1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে মিশরের অন্ধকার দিক

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে মিশরের এক অন্ধকার দিকের কথা উঠে এসেছে৷ আইন শৃঙ্খলাবাহিনী বিরোধী সমর্থকদের উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন করছে, যাদের অনেকেরই কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না৷

এ ধরনের বন্দিদের উপর চলছে অমানুষিক নির্যাতন৷ স্পর্শকাতর অঙ্গে বৈদ্যুতিক শক, ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও দীর্ঘদিন আটকে থাকা অনেক ব্যক্তিকে রিমান্ডে নেয়ার কথা স্বীকার করেছে৷

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বুধবার যে প্রতিবেদন তুলে ধরেছে, তাতে মিশরের পুলিশ ও বিচার বিভাগের ভয়ঙ্কর দিকের কথা বলা হয়েছে৷ তারা বলছে, এই দুটো বিভাগের অনৈতিক আচরণের কারণে ২০১৫ সালের শুরু থেকে অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে৷

লন্ডনভিত্তিক সংস্থাটি জানাচ্ছে, ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন করতেই এ পথ বেছে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী৷ মিশরের রাষ্ট্রীয় পুলিশের প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে গুম করে দেয়া৷ এ কারণে বর্তমানে সেখানে কেউ মত প্রকাশ করার সাহস পায় না৷ মানবাধিকার সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পরিচালক ফিলিপ লুথার জানালেন এসব একথা৷

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মুরসির কয়েক হাজার অনুসারীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ৷ তারপর তাদের বন্দিশালায় পাঠানো হয়, যাদের বেশিরভাগকেই ভয়াবহ নির্যাতন করা হয়৷

নির্যাতনের শিকার এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বন্দিদের হাতকড়া পরিয়ে নগ্ন করে শরীরের নানা স্পর্শকাতর অঙ্গে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়, যেমন পুরুষাঙ্গ বা যোনী, ঠোঁট এবং কান৷ দীর্ঘসময় ধরে এই শক দেয়া হয়৷ এছাড়া যৌন নির্যাতনতো রয়েছেই৷ অনেক পুরুষ ও নারীকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে এবং মারধোর করে ধর্ষণ করা হয়৷

একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে৷ মাজেন মোহাম্মেদ আব্দুল্লাহ নামে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে আটক করে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী৷ অবিরাম ধর্ষণ এবং মলদ্বারে লাঠি দিয়ে নির্যাতন করা হয় তাকে যাতে সে দোষ স্বীকার করতে বাধ্য হয়৷

মিশরের মানবাধিকার সংস্থা ন্যাশনাল কাউন্সিল জানায়, ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত ২৬৬ টি এ ধরনের ঘটনার তথ্যাপ্রমান তাদের কাছে আছে৷

ভিডিও দেখুন 06:18

জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় যে, স্বজনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শতাধিক মানুষ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হেফাজতে আছে৷ তাদের আইনসঙ্গত কারণেই আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি৷

২০১৩ সালের জুলাইতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মোহাম্মদ মুরসির পতন ঘটায় আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসির সরকার৷ এরপরই মুরসি সমর্থকদের ধরপাকড় ও নির্যাতন শুরু হয়৷

আল সিসি সরকার মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড এবং সমমনা ফ্রিডম ও জার্স্টিস পার্টিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে৷ ২০১৩ সালের আগস্টে সেনা অভিযানে ১ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়৷

এপিবি/ডিজি (এপি, এএফপি, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়