1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ভারত

অ্যাপোলো দোষী, প্রমাণিত তদন্তে

দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম ব্যক্তির চিকিৎসা না করে, নানা ভুয়ো খরচের হিসেব দিয়ে বিল বাড়াতে ব্যস্ত ছিল কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতাল৷ হ্যাঁ, এমনটাই প্রমাণ হলো তদন্তে৷

Indien Gesundheitssystem Ausstellung von Rezepten Krankenhaus (DW/P. Tewari)

কলকাতার একটি হাসপাতাল এলাকা

পথ দুর্ঘটনায় আহত সঞ্জয় রায়ের চিকিৎসায় গাফিলতি এবং পরিণতিতে সঞ্জয় রায়ের অকালমৃত্যুর ঘটনায় কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে৷ শুধু চিকিৎসায় গাফিলতিই নয়, রাজ্য সরকারের তৈরি করা তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেয়েছে যে, ভুয়ো বিল তৈরি করে সঞ্জয় রায়ের চিকিৎসার খরচ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে৷ এই অভিযোগ শুরু থেকেই করছিলেন মৃত সঞ্জয় রায়ের স্ত্রী৷

প্রমাণিত হয়েছে যে, সঞ্জয় রায়ের মূল চোট-আঘাতের চিকিৎসা না করে, কেবল হাসপাতালের বিল বাড়াতেই তৎপর ছিলেন কয়েকজন চিকিৎসক এবং চিকিৎসা কর্মী৷ যে বিপুল অঙ্কের বিল না মেটাতে পারায় সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে জায়গা পাওয়া সত্ত্বেও সঞ্জয় রায়কে নিয়ে যেতে পারেনি তাঁর পরিবার৷ নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারটির হাতে যথেষ্ট নগদ টাকা না থাকায় তাদের কার্যত বাধ্য করা হয় সামান্য আর্থিক সঞ্চয়ের সার্টিফিকেট জমা রেখে, তবেই সঞ্জয় রায়কে অন্যত্র নিয়ে যেতে৷ অথচ অ্যাপোলো হাসপাতালে সঞ্জয়ের চিকিৎসার প্রয়োজনে একাধিক দামি পরীক্ষার উল্লেখ করে মোটা অঙ্কের খরচ লেখা হয়েছে, যেসব পরীক্ষা আদৌ হয়নি৷ এরকমই একটি পরীক্ষার খরচ ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা৷ এ সব জালিয়াতিই ধরা পড়েছে তদন্তে৷

রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্ত কমিটি নির্দিষ্টভাবে অভিযুক্ত চিকিৎসক, সেবিকা, ও হাসপাতালের বিলিং সেকশনের কর্মীদের চিহ্নিত করেছে, যাঁরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন এই জালিয়াতিতে৷ এর আগেই অবশ্য অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রশাসনিক কর্তাদের স্থানীয় থানায় ডেকে একপ্রস্থ জেরা করা হয়েছিল৷ শুক্রবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ফের অ্যাপোলোর কয়েকজন কর্তাব্যক্তিকে ডেকে পাঠানো হয়৷ ওদিকে মুখ্যমন্ত্রী উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডাকেন, অভিযুক্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং হাসপাতালের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই সিদ্ধান্ত নিতে৷ সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনারও৷

এদিকে এরই পাশাপাশি দু'টি নামি ওষুধ কোম্পানির বিরুদ্ধে মেয়াদ ফুরনো ওষুধ নতুন মোড়কে বিক্রি করার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে পশ্চিমবঙ্গে৷ খোঁজ মিলেছে সেই মুদ্রণ সংস্থার, যারা পুরনো, বাতিলযোগ্য ওষুধের নতুন মোড়ক ছাপার কাজ করত৷ পুলিশ জানতে পেরেছে, বেলুড়ের একটি ছোট অফিসঘরে গত ৭-৮ বছর ধরে এই জালিয়াতি চলছিল৷ অভিযুক্ত ওই দুই ওষুধ কোম্পানি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের এবং ভিন রাজ্যের বেশ কিছু স্টকিস্ট এবং ডিস্ট্রিবিউটরও এই জাল ওষুধের ব্যবসায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল বলে প্রমাণিত হয়েছে৷ এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে রাজ্যজুড়ে৷ প্রত্যেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যে ওষুধ সংস্থা বহু মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করেছে, তাদের কেন গণহত্যার দায়ে শাস্তি হবে না?

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়