1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

অল্প টাকায় আপনিও দরিদ্র শিশুদের খাবার দিতে পারেন

সবার জন্য শিক্ষার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে স্বেচ্ছ্বাসেবীদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন৷ চলতি বছর তারা শুরু করেছে ‘এক টাকার আহার' প্রকল্প৷ প্রকল্পটির আওতায় দরিদ্র শিশু ও বৃদ্ধরা এক টাকায় পেট ভরে খেতে পারছে৷ 

‘এক টাকার আহার' এর ফেসবুক পাতায় লেখা হয়েছে, ‘‘ক্ষুধার মাঝে বেড়ে উঠা এক মানুষের হাত ধরে বিদ্যানন্দের এই প্রকল্পটি শুরু৷ প্রতিদিন ৫০০ জনের রান্না হয়৷ এরপর ভ্যানে কিংবা রিক্সায় চলে যায় নির্দিষ্ট জায়গায়৷ এক টাকার বিনিময়ে যে কোনো পথশিশু কিংবা বৃদ্ধ কিনে নিতে পারে এই খাবার৷'' বিদ্যানন্দ তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানাচ্ছে যে প্রকল্পটি কয়েকজন প্রবাসী ও দেশের প্রতিষ্ঠিত চাকরিজীবী পরিচালনা করছেন৷

তারা জানাচ্ছে, মাসে ৫০০ টাকা দিয়ে যে কেউ একজন দরিদ্রের খাবারের দায়িত্ব নিতে পারেন, অথবা নগদ টাকা না দিয়ে নিজেই কিনে দিতে পারেন চাল-ডাল-আলু-তেল৷ খাবার বিতরণের কাজে ও দিতে পারেন৷ প্রকল্পটি পুরো দেশে বেশ সাড়া জাগিয়েছে৷ কেবল ঢাকা নয়,আরও ছয়টি জেলায় প্রকল্পটি চালু রয়েছে৷ এছাড়া বন্যার সময় বন্যার্তদের মাঝেও খাবার বিতরণ করেছে বিদ্যানন্দ৷ এর বাইরেও বিদ্যানন্দের আরো অনেক প্রকল্প আছে, যেগুলো সত্যিই প্রশংসার দাবিদার৷

আহমেদ রিদু তার ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘আমি বিদ্যানন্দকে বরাবরই ভালোবাসি৷ তাদের এক টাকার আহার প্রকল্পটি অসাধারণ৷ যখনই পথশিশুরা শোনে খাবার এসেছে তখন ‘এক টাকার খাবার আইছে‘ বলেই লাইন ধরে বসে পড়৷''

কামরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘‘ঈশাখাঁর আমলে টাকায় আট মন চাল পাওয়া গেলেও এই সময়ে এক টাকায় একটি চকলেট ছাড়া তেমন কিছুই পাওয়া যায় না৷ সেখানে এক টাকায় দুপুরের খাবার পাওয়া যাচ্ছে৷''

মো. মেহেদী হাসান ফেসবুক পাতায় বিদ্যানন্দ'র প্রতিষ্ঠাতার কথা তুলে ধরেছেন৷ লিখেছেন, ‘‘সমাজের অবহেলিত ছাত্রছাত্রীদের আশার আলো দেখাতে ‘বিদ্যানন্দ' নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন প্রবাসী বাঙালি কিশোর কুমার দাশ৷ নিজে সুবিধাবঞ্চিত ছিলেন বলেই হয়তো জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে শুরু করেছিলেন এই প্রতিষ্ঠানটি৷ তবে এখন সমাজের সব স্তরের মানুষ অংশ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নিতে৷

বর্তমানে সাত শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে প্রতিদিন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি শুকনো খাবার দেয় এই প্রতিষ্ঠানটি৷ একই সঙ্গে শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণও দিয়ে থাকে বিদ্যানন্দ৷ তাদের তত্ত্বাবধানে গত বছর ৮৫ জন গরীব শিক্ষার্থীর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ পেয়েছেন ১০ শিক্ষার্থী৷ অনেক শুভ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে চমকপ্রদ কার্যক্রম মূলত ‘এক টাকায় আহার'৷ আমাদের দেশে প্রায় বিলুপ্তির পথে এক টাকার নোট৷ এই দুর্মূল্যের বাজারে সেই এক টাকায় সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে দুপুরের খাবার বিক্রি করছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন৷ যাতে কেউ এ কার্যক্রমকে ভিক্ষার সঙ্গে তুলনা করতে না পারেন, তাই অর্থের বিনিময়ে খাবার প্রকল্প৷''

বিভিন্ন চ্যানেলে এ নিয়ে প্রতিবেদনও প্রচার হয়েছে৷

শীলা মনি ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘‘বিদ্যানন্দের ‘এক টাকার আহার' প্রজেক্টে প্রতিদিন শতাধিক শিশুর হাতে এক টাকার স্বাস্থ্যকর আহার তুলে দিচ্ছে নিবেদিত প্রাণ স্বেচ্ছাসেবকরা৷ আপনি ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হতে পারেন এই মহতী কর্মকাণ্ডে৷''

মোস্তফা মোর্শেদ শুভ আশা প্রকাশ করেছেন একটা সময় আসবে যখন ‘এক টাকার আহার'-এর স্বেচ্ছাসেবীরা হাতে খাবারের বাক্স নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে হয়রান হয়ে যাবে কিন্তু দেবার মতো একটাও পথশিশু পাওয়া যাবে না সারাদেশে৷ লিখেছেন, ‘‘এই দিনের অপেক্ষায় আছি৷ সেদিন আসবে নিশ্চই! জয় হোক মানবতার৷''

সংকলন: অমৃতা পারভেজ

সম্পাদনা: আশীষ চক্রবর্ত্তী 

নির্বাচিত প্রতিবেদন