1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

মার্কিন নির্বাচন

অ্যামেরিকার মুসলিমরা চিন্তিত

ট্রাম্প ও ক্লিন্টন তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের যে ছবি এঁকেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমরা খুশি নন৷ ট্রাম্পের কাছে যারা সম্ভাব্য সন্ত্রাসী; ক্লিন্টনের কাছে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ‘চোখ ও কান’৷

US TV Debatte Trump vs Clinton (picture alliance/AP Photo/J. Locher)

ট্রাম্পের কাছে মুসলিমরা সম্ভাব্য সন্ত্রাসী; ক্লিন্টনের কাছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ‘চোখ ও কান’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এখন তার চূড়ান্ত সপ্তাহে৷ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে অ-জনপ্রিয় দুই প্রার্থী এখন তাদের প্রতিপক্ষ জিতলে, সেটা যে বিশ্ব তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কত বড় বিপর্যয় হবে, তা বোঝানোর চেষ্টা করছেন৷

গত সপ্তাহেও ক্লিন্টন ট্রাম্পের চেয়ে স্পষ্ট এগিয়ে ছিলেন৷ কিন্তু শুক্রবার খবর বেরোয় যে, এফবিআই আবার ক্লিন্টনের ই-মেল দেখছে৷ তারপর থেকে ট্রাম্পের প্রচার অভিযান নতুন বাতাস পেয়েছে, একাধিক জরিপে দেখা গেছে তিনিই এগিয়ে রয়েছেন৷

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হবার সম্ভাবনায় বিশ্বের, বিশেষ করে এশিয়ার অর্থ বাজার যেন কিছুটা শঙ্কিত৷ ওদিকে মেক্সিকোর পেসোর বিনিময়মূল্য হ্রাস পেয়েছে৷ অর্থ ব্যবসায়ীদের চোখে ট্রাম্প সম্পূর্ণ অজ্ঞাত, তিনি যে কী করবেন, তা জানা নেই৷ বিশেষ করে ট্রাম্প ফেডারাল রিজার্ভের প্রধান জ্যানেট ইয়েলেন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির তীব্র সমালোচনা করার পর থেকে এই অবস্থাই দাঁড়িয়েছে৷

মুসলমানদের ভাবনা

নির্বাচনের আগেই অ্যামেরিকার মুসলিমরা দেখছেন, দু'পক্ষই তাদের একটা বিশেষ খোপে ঢুকিয়ে দিচ্ছে৷ সন্ত্রাসবাদ ছাড়া অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে মার্কিন মুসলিমদের যে কোনো উদ্বেগ বা চিন্তাভাবনা থাকতে পারে, তা যেন উপেক্ষা করে যাওয়া হচ্ছে৷ প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা যেন অ্যামেরিকান মুসলিমদের সঙ্গে কথা না বলে,তাদের সম্পর্কে কথা বলছেন৷ শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের মতো বিষয় যে মার্কিন মুসলিমদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ, সেটা যেন ভুলে যাওয়া হচ্ছে৷

গত জুলাই মাসে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে খিজর খান ও তাঁর স্ত্রী'র ছবি৷ খিজর খান তাঁর ছেলে হুমায়ুনের কথা বলেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের সৈনিক হিসেবে ইরাকে প্রাণ দিয়েছেন৷ খিজর খান যেসব ট্রাম্প-বিরোধী মন্তব্য করেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রথম একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে এক নিহত মার্কিন সৈন্যের পরিবারের সমালোচনা করতে শোনা যায়, যা কিনা প্রায় নজিরবিহীন৷

ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনি প্রচারের শুরুতেই বিরূপতার সৃষ্টি করেন এই দাবি তুলে যে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বিদেশি মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা উচিত৷ সেন্ট লুইসের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেটে দুই প্রার্থীকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে ইসলাম-বিদ্বেষ রোধের পন্থা কি? ট্রাম্প বলেন, মুসলিমরা যদি কোনো বিপজ্জনক কার্যকলাপে লিপ্ত হন, তবে অন্য মুসলিমদের কর্তৃপক্ষকে সে খবর দেওয়া উচিত৷ তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এক অ্যামেরিকান মুসলিমের টুইট আজ ইতিহাসে হয়ে গেছে৷

ব্রুকলিন কলেজের অধ্যাপক মুস্তাফা বায়ুমি টুইট করেছিলেন, ‘‘আমি একজন মুসলিম৷ আমি খবর দিতে চাই যে, মিসৌরির এক প্রকাশ্য মঞ্চে এক পাগল একজন মহিলাকে ভয় দেখাচ্ছে৷'' ইঙ্গিত স্পষ্টতই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিন্টনের প্রতি৷ ডিবেট শেষ হওয়ার মধ্যে বায়ুমির টুইট ৩২,০০০ বার রিটুইট করা হয়, ‘লাইক' করা হয় ৪৩,০০০ বার৷

বায়ুমি এবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন যে, মুসলিম অ্যামেরিকানদের ‘‘এমন একটি বিশেষ গোষ্ঠীতে ফেলা হয়েছে যে, তাদের সাধারণ মার্কিন সত্তা কোনো গুরুত্ব পাচ্ছে না৷'' ওদিকে এই একটানা প্রচারণার ফলে অমুসলিম মার্কিনিরা হঠাৎ তাদের বন্ধুদের শুধু বন্ধু হিসেবে না দেখে, ‘মুসলিম বন্ধু' হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন৷

এসি/এসিবি (এপি, এএফপি)

প্রিয় পাঠক, আপনার কিছু বলার আছে? জানাতে পারেন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়