1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

অস্ট্রেলিয়ায় আক্তারকে খুঁজে দিল ইন্টারনেট

আক্তার হোসেন নামক এক তরুণের অপারেশন হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার একটি হাসপাতালে৷ গত বছর বিডিআর বিদ্রোহের সময় তার ডান হাতে আর বুকে গুলি লাগে৷ এরপর তার প্রায় অচল হাতটাকে পুরো সচল করেছেন অস্ট্রেলীয় ডাক্তাররা৷

default

অস্ট্রেলিয়ায় অপারেশনের পর আক্তার৷ ছবিটি পাঠিয়েছেন জুলিয়া

আক্তারের খোঁজে নামার আগে এটুকুই ছিল প্রাপ্ত তথ্য৷ ইন্টারনেট ঘেঁটে অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যম থেকে আরো কিছু তথ্য পাওয়া গেলে৷ কিন্তু এই দিয়েইতো রেডিও রিপোর্ট তৈরি সম্ভব নয়, বরং প্রয়োজন আক্তারের মন্তব্য, ডাক্তারের মন্তব্য সঙ্গে সম্ভব হলে তার সহযোগিদের কথাবার্তা৷

টেলিফোন, ই-মেল

শুরু হলো আক্তারের খোঁজ৷ জার্মানির বনে ডয়চে ভেলে কার্যালয়ে বসে অস্ট্রেলিয়ায় খোঁজাখুজি৷ প্রথমে ফেসবুকে খোঁজ, পাওয়া গেল অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক সাংবাদিককে৷ নাম ফজলুল বারী, তিনি আছেন সিডনিতে৷ ফোনে বারী ভাইকে পুরোটা বলার পরে বুঝলাম, তিনিও বিষয়টি সম্পর্কে তেমন অবগত নন৷ তাই বললেন, একটু খোঁজ নিয়ে তোমাকে জানাবো৷

যাই হোক, খোঁজের জন্য সময় দিলাম বারী ভাইকে৷ এদিকে, আমার হাতে সময় কম৷ এরই মাঝে জানলাম ছেলেটা অস্ট্রেলিয়ায় আছে আর দুই-তিন দিন৷ তাই যা করার এখনই করতে হবে৷ অবস্থা বেগতিক, পরদিন আবারো ফোন বারী ভাইকে৷ তিনি জানালেন, এটম রহমান নামক একজনকে ই-মেল করা হয়েছে৷ এখনো উত্তর আসেনি৷ কিন্তু আমার যে অপেক্ষার তর সইছিল না৷

ডাক্তারের খোঁজ দিল গুগল

এখন উপায়! দ্বারস্থ হলাম গুগল-এর৷ দিন কয়েক আগেই গুগল প্রধান জানিয়েছিলেন, সবই নাকি আছে তাঁর ভাণ্ডারে৷ কথা মিথ্যা নয়৷ আগস্টে আক্তারের অপারেশন হয় ক্যাবরিনি হাসপাতালে৷ সেখানে ফোন করে পাওয়া গেল, ডাক্তার জন গ্রিফিৎসকে৷ আক্তারের অপারশন করেছেন তিনি৷ কিন্তু ডাক্তার নিজে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি, তবে আক্তারের কোন খোঁজ দেবেন না৷

One year after BDR mutiny

বিডিআর বিদ্রোহের দিন গুলিবিদ্ধ হন আক্তার

কি মুশকিল! ডাক্তারের সাক্ষাৎকার পেলাম কিন্তু রোগীরই খবর নেই৷ এমন অনুষ্ঠান প্রচার করলে নির্ঘাত লোকে হেসে খুন হবে৷ আবার গুগল৷ কিন্তু গুগলও এখনো আক্তারের খোঁজ পায়নি৷ তবে পেলাম জুলিয়া'র খোঁজ৷

জুলিয়া পর্ব

চিলড্রেন ফার্স্ট নামক এক সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা জুলিয়া৷ তাকে পুরো বিস্তর বলতেই জানালেন, হ্যাঁ, আক্তারকে আমরাই চিকিৎসা করিয়েছি৷ তবে, তার সঙ্গে কথা বলতে হলে এটম রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করো৷ কেননা, এটমই আক্তারের স্থানীয় অভিভাবক৷

আশেপাশে আক্তার

আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আক্তার জুলিয়ার আশেপাশেই আছে৷ তবুও নিয়ম মেনে, এটমকে ফোন৷ কিন্তু তাকে পাওয়া গেলোনা৷ জার্মানিতে সেদিন বুধবার, সকাল আটটা৷ জুলিয়াকে আবারো ফোন দিলাম, এবার খানিকটা মন গলল তাঁর৷ বললো, এই ন্যাও, আক্তারের সঙ্গে কথা বলো৷

অসহায় আক্তার

আক্তার ফোন ধরেই শোনালো তাঁর গল্প৷ খানিকটা অশ্রুসিক্ত আমি৷ কতটা অসহায় মানুষের জীবন৷ দু'দুটো গুলি বিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে ছিল আক্তার৷ মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর সে৷ অথচ কেউ তাকে সাহায্যে এগিয়ে আসেনি৷ শেষমেষ এক রিকশাওয়ালা আক্তারকে নিয়ে হাসপাতালের পথ ধরলো৷

মজার বিষয় হচ্ছে, চা ফেরি করা আক্তারকে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে চিকিৎসা করাতে সহায়তা করেছে এক হকার৷ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা এভাবেই বুঝি এগিয়ে আসে একে অন্যের সহায়তায়৷ এখন প্রায় পুরোটাই সুস্থ সে৷ এই তরুণের বেঁচে ওঠার গল্প শুনতে কান পাতুন ডয়চে ভেলেতে, আগামী বুধবার সকালে...

লেখক: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: সাগর সরওয়ার