1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

‘অ্যামেরিকা কাউবয় নীতি চালাতে পারে না’

কথাটা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা রাজ্যের এক বাসিন্দার গুলিতে নিহত জার্মান ছাত্র ডিরেন ডেডে-র বাবা সেলাল ডেডে৷ শুধু বাড়ির প্রাঙ্গণে ঢোকার দোষে প্রাণহরণ সেলালের কাছে অবিশ্বাস্য৷ কিন্তু সেটাই ঘটেছে তাঁর সন্তানের ভাগ্যে৷

default

মন্টানা রাজ্যের মিসুলা শহর

গত শনিবার ভোররাতে মন্টানার মিসুলা শহরের একটি বাগানওলা বাড়ির গ্যারেজে ঢোকার সময় বাড়ির মালিক মার্কুস কার্মা-র শটগানের গুলিতে মারা যান ১৭ বছর বয়সের জার্মান ছাত্র ডিরেন ডেডে৷ ডিরেন-এর বাস আসলে জার্মানির হামবুর্গ শহরে৷ এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট হিসাবে মিসুলা গেছিলেন৷ কেন অথবা কী কারণে তিনি কার্মা-র গ্যারেজে ঢোকেন, তা অজ্ঞাত৷ কার্মা দৃশ্যত অন্ধকার গ্যারেজ লক্ষ্য করে চারবার গুলি ছোঁড়েন৷ তাতেই ডিরেনের মৃত্যু ঘটে৷

এমন যে ঘটা সম্ভব, তা জানা থাকলে তিনি ছেলেকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে দিতেন না, বলেছেন ডিরেনের বাবা সেলাল৷ এবার সেই ছেলের মৃতদেহ ফেরত নিতে তাঁকে মন্টানায় যেতে হয়েছে৷ হামবুর্গের একটি গির্জায় প্রার্থনা অনুষ্ঠানের পর ডিরেনকে তুরস্কের বোদ্রুম শহরে গোর দেওয়া হবে৷ সে তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান৷

জার্মানিতে ডিরেনের মৃত্যু যতো না চাঞ্চল্য, তার চেয়ে বেশি ঊষ্মা ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য রাজ্যের মতো মন্টানাতেও ‘‘ক্যাসল ডকট্রিন'' বা ‘দুর্গ নীতি' আছে: ইংরিজিতে বলে ‘মাই হোম ইজ মাই ক্যাসল', অর্থাৎ ‘আমার বাড়ি আমার দুর্গ'৷ যার অপর অর্থ, আমার বাড়ি রক্ষা করার জন্য আমি প্রয়োজনে গুলি চালাতে পারি৷ দৃশ্যত ডিরেনের হন্তারক মার্কুস কার্মা ঠিক সেই ‘ক্যাসল' যুক্তির আশ্রয় নিয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করতে পারেন, যদিও তার বিরুদ্ধে এখন হোমিসাইড বা হত্যার মামলাই দায়ের করা হচ্ছে৷

এই মামলা নিঃসন্দেহে অনেক দূর গড়াবে৷ ২৯ বছর বয়সি মার্কুস কার্মা মার্কিন ফরেস্ট সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক বিভাগের কর্মী৷ তাঁর বাড়িতে নাকি সম্প্রতি একাধিকবার চোর ঢুকেছে৷ তিনি নাকি সেইজন্য গ্যারেজে ভিডিও মনিটর লাগিয়ে, রাতে গ্যারেজের দরজা খুলে রেখে, চোর ধরার অপেক্ষায় ছিলেন৷ মনিটর গ্যারেজে কারো নড়াচড়া দেখাতেই কার্মা তাঁর শটগান নিয়ে গ্যারেজের দিকে যান এবং কোনোরকম ওয়ার্নিং না দিয়ে গুলি চালান৷ সেই ওয়ার্নিং না দেওয়াটাই হয়তো তাঁর কাল হয়ে উঠতে পারে, যদিও কার্মা বলছেন, তিনি আত্মরক্ষার দায়েই গুলি চালিয়েছেন৷

আরো একটি প্রশ্ন বাকি থেকে যায়: ডিরেন অতো রাতে পরের বাড়ির গ্যারেজে গিয়ে কী করছিলেন অথবা খুঁজছিলেন? তার উত্তর যাই হোক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র প্রীতি এবং কাউবয় মনোবৃত্তি যে তাঁর সন্তানের মৃত্যুর জন্য দায়ী, সে বিষয়ে সেলাল ডেডে-র কিছুমাত্র সন্দেহ নেই৷

এসি/এসবি (রয়টার্স, এপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন