1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অষ্টম দফায় ভোট ৭টি রাজ্যের ৬৪টি সংসদীয় আসনে

ভারতে বুধবার অষ্টম দফায় ভোট হয়ে গেল সাতটি রাজ্যের মোট ৬৪টি আসনে৷ একই সঙ্গে নব গঠিত সীমান্ধ্র রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন পর্ব শেষ হলো৷ স্থির হয়ে গেল বিভাজিত অন্ধ্রপ্রদেশের ঐ রাজ্যে কোন দল সরকার চালাবে৷

ষোড়শ সংসদীয় নির্বাচনের নয় দফা ভোটগ্রহণের মধ্যে বুধবার অষ্টম দফায় ভোট পর্ব শেষ হলো সাতটি রাজ্যের ৬৪টি আসনে৷ এর ফলে সংসদের নিম্নসভার মোট ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৫০২টি আসনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়৷ অন্তিম দফায় ভোট হবে বাকি ৪১টি আসনে আগামী ১২ই মে৷ বুধবার যে সাতটি রাজ্যে ভোট হয়, তার মধ্যে ছিল নবগঠিত সীমান্ধ্র রাজ্যের ২৫টি আসন, বিহারে ৭টি আসন, উত্তর প্রদেশে ১৫টি আসন, হিমাচল প্রদেশে ৪টি, উত্তরাখণ্ডে ৫টি, কাশ্মীরে ২টি এবং পশ্চিমবঙ্গে ৬টি আসনে৷ এই ছয়টি আসনই ছিল বামেদের দখলে৷ তাই আসল লড়াইটা এবার বামদল বনাম শাসক দল তৃণমূলের মধ্যে৷ ২০০৯ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের জোটসঙ্গি ছিল কংগ্রেস৷ পশ্চিমবঙ্গে এটি ছিল চতুর্থ দফার ভোট৷ এবারেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলগুলির মধ্যে ছিল অসন্তোষ৷

৮ম দফায় গোটা দেশে ১,৭৩৭ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাগ্য স্থির হয়ে গেল৷ ওজনদার প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি সোনিয়া পুত্র রাহুল গান্ধী, তাঁরই খুড়তুতো ভাই বিজেপির বরুণ গান্ধি, লোক জনশক্তি পার্টির প্রধান রাম বিলাস পাসোয়ান, আরজেডি প্রধান লালু প্রসাদ যাদবের পত্নী রাবড়ি দেবী প্রমুখ৷ তবে সবার নজর এবার উত্তর প্রদেশের গান্ধী-পরিবারের দুর্গ আমেথি কেন্দ্রের দিকে৷ ওখানে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা৷ রাহুলের প্রতিপক্ষ হলেন বিজেপির স্মৃতি ইরাণি এবং আম আদমি পার্টির কুমার বিশ্বাস৷ আম আদমি পার্টির ঘোষণা, ‘‘রাজনীতি করতে ভোটে নামিনি, রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে এসেছি৷'' পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন আমেথি এবার রাহুলকে বেগ দিতে পারে, যার জন্য বিজেপি জানপ্রাণ লড়িয়ে দিয়েছে৷

বিভাজিত অন্ধ্রপ্রদেশের সীমান্ধ্র রাজ্য পুনর্গঠনে মনমোহন সিং সরকারকে তীব্র প্রতিবাদ বিক্ষোভের সম্মুখীন হতে হয়৷ রাজ্যে অনেক কংগ্রেস নেতা-কর্মী কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যায় বিভাজনের প্রতিবাদে৷ তবু রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে পিছপা হয়নি সরকার৷ অন্ধ্রপ্রদেশ বিভাজনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কিনা, তা বোঝা যাবে নির্বাচনি ফলাফলে৷ সীমান্ধ্রে ২৫টি সংসদীয় আসনের সঙ্গে ভোট হয় ১৭৫টি বিধানসভা আসনে৷ সীমান্ধ্রে যুযুধান পক্ষগুলি হলো বিজেপি শরিক চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি এবং জগমোহন রেড্ডির ওয়াই এস আর-কংগ্রেস৷ জগমোহন এই প্রথমবার নির্বাচনে লড়ছেন৷ দুই প্রতিপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর আছে৷ এক জায়গায় পুলিশকে গুলিও ছুড়তে হয়৷ কাশ্মীরের বারমূলায় নির্বাচন-বিরোধীদের ডাকা ধর্মঘটে জনজীবন ব্যাহত হয়৷ ভোটেও তার প্রতিফলন দেখা যায়৷

নবম ও শেষ দফার ভোটে গোটা দেশের চোখ নিবদ্ধ থাকবে বারাণসী কেন্দ্রের দিকে৷ বারাণসীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ত্রিমুখী হলেও আসল লড়াইটা হবে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী মোদী বনাম আম আদমি পার্টির প্রধান দিল্লির সাবের মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের৷ ময়দানে কংগ্রেস প্রার্থী অজয় রাই থাকলেও মোটেই ওজনদার নন তিনি৷ বারাণসীতে মোদীর দুটি জনসভা করার কথা৷ কিন্তু জেলা প্রশাসন মুসলিম প্রধান একটি এলাকায় জনসভা করার অনুমতি দিতে টালবাহানা করছে দেখে বিজেপি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে৷ বলেছে, এটা শাসক দলের ইশারাতেই করা হচ্ছে৷ এটা অভূতপূর্ব এবং অশ্রুতপূর্ব৷ অন্যদিকে বারাণসী তীর্থ শহরকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে৷ অনেকের ধারণা, কেজরিওয়াল যেভাবে পথসভা করেছেন, বারাণসীর অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে জনাদেশ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, তাতে যদি মোদীর হিসাবের পাশা উলটে যায়, অবাক হবার কিছু নেই৷ জামাত-ই-ইসলামি দল কেজরিওয়ালকে সমর্থনের কথা বলেছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়