1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অ্যামেরিকার নতুন ভয় ‘আঙ্গেলা ম্যার্কেল'

ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলারি ক্লিন্টনকে ‘অ্যামেরিকার আঙ্গেলা ম্যার্কেল' আখ্যা দিয়েছেন, কেননা মাত্রাধিক অভিবাসন ও নিজেদের সামাজিক অবনতি সম্পর্কে মার্কিনিদের যে আশঙ্কা, ম্যার্কেল তার প্রতীক৷ এমনটিই মনে করেন ডয়চে ভেলের ইনেজ পোল৷

গতবছর বড়দিনের সময়েও কোনো জার্মানকে দেখতে পেলে মার্কিনিরা আঙ্গেলা ম্যার্কেল সম্পর্কে তাদের শ্রদ্ধা ও উচ্চ অভিমত ব্যক্ত করতেন৷ মার্কিন পত্র-পত্রিকার প্রথম পাতায় ম্যার্কেলকে তাঁর যুক্তিসম্পন্নতার জন্য প্রশংসা করা হয়েছে; ম্যার্কেল শুধু জার্মানদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনে দেননি, গোটা ইউরোপের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার গ্যারান্টিও তিনি৷ সিরীয় উদ্বাস্তুদের সঙ্গে ম্যার্কেলের সেলফি এক নতুন, হৃদয়বান জার্মানির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মিউনিখ রেলওয়ে স্টেশনে মানুষজন করতালি দিয়ে উদ্বাস্তুদের স্বাগত জানিয়ে থাকেন৷

যখন হাওয়া বদলায়

তারপর আসে নিউ ইয়ার্স ইভে কোলোন রেলওয়ে স্টেশনের সামনের চত্বরে মহিলাদের উপর হামলা; উদ্বাস্তুদের স্বাগত জানানোর পরিবর্তে শুরু হয়ে যায় ‘উদ্বাস্তু সংকট' নিয়ে বিতর্ক৷ যেমন দেশে, তেমন ইউরোপীয় পর্যায়ে এই উদ্বাস্তু সংকট ম্যার্কেলের ভাবমূর্তিকে মলিন করে৷ ‘‘আমরা পারব-'' বলে ম্যার্কেল যে ধ্বনি দিয়েছিলেন, তা ডুবে যায় উদ্বাস্তু সংকটের কলরোলে৷

নতুন বছরে শুরু হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পূর্বরাগ, অর্থাৎ প্রাইমারি, যে প্রাইমারিতে ধূমকেতুর মতো আকাশে ওঠেন ভুঁইফোড় ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ সেই সঙ্গে জাতিবাদ ও বিদেশি-বহিরাগত সংক্রান্ত যাবতীয় মূলক ও অমূলক ভয়ভীতি যেন খাঁচা খুলে বেরিয়ে পড়ে৷

Bildkombo Trump Clinton Thema Deutschland

ডোনাল্ড ট্রাম্প হিলারি ক্লিন্টনকে ‘অ্যামেরিকার আঙ্গেলা ম্যার্কেল' আখ্যা দিয়েছেন

অবশেষে মার্কিন মুলুকে এমন একজন রাজনীতিকের আবির্ভাব ঘটল, যাঁর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সাধারণের বোধগম্য; যিনি ‘পলিটিক্যাল করেক্টনেস'-এর ধার না ধেরে তাঁর নিজস্ব, অংশত মনগড়া সব তত্ত্ব ব্যাখ্যান করতে শুরু করেন৷ যেমন বলা হয়ে থাকে, অ্যামেরিকার অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য মেক্সিকান আর চীনারা দায়ী, অথবা বিশ্বে যাবতীয় যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের জন্য মুসলিমরা দায়ী৷

ট্রাম্পের টুইটার অভিযান

ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কিছু ভালো বোঝেন, তাহলে সেটা হলো জনতার ‘মুড' বা মেজাজ৷ কাজেই জার্মানি ও ইউরোপে যে উদ্বাস্তুদের ব্যাপারে ‘মুড' বদলাচ্ছে, সেটা তিনি ভালোমতো উপলব্ধি করে নিজের প্রচার অভিযানে কাজে লাগাতে দ্বিধা করেননি৷ টুইট করে তিনি জার্মান চ্যান্সেলর ও তাঁর উদ্বাস্তু নীতিকে এমনকি প্যারিসের সন্ত্রাসবাদি আক্রমণের জন্যও দায়ী করেছেন৷ জার্মানিতে আক্রমণ বা হত্যাকাণ্ড, যা-ই ঘটুক, যদি তাতে কোনো মুসলিম সংশ্লিষ্টতা থাকে, তবে ট্রাম্প তা নিয়ে টুইট করবেন বলে ধরে নেওয়া যায়৷

এবার ট্রাম্প বিপদে পড়েছেন৷ দলীয় সম্মেলনে মনোনয়নের পর থেকে তাঁর পালে আর হাওয়া নেই, হালে নেই পানি, জরিপে হিলারি ক্লিন্টন ক্রমেই এগিয়ে যাচ্ছেন৷ বিশিষ্ট রিপাবলিকানরা ট্রাম্পকে সমর্থন করতে রাজি নন৷ ট্রাম্পের নিজের নির্বাচনি প্রচার টিমেও কোন্দল৷

গোড়া থেকেই ট্রাম্পের স্ট্র্যাটেজি ছিল জনমানসে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা৷ মানুষজনকে যত ভয় দেখানো যাবে, ততই তারা একজন শক্ত নেতাকে চাইবে, যিনি কড়া হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারেন৷ এখানে ম্যার্কেলের সমস্যা যেন ট্রাম্পের মুশকিল আসান করে দিচ্ছে: শুধু হিলারি ক্লিন্টনকে ‘অ্যামেরিকার আঙ্গেলা ম্যার্কেল' আখ্যা দেওয়ার অপেক্ষা৷

Pohl Ines Kommentarbild App

ডয়চে ভেলের ইনেজ পোল

সবল পুরুষ, অবলা নারী?

বহু মার্কিনির কাছে আঙ্গেলা ম্যার্কেল আজ আশাভঙ্গের প্রতীক৷ তাঁর ক্ষমতা ও সামর্থ্যে যাদের আস্থা ছিল, তারা দেখছেন, ম্যার্কেল ঠিক সময়ে লাগাম টানতে পারলেন না বলে তিনি ব্যর্থ হতে চলেছেন৷ তারা দেখছেন, একজন নারী, যাঁর উপর বহু মানুষের আস্থা ছিল, তিনি শেষমেশ নিজের দেশকে ‘অন্যদের' হাত থেকে বাঁচানোর জন্য যে কাঠিন্যের প্রয়োজন ছিল, তা প্রদর্শন করতে পারলেন না৷ এমন একজন মহিলা, যিনি সন্ত্রাসকে নিজের দেশে নিয়ে এসেছেন৷ নাইন-ইলেভেনের ১৫ বছর পরও ট্রাম্পের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো মার্কিনিদের সন্ত্রাসী আক্রমণের ভীতি৷

ম্যার্কেলের সঙ্গে ক্লিন্টনের তুলনা করার চালটি মন্দ নয়, কেননা, দুজনেই মহিলা, যেখানে ট্রাম্প নিজে পুরুষ৷ ‘অবলাদের' ভুল-ভ্রান্তি থেকে অ্যামেরিকাকে বাঁচানোর দায়িত্ব আর কার উপর ন্যস্ত করা যেতে পারে?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়