1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

আইএস-কে রোখার ব্যাপারে ওয়াশিংটন, আঙ্কারা একমত নয়

তুরস্ক শুধু তখনই আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে, যখন ওবামা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে আবার সক্রিয় হবেন৷ আঙ্কারার পররাষ্ট্রনীতি এখন খোলাবাজারের দরাদরিতে পরিণত হয়েছে, বলে মিওদ্রাগ জোরিচ মনে করেন৷

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যে সবসময় ভেবে-চিন্তে, হিসেব-নিকেশ করে কথা বলেন না, তা তাঁর শত্রু-মিত্র সবাই জানে৷ তার ফলে মাঝেমধ্যে গোলযোগের সৃষ্টি হয় বৈকি৷ সম্প্রতি তিনি আইএস বা আইসিস-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘‘মিত্রদের'' সম্পর্কে বলেছেন যে, তুরস্ক সহ এই মিত্ররাই হলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল সমস্যা৷ ছাত্র জনতার সামনে বাইডেন বলেন, আঙ্কারা বহুদিন ধরে সন্ত্রাসীদের মদত দিয়ে আসছে৷ বাইডেনের এই মন্তব্যে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এর্দোয়ান এতই রুষ্ট হন যে, ভাইস প্রেসিডেন্টকে তাঁর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হয়৷

অথচ বাইডেন শুধু সত্যি কথাটাই বলেছিলেন৷ তিনি সে'কথা প্রত্যাহার করেন, শুধুমাত্র তুরস্কের সঙ্গে এমনিতেই সমস্যাকর সম্পর্ক আরো সমস্যাপূর্ণ না করে তোলার তাগিদ কিংবা প্রয়োজনে৷ কেননা ওয়াশিংটন এখনও আশা করে চলেছে যে, ন্যাটো-সদস্য তুরস্ক মত বদলে অবশেষে আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে কুর্দদের সাহায্য করবে৷ কিন্তু আঙ্কারা এখনও দোনামোনা করছে৷ অপরদিকে তুর্কি সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপর চাপ বৃদ্ধি করে চলেছে: ওবামা যখন আবার আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করবেন, তুরস্কও তখন আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে – ওয়াশিংটনকে এই সংকেত দেওয়া হয়েছে৷

Miodrag Soric

মিওদ্রাগ জোরিচ

ওবামাকে ব্ল্যাকমেল করা সম্ভব নয়

আঙ্কারার পররাষ্ট্রনীতি যেন বাজারে দর কষাকষি৷ কিন্তু ওবামা দরাদরি করতে রাজি নন – তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না৷ কাজেই তুরস্ক কোবানির কুর্দদের সাহায্য করতে, এমনকি তাদের রসদ পাঠাতেও রাজি নয় – যার ফলে কোবানিতে আইএস যদি শেষমেষ হত্যাকাণ্ড চালায়, তবে তার দোষ কিছুটা তুরস্কের উপরেও বর্তাবে৷ মোট কথা, তুরস্কের পক্ষে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদই হলেন মূল বৈরী৷ অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় প্রথমে আইএস-এর বিরুদ্ধে সংগ্রামের উপর জোর দিতে৷ শেষমেষ হয়ত আইএস এবং আসাদ, উভয়েই তাদের হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারবে৷

কোবানির পতন ঘটলে ওবামাকে সমালোচনা শুনতে হতে পারে – বিশেষ করে রিপাবলিকানদের তরফ থেকে৷ মার্কিন সংসদীয় নির্বাচনের চার সপ্তাহ আগে রিপাবলিকানরা প্রধানত ওবামার মধ্যপ্রাচ্য নীতির সমালোচনায় মুখর৷ আরো বড় কথা, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন অথবা সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়ন পানেটার মতো প্রাক্তন সহযোগীরাও এখন ওবামার মধ্যপ্রাচ্য নীতির পরোক্ষ সমালোচনা করছেন৷ প্রেসিডেন্ট ওবামার বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযোগ: ওবামা সিদ্ধান্ত নিতে গড়িমসি করেছেন – বিশেষ করে সিরিয়ায় মধ্যমপন্থি সরকার-বিরোধীদের অস্ত্রসরবরাহের ব্যাপারে৷ এক্ষেত্রে তাঁরা নির্দ্বিধায় ধরে নিচ্ছেন যে, মধ্যমপন্থি সরকার-বিরোধী বলে সিরিয়ায় কিছু একটা বা কেউ আছে – ওবামা নিজে যে বিষয়ে সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন৷

আবার ভিয়েতনাম?

দু'পক্ষের মধ্যে কার দৃষ্টিভঙ্গিটা ঠিক, মার্কিন মুলুকের ভোটারদেরও সেটা জানা নেই৷ তবে ভোটাররা দেশের রাজনীতিক মহলের দ্বিধাবিভক্ত অবস্থা দেখে বিশেষ সুখি নন: এমনকি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রেও মার্কিন রাজনীতিকরা একযোগে কাজ করতে সমর্থ নন৷

আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ভরাডুবি ঘটলেও ওবামা তাঁর নীতি বদলাবেন, বলে মনে করার কোনো কারণ নেই৷ তিনি সিরিয়া কিংবা ইরাকে কোনো সৈন্য পাঠাবেন না৷ প্রেসিডেন্ট জনসন এককালে যে ভুল করেছিলেন, ওবামা তা করতে চান না৷ জনসন ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রকে ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেন – যার ফলশ্রুতি কোনো মার্কিনিকে নতুন করে বোঝানোর প্রয়োজন পড়ে না৷

সংবাদভাষ্য: মিওদ্রাগ জোরিচ/এসি

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়