1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

অসুখের নাম রোগ নিরাময়ে বিরাট ভূমিকা রাখে

রোগের নাম রোগীর সেরে ওঠার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে৷ কোনো রোগের খারাপ নাম হলে, তা রোগীকে সেরে ওঠার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়৷ তাই নাম রাখার ক্ষেত্রে এটা মাথায় রাখা উচিত বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞেরা৷

‘নামে কি বা এসে যায়', প্রায়ই আমরা এমন কথা বলে থাকি৷ কিন্তু রোগের নাম রাখার ক্ষেত্রে বিষয়টা একেবারেই উল্টো৷ তখন চিন্তাভাবনা করেই নাম রাখা উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷

কিছু রোগের নামই খারাপ হয়, কিছু নাম রাখা হয় দেশ বা ব্যক্তির নামে, কখনো বা সম্প্রদায়ের নামেও রাখা হয় রোগের নাম৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বিষয়গুলো রোগ নিরাময়ে বেশ বড় একটা ভূমিকা রাখে৷ শুধু তাই নয়, অনেক সময় রোগের লক্ষণ বা ভাইরাসের নামও কখনও কখনও ব্যক্তি বা স্থানের নামে রাখা হয়৷

২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল, যার নাম দেয়া হয়েছিল মেক্সিকান স্নোয়াইন ফ্লু৷ আবার চার্লস ডিকেন্সের উপন্যাসের স্থূলাকার চরিত্রের নামে ওবিসিটি হাইপোভেন্টিলেশন সিনড্রোমের নাম দেয়া হয়েছিল পিকউইকিয়ান সিনড্রোম৷

সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত যে রোগটি তা হলো মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস বা এমইআরএস-সিওভি৷ ২০১২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে ১৩০ জন সংক্রমিত হয়েছে, মারা গেছে ৫৮ জন৷ সৌদি আরব, টিউনিশিয়া, জর্ডান, কাতার আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই রোগ দেখা দিয়েছে৷ একজন সৌদি রোগীর দেহে মিশরের এক চিকিৎসক সর্বপ্রথম এই ভাইরাসের সন্ধান পান, তাই এর নাম দেয়া হয় মধ্যপ্রাচ্যের নামে৷

নেদারল্যান্ডসের ইরাসমাস মেডিকেল সেন্টারের শীর্ষ বিজ্ঞানী রন ফুশার জানালেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ এই নামে খুশি হননি৷ তাই কোনো ধরনের স্পর্শকাতরতা এড়াতে এর নাম পরিবর্তন করে এইচসিওসি-ইএমসি রাখা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছেন তিনি৷ এরপরও কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট না হওয়ায়, নাম রাখা হয়েছে এমইআরএস-সিওভি৷ এ বছরের মে মাসে এই নাম অনুমোদন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং হুঁশিয়ার করে দিয়েছে কোনো এলাকা বা অঞ্চলের নামে যেন কোনো ভাইরাসের নাম রাখা না হয়৷

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ স্টিফেনি মরিসন এএফপি-কে জানিয়েছেন, নাম রাখার বিষয়ে মতানৈক্য হলে ঝামেলা হয়৷ এ কারণে বেশ কিছু রোগের খারাপ নাম আজ হারিয়ে গেছে৷ যেমন হাইতি, হোমোসেক্সুয়াল, হেমোফিলিয়াক্স এবং হেরোইন-এই চারটির কথা মাথায় রেখে এইচআইভি এইডস-এর আগের নাম ছিল ফোর এইচ৷ এরপর ১৯৮২ সালে গে-রিলেটেড ইমিউনো ডেফিশিয়েন্সির নামে জিআরআইডি রাখা হলেও খুব শিগগিরই তাও বাতিল হয়৷

এমনকি আবিষ্কারকদের নামেও সবসময় রোগের নাম রাখা হয় না, যেমন জার্মান সায়কিয়াট্রিস্টের নামে আলজাইমারের নাম রাখা হয়েছে৷

২০০৯ সালে ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে সুপারবাগ৷ এর এনজাইমের নাম রাখা হয়েছিল নিউ দিল্লি মেটালো-ল্যাকটামেস-ওয়ান বা এনডিএম ওয়ান৷ ২০০৭ সালে ভারত সফরের সময় সুইডেনের এক নাগরিক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এই নাম রাখা হয়েছিল৷ এরপর পুরো বিশ্বে সুপারবাগ ছড়িয়ে পড়লে ভারতের বিশেষজ্ঞ এবং পার্লামেন্ট সদস্যরা এই নাম পরিবর্তনের দাবি জানান৷ তবে এখনও পর্যন্ত এই নামেই বহাল আছে ভাইরাসটি৷

রোগের নাম খারাপ হলে তা নিরাময়ে যে বড় ভূমিকা রাখে তার উদাহরণ হলো কিমবি নামে ২৭ বছরের এক তরুণী, যিনি হালেরফোরডেন-স্পাৎস নামে এক রোগে আক্রান্ত৷ এই রোগটির নাম রাখা হয়েছে একজন নাৎসি চিকিৎসকের নামে৷ ১০ বছর আগে কিমবির মা এই নাম পরিবর্তনের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হন৷ তাঁর ধারণা, নামের কারণেই তাঁর মেয়ে এই রোগ থেকে সেরে ওঠার কোনো চেষ্টা করছে না৷ গবেষণায় দেখা গেছে ৯০ এর দশকের পর হালেরফোরডেন-স্পাৎস নামটি আর ব্যবহার করা হচ্ছে না৷

আর নামটা যদি ভালো হয়, তবে রোগ নিরাময় হয় তাড়াতাড়ি৷ যেমন হেনরি ভি সাইন৷ সেক্সপিয়ারের হেনরি ভি-এর নামে রোগের লক্ষণের নাম রাখা হয়েছে৷ ইউনিভার্সিটি কলেজ ক্রকের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ফার্গুস শানাহান জানিয়েছেন, এই নামটা রোগ থেকে সেরে উঠার ব্যাপারে কাজ করে, কারণ বেশিরভাগ রোগী শেক্সপিয়ার নামটির সাথে পরিচিত৷

এপিবি/ডিজি(এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন