1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

আঁধারে আলো

আলোকোজ্জ্বল বিশ্বের একটা অন্ধকার দিকও আছে – বিশ্বের বহু গ্রামে-গঞ্জে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে আজও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি৷ নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তির উপর নির্ভর করে কি বিশ্বগোলকের চেহারা পাল্টে দেওয়া যায়?

বিশ্বের একশ কোটি মানুষ বিদ্যুৎ ছাড়াই দিন কাটান৷ অথচ বিদ্যুৎ ছাড়া প্রগতি খুব সহজ কাজ নয়৷ নবায়নযোগ্য জ্বালানি এই সমস্যার একটি সমাধান হতে পারে৷ হামবুর্গ ইউনিভারসিটি অফ অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস-এর নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ভাল্টার লেয়াল মনে করেন যে, সেটাই হবে ভবিষ্যতের ধারা: ‘‘আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ব্যাংকের বিবৃতি অনুযায়ী দক্ষিণ অ্যামেরিকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তির বাজার বাড়ছে বছরে ২৩ শতাংশ করে৷ এটা এমন একটা ক্ষেত্র, যা ভবিষ্যতে ক্রমাগত বেড়েই চলবে৷''

‘রেগসা' প্রকল্প

হামবুর্গ ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস-এ একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যা এই প্রবণতার সুযোগ নিয়ে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ যোগাবে৷ ‘রেগসা' প্রকল্প গ্রামবাসীদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিরও উন্নয়ন ঘটাবে৷ প্রকল্পটির খসড়া করেছেন ইউলিয়া গটভাল্ড এবং আজ এই প্রকল্প সমন্বয়ের কাজে জড়িত আছেন৷ ইউলিয়া বলেন:

‘‘রেগসা-র একটি লক্ষ্য হলো, দক্ষিণ অ্যামেরিকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা কতটা, তা তুলে ধরা৷ এ ছাড়া সাধারণভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং তৃতীয়ত – সেটাই আমাদের বাস্তব প্রকল্প – তিনটি মডেল এলাকায় আমরা তিনটি পাইলট প্রকল্প গড়ে তুলব, যা থেকে দেখা যাবে বাস্তবে ব্যাপারটা কী ভাবে কাজ করে৷''

ব্রাজিল, বলিভিয়া, চিলি

দক্ষিণ অ্যামেরিকার তিনটি দেশ এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করছে৷ প্রতিটি দেশেই জ্বালানি শক্তির অপর্যাপ্ততা দূর করার জন্য আর একটি পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে৷ ব্রাজিলের সান্তা কাতারিনা প্রদেশের রোবের্তো শ্যুৎস প্রাইমারি স্কুল এই প্রকল্পের এক সহযোগী৷ স্কুলের ছাদে ২৭টি ফোটোভোল্টেয়িক সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে৷ টেকসই বিকাশের পন্থা এটি৷

বলিভিয়ার সান পাবলো বিশ্ববিদ্যালয়ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রবণতা কাজে লাগাচ্ছে৷ রেগসা-র সহযোগিতায় এখানে একটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়া হচ্ছে৷ এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা গরম পানি দিয়ে গোসল করতে পারবে! উৎপন্ন জলবিদ্যুতের একটা বড় অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই ব্যবহার করা যাবে৷ ক্যাম্পাসের একটি কফি বিন রোস্ট করার কারখানা ও একটি শূকর পালন কেন্দ্রও সেই বিদ্যুৎ পাবে৷ ইউলিয়া গটভাল্ড বলেন:

‘‘ওখানে যে বিদ্যুতের কনেকশন নেই, এমন নয়৷ কিন্তু কখনো-সখনো ভোল্টেজ এত কমে যায় – এছাড়া বিদ্যুতের দামও খুব চড়া৷ কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ঐ কফি রোস্টারি-র মতো পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালানোই সম্ভব নয়, কেননা ওতে অনেক বিদ্যুৎ লাগে৷ এই যে ছোট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটির কাজ শেষ হতে চলেছে, এটি থেকে বিদ্যুতের একটা বড় অংশ পাওয়া যাবে৷ সেই সঙ্গে গরম জলের জন্য কয়েকটা সোলার প্যানেল লাগানো হবে৷''

চিলিতেও রেগসা কাজ করেছে, মাত্র ১০০ অধিবাসীর একটি ছোট্ট এলাকায়৷ এখানকার অধিকাংশ মানুষ চাষবাস করেন৷ গ্রামে একটিই গাড়ি আছে, সে গাড়িটিও আবার শুধু চলে গ্রামের মধ্যে, কেননা পেট্রোল ভরতে গেলে বিশ কিলোমিটার পথ চলতে হয়৷ সে জন্য গ্রামের মধ্যেই ব্যারেলে পেট্রোল ভরে রাখা হয়৷ এলাকার অধিবাসীদের সুবিধার জন্য রেগসা তাদের গাড়িটিকে একটি বৈদ্যুতিক গাড়িতে পরিণত করছে৷ এর ফলে গাড়িটা যে শুধু পেট্রোল ছাড়া চলবে, শুধু তাই নয়, এই গাড়ি থেকে কৃষিকাজের যন্ত্রপাতির জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়