1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

খেলাধুলা

অলিম্পিকে চাকচিক্যের আড়ালে বঞ্চনার গল্প

সোচির শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনে কার্পণ্য নেই এতটুকু৷ যেদিকেই তাকান চোখে পড়বে চাকচিক্যের বাহুল্য৷ আর এতে ব্যয়ও হওয়ার কথা অনেক৷ কিন্তু শ্রমিকদের বেতন না দেয়ায় আয়োজকদের লাভের অঙ্কটা বিশাল৷

সোচিতে শীতকালীন অলিম্পিক শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি, যা শেষ হবে এ মাসের ২৩ তারিখে৷ এ উপলক্ষ্যে নির্মাণ করা হয়েছে চকচকে কাঁচ আর ইস্পাতের অনেক ভবন৷ এই ভবনগুলো যাঁদের বদৌলতে দাঁড়িয়ে, সেই শ্রমিকদের কিন্তু আশেপাশে খুঁজে পাবেন না আপনি৷ কেননা মধ্য এশিয়া থেকে আসা এসব শ্রমিক ফিরে গেছেন নিজ দেশে, কিন্তু পারিশ্রমিক নিয়ে নয়, তাঁদের ফিরতে হয়েছে খালি হাতে৷

এই শ্রমিকদের কয়েকজনকে সাহায্য সহযোগিতা দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থার সেমইয়োন সিমোনোভ৷ অন্তত দেড় হাজার শ্রমিককে সহায়তা দিয়েছেন তিনি৷ তাই শ্রমিকদের দুর্ভাগ্যের কথাটা তিনি ভালোই জানেন৷ সিমোনোভ জানালেন, যে শ্রমিকদের কারণে অলিম্পিক আয়োজন সফল হচ্ছে, তাঁদেরই পারিশ্রমিক দেয়া হয়নি৷

মধ্য এশিয়া থেকে আসা অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক সোচিতে এসে তাঁদের কাজ শেষ করে অনেক আগেই দেশে ফিরে গেছে৷ তাই এখন আর তাঁদের নিয়ে কেউ মাথা ঘামাচ্ছে না৷ এঁদের বেশিরভাগেরই বাস তাজিকিস্তানে৷

এই শ্রমিকদের একটি দলের নেতা ছিলেন ৬২ বছর বয়সি গোলিপ ইউনুসভ, যাঁর তত্ত্বাবধানে ছিল ২৩ জন শ্রমিক৷ তিনি এবং তাঁর সহকর্মীদের কাজ শেষে ১০ হাজার ইউরো দেয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁরা কেউই কোনো অর্থ পাননি৷ নিজেদের পরিস্থিতিকে সভ্য যুগের দাসত্ব উল্লেখ করে গোলিপ বলেন, তাঁদের একটানা কাজ করতে হতো, কোনো ছুটি ছিল না, এমনকি অসুস্থ হলেও কাজ থেকে ছুটি পাওয়া যেত না৷

তাজিকিস্তানে গিয়ে জার্মান সাংবাদিকরা শ্রমিকদের সাথে কথা বলেছেন, যাঁরা সোচি অলিম্পিকের স্থাপনাগুলোতে কাজ করেছিলেন৷ তাঁরা সবাই একই কথা জানিয়েছেন৷ অর্থাৎ কেউই বেতন পাননি৷ সব কাজ শেষ হওয়ার পর তাঁদের বলা হয়েছিল যে, তাঁদের নথিপত্র অবৈধ৷ এই কারণে জোর করে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷

তবে কেবল বাইরের দেশের শ্রমিক নয়, রাশিয়ার শ্রমিকদেরও একই অবস্থা৷ এ সম্পর্কে সোচি অলিম্পিক গেমস-এর আয়োজক কমিটির সাথে জার্মান সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে, তাঁরা কথা বলতে রাজি হননি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন