1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

‘‘আইনের চোখে সবাই সমান’’

৬৫ বছর আগে সাবেক পশ্চিম জার্মানির সংবিধান গৃহীত হয়৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন সবে সমাপ্ত হয়েছে৷ দখলদারি মিত্রশক্তিদের নির্দেশেই সেই সংবিধান রচিত হয়েছিল৷ যার ১৪৬টি সূত্র আজও জার্মান রাষ্ট্র তথা সমাজের ভিত্তি৷

জার্মানিতে সংবিধানকে বলা হয় ‘বুনিয়াদি আইন', কেননা ফেডারাল জার্মান প্রজাতন্ত্রের আইনগত বুনিয়াদ হলো এই ‘গ্রুন্ডগেজেটস'৷ সেই বুনিয়াদি আইন অনুযায়ী জার্মানি একটি ফেডারাল গণতন্ত্র, একটি সমাজকল্যাণমূলক রাষ্ট্র যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত৷

সংবিধানের বিংশতিতম সূত্র বলছে, ‘‘রাষ্ট্রের যাবতীয় ক্ষমতার উৎস হলো জনগণ''৷ মত ও সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতা ছাড়া সংবিধানে নির্দিষ্ট করা রয়েছে:

- আইনের চোখে সব মানুষ সমান

- সকলেরই তাঁর মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে

- প্রতিটি নাগরিকের বাসস্থান তাঁর নিজস্ব এবং অলঙ্ঘ্য

- রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িতদের রাজনৈতিক আশ্রয় পাবার অধিকার আছে

- সম্পত্তির মালিকানার দায়িত্ব আছে

সংবিধানের এই মূল সূত্রগুলি রাজধানী বার্লিনের সংসদভবনের সামনে বড় বড় কাচের পাতের উপর উৎকীর্ণ আছে৷ সংবিধানের সূত্রগুলি যে শুধু অন্তঃসারবিহীন ফর্মুলা নয়, তার প্রমাণ হলো তিন নম্বর সূত্রটি: ‘‘পুরুষ আর মহিলাদের সমানাধিকার''৷

১৯৪৯ সালের ২৩শে মে তারিখে বন শহরে এই সংবিধান গৃহীত হয়৷ নাৎসি অপশাসনের বিভীষিকার কথা স্মরণে রেখেই সংবিধানের ১ থেকে ১৯ নম্বর সূত্রগুলি প্রণীত হয়েছিল৷ নাৎসি মৃত্যুশিবিরে মানুষের জীবন ও মর্যাদা নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের প্রথম বাক্যটি হলো: ‘‘মানুষের মর্যাদা অলঙ্ঘনীয়''৷

সংবিধানে আগ্রাসী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে; যে সব রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধাচারণ করবে, তাদের নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে৷ সরকারের প্রণীত কোনো আইন সংবিধানের বিরোধী হলে চলবে না, যার উপর নজর রাখার জন্য কার্লসরুহের সাংবিধানিক আদালত সৃষ্টি করা হয়েছে৷

৬১ জন পুরুষ ও চারজন মহিলার নয় মাসের চিন্তাভাবনার ফল এই ‘বুনিয়াদি আইন', যার নাম সংবিধান রাখা হয়নি, কেননা জার্মানি তখন পশ্চিম এবং পূর্ব, এই দুই অঞ্চলে বিভক্ত৷ সেই বিভাজন যেদিন শেষ হবে, শুধুমাত্র তখনই সম্পূর্ণ জার্মানির ‘‘সংবিধানের'' প্রশ্ন উঠবে, এই ছিল সেই আদি সংবিধানের ‘পিতা-মাতাদের' যুক্তি৷

নাভিদ কের্মানির জন্ম জার্মানিতে, যদিও তাঁর বাবা-মা আদতে ইরান থেকে এসেছিলেন৷ নাভিদ পড়াশুনা করেছেন কোলোন, কায়রো এবং বন শহরে৷ ডক্টর উপাধি লাভের পর তিনি কোরানের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার কাজে নিয়ত হন৷ কের্মানির রচনার দু'টি মূল বিষয় হলো জার্মানিতে বহিরাগতদের পরিস্থিতি এবং ইসলামপন্থি মতাদর্শ ও কার্যকলাপ৷ বর্তমানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমথ কলেজে সাহিত্যের অধ্যাপক৷

Bundestag Feierstunde Kermani Rede 23.05.2014

জার্মান সংসদে বক্তৃতা করছেন নাভিদ কের্মানি

জার্মান সংবিধানের ৬৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জার্মান সংসদে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, নাভিদ কের্মানি সেখানে ছিলেন অতিথি ও প্রধান বক্তা৷ তাঁর বক্তব্যের প্রথম সূত্রটি ছিল: ‘‘জার্মান ইতিহাসের যে অধ্যায়ই আমরা দেখি না কেন, আজকের মতো স্বাধীন, শান্তিপূর্ণ এবং সহনশীল আর কোনো যুগ চোখে পড়বে না৷''

‘‘রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িতদের রাজনৈতিক আশ্রয় পাবার অধিকার আছে'' – এই ‘চমৎকার ও সহজ' সূত্রটি যে কিভাবে একটি ‘‘দানবীয় অনুশাসন'' পরিণত হয়েছে এবং ‘‘বস্তুত রাজনৈতিক আশ্রয় প্রাপ্তিকে সংবিধান থেকে অপসারণ করেছে'', তারও তীব্র সমালোচনা করেন কের্মানি৷

তবে সবশেষে কের্মানিকে বলতে শোনা যায়: ‘‘আমার ধর্মনিষ্ঠ বাবা-মা এবং ইত্যবসরে ২৬ জন সদস্য বিশিষ্ট বহিরাগত পরিবারের তরফ থেকে আমি প্রতীকীভাবে মাথা নুইয়ে বলতে চাই, ধন্যবাদ জার্মানি৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন