1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘অস্ত্রধারীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে৷ অন্তত ৫ জন নেতার অস্ত্র হাতে ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরও তাদের কোনো খোঁজে নেই৷ ব়্যাবের কথা, ‘অস্ত্রধারী যেই হোক, সে আমাদের কাছে সন্ত্রাসী৷’

default

প্রতীকী ছবি

পাঁচ জন অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতার মধ্যে দুজনকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বহিষ্কার করা ছাড়া আর কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷ এই দুই ছাত্রলীগ নেতা হলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহাম্মেদ সেতু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান ইমন৷

মঙ্গলবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিজান উদ্দিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান উপাচার্য৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত রবিবারের হামলার সময় যে ছয়জনকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে, তাঁদের পাঁচজনই ছাত্রলীগের নেতা৷ বাকি একজনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি৷ যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে তাঁরা হলেন, ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নাসিম আহাম্মেদ সেতু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান ইমন ও ফয়সাল আহাম্মেদ, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মুস্তাকিম বিল্লাহ এবং বিগত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুদীপ্ত সালাম৷ নাসিম আহাম্মেদ সেতু ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল-হাসান হত্যা মামলার আসামি৷ তাঁকে ২০১২ সালের ২রা অক্টোবরও ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে৷ পরদিন পত্রিকায় সে ছবি ছাপা হয়েছে৷ তখনও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷ এ কারণে সেতু আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ৷ এবারও যদি ব্যবস্থা নেয়া না হয়, ভবিষ্যতেও একই ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে৷

রবিবার অস্ত্রহাতে মহড়া দেয়া সুদীপ্ত সালামও এর আগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন৷ তবে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা না করে পুলিশ অসামাজিক কাজের অভিযোগে মামলা করে৷ ওই মামলায় সুদীপ্ত এখনও জামিনে আছেন এবং এমবিএ করছেন বলে জানা গেছে৷ অস্ত্রধারী সেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র৷ ছাত্রলীগের আগের কমিটিতে তিনি উপ-পাঠাগার সম্পাদকও ছিল৷ সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান ইমন ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র৷ এর আগে ইমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল শাখার সভাপতি ছিলেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে আবাসিক হলে ছাত্র হয়রানির অভিযোগ রয়েছে৷ ফয়সাল আহাম্মেদ কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র৷ মুস্তাকিম বিল্লাহ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক৷ তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ছাত্রলীগের মধ্যে যদি কেউ অস্ত্রবাজি করে থাকে, তাদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে৷ তবে তাঁর দাবি, বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের খবর পেয়ে ছাত্রলীগ আনন্দ মিছিল নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন পর্যন্ত চলে গিয়েছিল৷ কিন্তু শিবিরের হামলার কারণে তারা ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে৷ মিজানুর রহমান জানান, শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুর করেছে৷ ছাত্রলীগের ওপর ককটেল হামলা চালিয়েছে শিবির ক্যাডাররা৷ ছাত্রলীগ ঘটনার প্রতিরোধ করেছে মাত্র৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক শামসুল আলম সরকার ডয়চে ভেলেকে বলেন, এবারও যদি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করা হয়, তাহলে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে৷ অস্ত্রধারী যেই হোক না কেন, তাদের গ্রেপ্তারের দাবি করে এই শিক্ষক নেতা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়, একমাত্র তাহলেই ক্যাম্পানে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব৷ তা না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন