1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

অ্যামেরিকাস কাপে ওরাকেল-এর মিরাকেল

সেইলিং-কে ঠিক উপমহাদেশীয় খেলা বলা চলে না৷ বিত্তশালীদের শখ কিংবা খেলা হিসেবে ইয়টিং গল্ফ-কেও ছাড়িয়ে যায়৷ তবুও খেলাধুলার বাজারে বিশ্বের প্রাচীনতম প্রতিযোগিতা এবার রোমাঞ্চে বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছে৷

সেইলিং বলতে পালতোলা নৌকার দৌড়৷ ইয়ট বলতে প্রমোদতরী৷ এবারকার অ্যামেরিকাস কাপ দেখলে এ সব পুরনো সংজ্ঞার কথা ভুলে যেতে হয়৷ বুধবার দুপুরে সান ফ্রান্সিসকো বে-তে টিম নিউজিল্যান্ড এবং টিম ইউএসএ-এর দুটি এসি৭২ কাটামারানের মধ্যে এ পর্যায়ের শেষ দৌড়ে ইউএসএ নিউজিল্যান্ডের বোটটিকে হারায় ৪৪ সেকেন্ডে৷ সিরিজের স্কোর দাঁড়ায় ৯-৮৷ অ্যামেরিকাস কাপ অ্যামেরিকাতেই থাকে – মানে সফ্টওয়্যার কোম্পানি ওরাকেল-এর মালিক ল্যারি এলিসন-এর কাছে৷

এলিসন হলেন বিত্তের হিসেবে মার্কিন মুলুকে তৃতীয়: সম্পত্তির পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার৷ টিম ইউএসএ-তে ঢেলেছেন – বেশি নয় – ১০০ মিলিয়ন ডলার৷ এ ধরনের অর্থব্যয় সম্পর্কে এলিসনের বক্তব্য: ‘‘রেস জিততে যা টাকা লাগে, হারতেও ঠিক ততোটাই লাগে৷ কাজেই কাপ জেতাটাই ভালো৷'' কার্পণ্য তাঁর ধাতে নেই৷ কাপের রেসগুলো কভার করার জন্য মার্কিন টেলিভিশন কোম্পানি এনবিসি-কে টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন৷

অ্যামেরিকাস কাপে এবার মূল চিন্তা ছিল বোটগুলোকে নিয়ে৷ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এবার সুপারফাস্ট এসি৭২ (অ্যামেরিকাস কাপ ৭২ ক্লাস) কাটামারানগুলি ব্যবহার করা হবে৷ গত মে মাসেই ব্রিটেনের অলিম্পিক গোল্ড মেডাসিস্ট অ্যান্ড্রু সিম্পসন এই ধরনের একটি বোট উল্টে তার তলায় আটকা পড়ে মারা যান৷ কিন্তু এবারকার ‘রেগাটা' (নৌকার দৌড়) সেইলিং স্পোর্টটাকেই চিরকালের জন্য বদলে দিয়েছে, বলে মন্তব্য করেছেন এলিসন৷

America's Cup 2013 Oracle 23.September

শেষ দৌড়ে ইউএসএ নিউজিল্যান্ডের বোটটিকে হারায় ৪৪ সেকেন্ডে

এসি৭২ ক্লাসের কাটামারানগুলি বস্তুত উইং সেইল৷ দু'পাশের ফয়েলগুলো এমন যে, ক্ষেত্রবিশেষে তারা গোটা ‘হাল'-টিকে পানি থেকে তুলে ফেলে৷ বোটের সর্বোচ্চ স্পিড এ পর্যন্ত যা দেখা গেছে, তা হল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার – মোটরবিহীন একটি নৌকার পক্ষে যা অবিশ্বাস্য৷ রেসে সাধারণত এই কাটামারানগুলোর গতি থাকে ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার, যদিও তা বেড়ে ৭৪ কিলোমিটারে দাঁড়াতে পারে৷

২০১০-এর অ্যামেরিকাস কাপ জেতে সান ফ্রান্সিস্কোর গোল্ডেন গেট ইয়ট ক্লাবের একটি ট্রিমারান৷ বিজয়ীরাই পরে সিদ্ধান্ত নেয় যে, পরের প্রতিযোগিতাটি কাটামারানে অনুষ্ঠিত হবে৷ এখন প্রশ্ন হল, ইয়টিং কিংবা সেইলিং-এর মতো এক্সক্লুসিভ স্পোর্টে নিউজিল্যান্ডের মতো একটি ৪৫ লাখ মানুষের দেশ হঠাৎ ঢুকে পড়ল কী করে? উত্তরটা সহজ: ১৯৮৭ সালে নিউজিল্যান্ড প্রথমবারের মতো চ্যালেঞ্জার হয়েই বিশ্বের প্রথম ফাইবারগ্লাস ১২ মিটার দৈর্ঘের ইয়ট তৈরি করে ইয়টিং দুনিয়াকে চমকে দেয়৷

তবুও, এমিরেটস-এর স্পন্সরশিপ এবং নিউজিল্যান্ড সরকারের ৩৬ মিলিয়ন ডলার অর্থসাহায্য ছাড়া টিম নিউজিল্যান্ড এবার এতোদূর এগোতে পারত না৷ আসার পরে ফাইনাল সিরিজের প্রথম সপ্তাহেই ৮-১ রেসে এগিয়ে যায় টিম নিউজিল্যান্ড৷ কিন্তু তার পরেই টিম ইউএসএ যে জেতা শুরু করে, সেই জেতার শেষ হয় ১৭তম রেসটি জিতে: চূড়ান্ত স্কোর দাঁড়ায় ৯-৮৷ সারা দুনিয়া যখন বাহবা দিচ্ছে, তখন নিউজিল্যান্ডে বিতর্ক শুরু হয়েছে, অ্যামেরিকাস কাপে অংশগ্রহণের মতো এই সাদা হাতি পোষা নিউজিল্যান্ডের মতো ভেড়াপালকদের দেশে প্রয়োজনীয় কিংবা কাম্য কিনা৷

এসি / এসবি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন