফিরেছি৷ কোনো সহায়তা পাইনি৷ কীভাবে ঘর-বাড়ি বানাবো জানি না৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমার ভাই কোনো দোষ না করেও জেলে গেছে৷ তাকে কীভাবে ছাড়াবো জানি না৷ উকিলও কিছু বলে না৷ পুলিশের কাছে যাই নাই৷ আমার ভাই তো কোনো দোষ করেনি, তাকে একটু ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন না স্যার৷’’

আপনি কি রসরাজের পাশে আছেন? জানান আমাদের, লিখুন নীচের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়