1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

অসুস্থ বাচ্চাদের জন্য সাহায্য প্রকল্প

স্বদেশে যাদের চিকিৎসা সম্ভব নয়, সেই রকম কিছু আহত ও অসুস্থ বাচ্চাকে সংকটপূর্ণ নানা দেশ থেকে চিকিত্সার জন্য জার্মানিতে নিয়ে আসে ফ্রিডেন্সডর্ফ ইন্টারন্যশনাল৷ সুস্থ হলে আবার যার যার দেশে ফেরত পাঠানো হয় তাদের৷

default

এক অসুস্থ বাচ্চাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাচ্ছেন ফ্রিডেন্সডর্ফ ইন্টারন্যশনালের কর্মীরা

২০১৩ সালের গ্রীষ্মে ড্যুসেলডর্ফ পৌঁছায় হুসেইন৷ অসুস্থ শিশুদের নিয়ে বিশেষ বিমানটি তাজিকিস্তান থেকে যাত্রা শুরু করে৷ মাঝখানে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, জর্জিয়ায় থেমে সেখান থেকে আরো কয়েকজন অসুস্থ বাচ্চাকে ওঠায়৷

হুসেইন কাবুল থেকে উঠেছে প্লেনে৷ অনেক বাচ্চা কাঁদতে থাকে৷ কারো কারো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাটা কিংবা ভয়ানকভাবে শরীর পুড়ে গিয়েছে৷ অনেককে কোলে করে নামাতে হয়৷ বেশ কিছু অ্যাম্বুলেন্স অপেক্ষা করে এই সব বাচ্চার জন্য৷ ওবারহাউসেনের ফ্রিডেন্সডর্ফ বা ‘শান্তিপল্লী' কিংবা সরসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের৷

সাথে কোনো কিছু নেই

১০ বছর বয়সি হুসেইন ও ১৩ বছরের মোহাম্মদ রেজাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে৷ সাথে কোনো মালপত্র নেই তাদের৷ মা-বাবার সঙ্গে কবে দেখা হবে জানেনা তারা৷ এটা নির্ভর করে তাদের সেরে ওঠার ওপর৷

এই দুইজনের অপারেশনটা জরুরি ছিল৷ তারা অস্থিমজ্জার সংক্রমণে ভুগছে৷ হুসেইন খেলাধুলা করার সময় গাছ থেকে পড়ে যায়৷ দেশে অপারেশন করার পর সংক্রমিত হয় ক্ষতটি৷ ‘‘এই অবস্থায় খুব খারাপ হলে হাঁটুর নীচের অংশ কেটে বাদ দিতে হয়৷ সংক্রমণ বেড়ে গেলে মৃত্যুও হতে পারে৷'' বলেন এই প্রকল্পে সম্পৃক্ত ড. ব্যার্নহার্ড পাট৷

মানসিক যন্ত্রণাও কম নয়

শারীরিক সমস্যার সাথে মানসিক যন্ত্রণাতেও ভোগে বাচ্চারা৷ অনেক শুধু মাইনের আঘাতে পা-টিই হারায়নি৷ বাবাকেও হারিয়েছে৷

‘‘অবশ্য খেলাধুলার সময় এসব ভুলেও যায়৷ তারা তো শিশু৷'' বলেন ভারপ্রাপ্ত কর্মী ইয়াই গিসেন৷

‘শান্তিপল্লী' প্রকল্পটি শুরু হয় ১৯৬৭ সালে অসুস্থ ও আহত বাচ্চাদের ভিয়েতনাম থেকে আনার মধ্য দিয়ে৷ কিন্তু সংকট, যুদ্ধ বিগ্রহ তো থেমে নেই৷ তাই আজও চলছে প্রকল্পটি৷

আজ এই সমিতি বছরে চারটি মিশনে ৫০০ পর্যন্ত বাচ্চাকে সাহায্য করে থাকে৷ হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়৷ প্রতিদিন স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের দেখতে আসেন৷ ভাষার বাধা সত্ত্বেও সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান৷

প্রথম দিকে হুসেইন ও রেজা চুপচাপ থাকতো৷ হুসেইন কম্বলের নীচে কয়েকবার কান্নাকাটি করেছে৷ লক্ষ্য করেছেন হাসপাতালের কর্মীরা৷ কিন্তু ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকলে এই দুই কিশোর হাসপাতালকে মাতিয়ে রাখে৷

বছরব্যাপী বেশ কিছু বাচ্চা থাকে

ওবারহাউসেনের শান্তিপল্লীতে বছরজুড়ে ১৫০ জনের মতো বাচ্চা বসবাস করে৷ হুসেইন ও রেজাকেও সেখানে আনা হবে৷ স্বদেশ থেকে আসা ছেলেমেয়েদের সঙ্গে মিলিত হতে পারবে তারা৷ নিজেদের ভাষায় কথা বলতে পারবে৷ শান্তিপল্লীর কর্মী ইয়াসমিন পেটার্স বলেন, ‘‘আমরা এখানে যার যার দেশীয় খাবার রান্না করি৷ তাদের দেশ, পরিবার পরিজন নিয়ে কথাবার্তা বলি৷ দেশের জন্য একটু মন কেমন করা ক্ষতিকর নয়৷ কেননা তাদের তো একদিন ফিরে যেতে হবে৷'' বাবা-মার কাছ থেকে আলাদা হওয়াটা একেক একেক বাচ্চা একেক রকমভাবে নেয়৷ বিশেষ করে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অনেকের চোখ ভিজে যায়৷ জানান পেটার্স৷ তবে সমবয়সিদের সঙ্গে একত্রে থাকায় দুঃখটা ভাগাভাগি করে নিতে পারে তারা৷

শান্তিপল্লীর একটি কক্ষে বিশ্বের একটি ম্যাপ ঝুলছে৷ অ্যাঙ্গোলা থেকে আসা রোমুলু বার বার ম্যাপে আঙুল দিয়ে জার্মানির সঙ্গে তার দেশের দূরত্বটা দেখানোর চেষ্টা করে৷ সে কি দেশকে মিস করে? এই প্রশ্নের উত্তরে রোমুলু বলে ‘‘হ্যাঁ অনেক বেশি'', কিছুদিন আগে ১০ বছরের জন্মদিন পালন করে সে৷ তারপর তার বন্ধু অ্যারমেনগিল্ডো-কে ডাক দিয়ে বলে আমি এখানে নতুন ভাই খুঁজে পেয়েছি৷ এই দুই বালকের পরস্পরের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে প্লেনে৷ অপারেশনের আগে তারা প্রায় হাঁটতেই পারতো না৷ কিন্তু এখন তারা হুটোপুটি করে৷

জটিল সমস্যা থাকলে বেশিদিন রাখা হয়

বেশিরভাগ বাচ্চাই মাস ছয়েক জার্মানিতে থাকে৷ অবশ্য এর ব্যতিক্রমও রয়েছে৷ জটিল সমস্যা থাকলে বেশিদিনও রাখা হয় সেই সব বাচ্চাকে৷ বর্তমানে এখানে বসবাসরত ৮০টি বাচ্চার মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন বেশ কিছুদিন ধরে রয়েছে৷ ‘‘আমাদের এখানে একটি ছেলে তো তার মাতৃভাষাই ভুলে গিয়েছে, কেননা এখানে আসার সময় সে খুব ছোট ছিল৷'' বলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ইয়াই গিসেন৷

দীর্ঘদিন জার্মানিতে থাকলে স্বদেশের স্মৃতি বিলীন হতে থাকে৷ যেমনটি হয়েছে ১২ বছর বয়সি গুলরাহমানের ক্ষেত্রে৷ তিন বছরের বেশিদিন ধরে সে জার্মানিতে আছে৷

বাবা গ্রাম থেকে কাবুলে নিয়ে এসেছিল তাকে চিকিৎসার জন্য৷ পাঁয়ে জটিল এক ক্ষত ছিল তার৷ অনেকবার অপারেশন করা হয়েছে৷ প্রায়ই হুইল চেয়ারে বসতে হয়েছে৷ এখন সে স্বাভাবিকবভাবেই হাঁটতে পারে৷ অনর্গল জার্মান ভাষায় কথা বলতে পারে৷ মা-বাবাকে ৩০ মাসেরও বেশিদিন ধরে চিঠি লিখছে সে৷ ‘‘আমার শুধু বাবার কথাই মনে আছে৷ ভাইবোনদের কথা খুব একটা মনে নেই৷'' বলে এই আফগান বালক৷ তবুও সে তাড়াতাড়ি দেশে ফিরতে চায়৷ তার আলমারিতে একটি পারিবারিক ছবি রয়েছে৷ যেটি সে মাঝে মাঝে দেখে৷

কেউ কেউ দেশে ফিরতে চায় না

তবে সবাই যে দেশে ফিরতে চায় তা নয়৷ ১৩ বছরের রেজা যখন দেশের কথা বলে, তখন বিষণ্ণ এক ছবিই ফুটে ওঠে তার বর্ণনায়৷ মা ও ছোট বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে সেখানে৷ বাবা অতি বৃদ্ধ৷ সবসময় ধূমপান করেন৷ না দেশে ফিরতে চায় না সে৷ রাগের সুরে জানায় রেজা৷ শান্তিপল্লীর কর্মী ইয়াসমিন পেটার্স জানান, ‘‘এই ধরনের কথা রোগীদের কাছ থেকে খুব কমই শোনা যায়৷ তবে বিমানে উঠলে অন্যদের আনন্দটা তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে যায়৷''

বড় ধরনের উত্তেজনা ও হতাশা এড়ানোর জন্য যাত্রার অল্প আগে বাচ্চাদের জানানো হয় যে তারা দেশে ফিরছে৷ এবার মোহাম্মদ রেজা ও হুসেইনও ফিরছে৷ কাবুলে রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা তাদের মা-বাবাকে বুঝিয়ে বলবেন, কীভাবে জার্মানিতে তাদের চিকিৎসা করা হয়ছে৷ থেরাপি কিংবা ওষুধপত্র তাদের আর লাগবে না৷ ইতিমধ্যে দুজনই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে৷ ছয় মাস জার্মানিতে থাকার পর আবার তারা স্বদেশে ফিরবে৷ মিলিত হবে আপন সংস্কৃতি, বাড়িঘর ও পরিবারের সাথে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন