1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

‘আইএসআই’র চাপে সম্মাননা ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছেন হামিদ মীর’

বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত পাকিস্তানি অধ্যাপক ওয়ারিস মীরের সন্তান হামিদ মীর তাঁর বাবাকে দেয়া এক সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন৷ তাঁর এই ঘোষণা বাংলাদেশে সৃষ্টি করেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া৷

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে দমনপীড়নের বিরুদ্ধে যেসব বিদেশি অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের বন্ধু হিসেবে সম্মাননা দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার৷ ৫০টি দেশের বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা দেয়া হয়৷ এদের একজন পাকিস্তানি সাংবাদিক হামিদ মীরের বাবা প্রয়াত অধ্যাপক ও সাংবাদিক ওয়ারিস মীর৷ বাবার পক্ষে বাংলাদেশে এসে সম্মাননা নিয়েও গেছেন হামিদ মীর৷ তখন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হামিদ মীর সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে এই ধরনের উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন৷ পাকিস্তানের তখনকার ভূমিকারও সমালোচনা করেন এই সাংবাদিক৷ এখন হঠাত্‍ করেই বাবার সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি৷

অডিও শুনুন 03:52

‘‘তিনি নিজের বাবাকেই অপমানিত করেছেন’’

হামিদ মীর কেন এই ঘোষণা দিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বিদেশি বন্ধু খুঁজে বের করা কমিটির সদস্য শাহরিয়ার কবির ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘হামিদ মীরের বাবার নাম তো আমাদের তালিকাতেই ছিল না৷ হামিদ মীর নিজে আমাকে ফোন করে তার বাবার ভূমিকার কথা জানান৷ পাশাপাশি কিছু প্রমাণও হাজির করেন৷ আমরা কমিটির সদস্যরা তাঁর দেয়া তথ্য ও অন্যান্যভাবে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হই ওয়ারিস মীর গণহত্যার প্রতিবাদ করে লেখালেখি করেছিলেন৷ এ কারণে তাঁর নাম আমরা তালিকাভুক্ত করি এবং উনি নিজেই বাবার পক্ষে সম্মাননা নিতে বাংলাদেশে আসেন৷ ওয়ারিস মীর ছাড়াও আরো কয়েকজনকে আমরা সম্মাননা দিয়েছি৷''

যুদ্ধপরাধ ইস্যু নিয়ে কাজ করা শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘‘কয়েকদিন আগে আমি পাকিস্তান গিয়েছিলাম৷ সেখানে যারা সম্মাননা পেয়েছেন তাদের কয়েকজন আমাকে বলেছেন পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাদের সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে৷ কিন্তু তারা সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না বলে বলেছেন৷'' 

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘‘হামিদ মীর আইএসআই'কে খুশি করতে সম্মাননা ফিরিয়ে দিতে চান৷ আর এই কথা বলে তিনি নিজের বাবাকেই অপমানিত করেছেন৷ তার বাবা সত্যের পক্ষে মানবতার পক্ষে তখন অবস্থান নিয়েছিলেন৷''

প্রসঙ্গত, সম্মাননা ফিরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিক হামিদ মীর বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপড়েনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী৷ বাবার ওই সম্মাননাকে এখন ‘ধোঁকা' বলে মনে হচ্ছে৷ উনি চাচ্ছেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক একদম শেষ হয়ে যাক৷ ওই অ্যাওয়ার্ড ছিল ধোঁকা৷ আমি ধন্যবাদের সাথে বলছি, ওই অ্যাওয়ার্ড আমাদের হাসিনা ওয়াজেদকে ফেরত দেওয়া উচিত৷ আমি এই ধোঁকা ফেরত দিচ্ছি৷''

স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানো যে ৬৯ জন বিদেশি বন্ধুকে ২০১৩ সালের মার্চ মাসে সম্মাননা দেওয়া হয়, তার মধ্যে ওয়ারিস মীরসহ ১৩ জন ছিলেন পাকিস্তানি৷ একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যার ভয়াবহতা সচক্ষে দেখতে একদল ছাত্র নিয়ে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন সাংবাদিক ওয়ারিস মীর৷ নির্মমতার চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ এই সাংবাদিক তা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন দৈনিক জং পত্রিকায়৷ আর তাই তাঁকে সম্মাননা দেয় বাংলাদেশ সরকার৷ 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়