1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস: ৬০ বছর পূর্তি

৬০ বছর আগে অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস বা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মদ্যাসক্তদের সমিতিটি গড়ে ওঠে জার্মানিতে৷ অন্তত একটা দিন মদের বোতল হাতে নেবেন না, ধীরে ধীরে বের হয় আসবেন এই আসক্তি থেকে৷ এই ছিল তাদের অঙ্গীকার৷

পাঁচ বছর আগে ক্রিস্টিয়ানও প্রতিজ্ঞা করেন মাত্র একদিন, মানে ২৪ ঘণ্টা কোনো অ্যালকোহল স্পর্শ করবেন না৷ নেশা তাঁকে এমনই পেয়ে বসেছিল যে একেবারে অতলে তলিয়ে গিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান৷ হাসপাতালে শয্যাশায়ী হতে হয়েছিল তাকে৷ অগ্ন্যাশয়ের অবস্থা হয়েছিল একেবারে কাহিল৷ এরপর চলে নানা রকমের চিকিত্সা ও থেরাপি৷ ‘‘তবে তাঁর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল অ্যানোনিমাস অ্যালকোহলিকসদের গ্রুপটি'', বলেন ক্রিশ্টিয়ান৷ এখন সপ্তাহে একবার তাদের মিটিংটিতে আসেন তিনি৷ সেখানে পরস্পরের সঙ্গে ভাবের আদান প্রদান হয়৷ সুখ দুঃখের কথাবার্তা হয়৷ পুরো নামটা বলেন না তাঁরা৷ তবে কে কতটা পরিচিতি তুলে ধরবেন, তা নির্ভর করে ভুক্তভোগীদের নিজেদের ওপরই৷ তারা বড় এক টেবিলের চারপাশে বসে কথাবার্তা চালান৷ টেবিলের ওপরে থাকে কফি, চা বা পানি৷ যে যত ইচ্ছা পান করতে পারেন৷ বাইরে বয়ে যায় হেমন্তের শীতল হাওয়া৷ ভেতরে উষ্ণ আবহাওয়া৷ সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়৷ শোনা হয় তাদের সমস্যার কথা৷

ক্রিস্টিয়ান জানান, ‘‘আমি কখনও ভাবিনি যে, মদ্যাসক্তদের সঙ্গে এক এক টেবিলে বসতে হবে৷ একথা ভাবতেই ঘৃণা হতো আমার৷ আজ তো রীতিমত ভালোই লাগে৷ এখানে আসার সময় প্রতিবারই খুশি খুশি লাগে৷''

সামনের বার কোন ব্যক্তি এই দলে যুক্ত হবেন তা আগে থেকে বলা যায় না৷ তিনি কোনো শহরের মেয়র হতে পারেন, প্রতিবেশী বা কারো ভগ্নিপতিও হতে পারেন৷ তবে এটা নিশ্চিত যে চার দেওয়ালের বাইরে তাদের খবরটা যাবে না৷ ‘‘এই গোপনীয়তাই আমাকে আমার অনুভূতি সম্পর্কে বলার স্বাধীনতা দিয়েছে৷ অন্য কোথাও সেটা সম্ভব হতো না'', বলেন ক্রিশ্টিয়ান৷

অ্যামেরিকা থেকে এসেছে

আদতে অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস আন্দোলনটি অ্যামেরিকা থেকে এসেছে৷ শৈল্য চিকিত্সক বব স্মিথ ও স্টকব্রোকার বিল উইলসন ১৯৩৫ সালে তাদের এই ‘অসুখটা' নিয়ে কথাবার্তা বলতে মিলিত হন৷ এরপর জার্মানিতেও ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন৷ ১৯৫৩ সালের পয়লা নভেম্বর মার্কিন সেনারা জার্মানিতে অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস-এর প্রথম বৈঠকটি ডাকেন৷ আজ জার্মানির সেল্প হেল্ফ গ্রুপের মধ্যে অন্যতম একটি বৃহৎ সমিতি এটি৷ ২৪০০টি গ্রুপে ২৫০০০ জন ভুক্তভোগী নিয়মিত যাতায়াত করেন৷ বিশ্বের ১৮৫টি দেশে অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস-এর শাখা রয়েছে৷ সদস্য সংখ্যা ২০ লক্ষের মতো৷

মানহাইম শহরের আসক্তি সংক্রান্ত ক্লিনিকের চিকিত্সক মাথিয়াস লুডেরার তাঁর রোগীদের অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস-এর বৈঠকে যাওয়ার জোর পরামর্শ দেন৷ ‘‘এই সমিতি সেই সব মানুষকেই সাহায্য করতে পারে,, যাঁদের একটি স্পষ্ট কাঠামো প্রয়োজন এবং নিজেদের সমস্যা সম্পর্কে খোলাখুলি কথা বলতে চান'', বলেন ড. লুডেরার৷

১২টি পদক্ষেপ

অ্যালকোহলিকস অ্যানোনিমাস-এ বিশেষ করে ১২টি পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়৷ বোধোদয় হওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনে নানা সমস্যা পর্যন্ত৷ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা হয় অন্যান্য মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে৷

ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে মদ্যাসক্তদের বৈঠকে কম লোকজন আসছেন৷ সমিতির এক কর্মকর্তা ইওয়াখিম জানান, ‘‘এজন্য আমরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাতে চাই না৷ এটা আমাদের মুখ্য বিষয় নয়৷ আমরা শুধু তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে চাই, যারা সাহায্য প্রত্যাশী৷''

এই বৈঠকে আসার পর থেকে ক্রিস্টিয়ানের জীবনেও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘এই সমাবেশে আসার পর থেকে আমার জীবনধারা উন্নতির শিখরে উঠছে৷''

মদের প্রতি আসক্তি থাকাকালীন মা-বাবার নির্ভরশীল ছিলেন তিনি৷ ছিলেন বেকার৷ আজ তাঁর একটি স্থায়ী কাজ রয়েছে৷ জানালা দিয়ে বাইরে দৃষ্টি চলে যায় তাঁর৷ মনে হয় নিজের কাহিনিটা নিজেরই যেন বিশ্বাস হতে চায় না৷ এক বন্ধু স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘মাতাল অবস্থায় আমি যে স্বপ্ন দেখেছি৷ স্বাভাবিক অবস্থায় এখন সেটাই কাজে পরিণত করতে পারছি৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন