1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

অস্ত্রোপচারের মাধ্যেমে ওজন কমানো – যৌক্তিকতা কতটুকু?

ব্রিটেনে তরুণী এবং মহিলারা ওজন কমাতে জিমে যাচ্ছেন না৷ তারা ভীড় করছেন বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে৷ অপারেশনের মাধ্যেমে তারা বাড়তি ওজন কমাতে আগ্রহী, ব্যস্ত৷

default

এমন গড়ন কে না চায়? (ফাইল ফটো)

এইতো মাত্র কয়েকদিন আগেই চলে গেল বড় দিন এবং নতুন বছরের উৎসব৷ এসব উৎসবে আর কিছু হোক না হোক খাওয়া-দাওয়া বেশ জমে৷ আর এরপরেই শুরু হয় বিপত্তি৷ হঠাৎ করেই সবাই, বিশেষ করে মহিলারা খেয়াল করেন যে ওজন বেড়ে গেছে এই কয়েকদিনেই৷ শুরু হয় ওজন কমানোর জন্য তোড়-জোড়৷ কীভাবে ? অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে৷

ব্রিটেনে অনেক তরুণী এবং মহিলা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন বড় দিন আর নতুন বছরের উৎসবের পর৷ কারণ আনন্দ-উৎসব মুখর পরিবেশে সবারই খাওয়া-দাওয়া একটু বেশি হয়েছে৷ এই অতিরিক্ত খাওয়া পরিণত হয়েছে বাড়তি ওজন আর মেদে৷ যেভাবেই হোক এগুলো ঝরিয়ে ফেলতে হবে৷

সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় জানানো হয়েছে ব্রিটরা এসব উৎসবে সবচেয়ে বেশি ভক্ষণ করেছে ঘন ঝোলে রান্না করা মাংস আর কাস্টার্ড৷ এর ফলে ক্যালরি বেড়েছে হু হু করে৷ বলা প্রয়োজন, ব্রিটেনে ওবেসিটি বা মাত্রাতিরিক্ত মোটা হওয়ার সমস্যা সবচেয়ে তীব্র৷ ১৪ বছরের শিশুদের মধ্যে প্রতি চারজনে একজন ওবিস৷ গোটা দেশে প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ ওবিস৷ ব্রিটেনের নর্থহ্যম্পটনশায়ারের মানুষরা ওজন কমাতে জিমের বদলে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ক্লিনিকে৷ চিকিৎসক কেম্প বললেন, ‘‘এখানে আমরা দেখছি একটি মানব দেহের একটি মডেল৷ পাকস্থলীর উপরের দিকে একটি গ্যাস্ট্রিক ব্যান্ড বেধে দেওয়া হয়েছে৷''

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কীভাবে ওজন কমানো সম্ভব? তা বোঝাচ্ছিলেন চিকিৎসক এ্যান্ড্রু ক্যাম্প৷ তিনি আরো জানালেন, ‘‘এ্যানাটমির কিছু বিষয় আছে যা যে কোন সার্জনের পক্ষে বোঝা সম্ভব৷ তারা জানে পাকস্থলীর ওপরের দিকে কীভাবে একটি গ্যাস্ট্রিক ব্যান্ড আটকে দেওয়া হয়৷''

Flash-Galerie Handschuhe

ওজোন কমাতে অস্ত্রোপচারের দিকেই ঝুঁকছে নারীরা (ফাইল ফটো)

বিএমআই অর্থাৎ যে দেহের ‘বডি মাস ইনডেক্স' ৩০ -এর ওপরে তাদের ওবিস বা বেশি মোটা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়৷ তবে তাদের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয় না৷ অস্ত্রোপচারের জন্য ‘বডি মাস ইনডেক্স' হতে হবে ৪০-এর ওপরে৷

বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম জানিয়ে দিচ্ছে নতুন বছর মানে নতুন একজন ‘আপনি'৷ অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন এসব প্রচারে৷ তারা ধরে নিচ্ছেন, ‘‘তাহলে কি আমাকে আরো পাতলা বা রোগা হতে হবে? তাহলেই কি আমি নতুন একজন হয়ে উঠবো? আমাকে কি এখন স্লিমিং ক্লাব বা ফিটনেস ডিভিডি কিনতে হবে? এখনই কী তা শুরু করা সম্ভব?''

অনেকে আবার চিন্তা ভাবনায় এগিয়ে যান আরো কয়েক ধাপ৷ অপারেশন করতে হবে – বাড়তি মেদ এভাবেই ঝরিয়ে ফেলতে হবে৷

তবে এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি গ্যাস্ট্রিক ব্যান্ড পাকস্থলীর ওপরের অংশে বেঁধে দেওয়া হয়৷ এর ফলে খুব বেশি খাওয়া সম্ভব হয় না৷ প্রয়োজনে ব্যান্ডটি আরো টাইট বা ঢিলে করে নেওয়া সম্ভব৷ তবে তা করবেন চিকিৎসক৷ তিনি বলবেন, ওজন কমানোর জন্য ব্যান্ডটি কত টাইট করে আটকে দেওয়া প্রয়োজন৷ তবে হালকা-পাতলা হওয়ার জন্য সবাই ভিড় করছেন ক্লিনিকে৷ ‘বডি মাস ইনডেক্স' ৪০-এর নিচে এরকম অনেকেও রয়েছেন৷ এন্ড্রু কেম্পের সতর্ক করে দিয়ে বললেন,‘‘সবাই যেভাবে প্রতিদিন ভীড় করছে অপারেশনের জন্য, তা ঘাবড়ে যাওয়ার মত৷ কারণ এসব অস্ত্রোপচারের অনেক খরচ, প্রয়োজন অনেক সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতির, অনেক সময়ের৷ সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই অপারেশনগুলো অনেক কম খরচে করানো সম্ভব৷ তবে এ ধরণের অপারেশনের জন্য আপনাকে হতে হবে বিশালদেহী এবং মেদে ভরপুর৷''

অর্থাৎ চাইলেই যে কেউ এ ধরণের অপারেশনের জন্য আসতে পারে না৷ নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে৷ সেগুলো পূরণ করতে হবে৷ এই অপারেশনে খরচ পড়ে প্রায় ৫ থেকে ৮ হাজার ইউরো৷ এর জন্য প্রাইভেট ক্লিনিক ‘গেটওয়ে হেল্থ' সুনাম কুড়িয়েছে৷ এই ক্লিনিক ইতিমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি অপারেশন করেছে৷

যে গ্যাস্ট্রিক ব্যান্ড বেঁধে দেওয়া হয়, তা সারা জীবনের জন্য শরীরে থাকবে৷ যদিও অপারেশনের কয়েকদিন পরেই রোগী ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান, কিন্তু তারপরেও ব্যান্ডটি ঠিকঠাক আছে কিনা তার জন্য নিয়মিত রোগীকে ক্লিনিকে আসতে হয়৷ ব্যান্ডটির পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার দিকেও তীব্র নজর রাখতে হবে৷ কারণ চাইলেই রোগী বেশি খাবার খেতে পারবে না৷ বাধা দেবে ব্যান্ডটি৷ এরফলে ওজন বাড়ার আর কোন ভয় থাকবে না৷

ওজন কামানের জন্য প্রতি বছর ব্রিটেনে প্রায় কুড়ি হাজার অপারেশন হয়৷ ওবেসিটি বিষয় নিয়ে কাজ করছেন এমন একজন বিশেষজ্ঞ জানান, গোটা ব্রিটেনে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ রয়েছে যাদের ওপর এ ধরণের অস্ত্রোপচার করা যায়৷ কিন্তু তাতে খরচ পড়বে প্রায় ৯ বিলিয়ন ইউরো৷ এবং এত বিশাল অঙ্ক খরচ করতে ব্রিটিশ সরকার কখনোই রাজি হবে না৷

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: সঞ্জীব বর্মন

নির্বাচিত প্রতিবেদন