1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অরণ্যে হাইটেক

ফরাসি গায়ানা-র কুরু-তে রয়েছে ইএসএ অর্থাৎ ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র৷ আরিয়ান ৫ অথবা এটিভি লঞ্চ করা হয় এখান থেকে৷ এখন স্বপ্ন দেখা হচ্ছে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য মালবাহী – এমনকি মানুষবাহী রকেটের৷

গভীর জঙ্গলের মধ্যে হাইটেক: কুরু-তে ইউরোপের মহাকাশযাত্রা কেন্দ্র৷ তিন দশকের বেশি সময় ধরে এখানে থেকে রকেট পাঠানো হচ্ছে মহাকাশে৷ এলাকাটি বিষুবরেখা থেকে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার দূরে৷ যার ফলে এটি রকেট উৎক্ষেপণের পক্ষে একটি আদর্শ স্থান৷ প্রতিটি রকেট এখানে অতিরিক্ত ‘প্রোপালশন' বা প্রচালনাশক্তি পায়৷ কারণ পৃথিবীর অক্ষদণ্ড থেকে উপরিভাগের দূরত্ব বিষুবরেখাতেই সর্বোচ্চ৷ যে কারণে কুরু থেকে উড়লে রকেটগুলির অপেক্ষাকৃত কম জ্বালানি লাগে৷

‘আরিয়ান ৫' রকেটটি ভারি বস্তু বহণ করতে পারে – যেমন একসঙ্গে দু'টি কৃত্রিম উপগ্রহ কিংবা অন্যান্য ভারি সাজসরঞ্জাম৷ এ ধরনের পরিবহন রকেটকে বলে অটোমেটেড ট্রান্সফার ভেহিকেল বা এটিভি৷ এটিভি-তে কোনো মানুষ থাকে না এবং এগুলি পুনরায় ব্যবহার করারও কোনো উপায় নেই৷ এটিভি-র জন্য একটি আলাদা রকেট সৃষ্টি করা হয়েছে, যা ২১ টন মাল পৃথিবীর নিকটবর্তী কোনো কক্ষপথে পৌঁছে দিতে পারে৷

রুশ প্রোগ্রেস ক্যাপসিউল ছাড়া ইউরোপীয় এটিভি হলো ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন আইএসএস-এ মালপত্র পাঠানোর একমাত্র যান, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইএসএস-এর সঙ্গে ‘ডক' করতে পারে৷ স্পেস শাটল বা মহাকাশফেরি বন্ধ করে দেওয়ার পর আর আইএসএস থেকে কোনো ভারি মাল ভূপৃষ্ঠে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি – যদিও তার পরিকল্পনা ছিল৷ এবার স্পেস শাটল-এর অভাব পূরণ করে দিয়েছে এটিভি৷

ব্রেমেন-এ ইতিমধ্যেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে, মহাকাশযানটিকে কী ভাবে আইএসএস থেকে মালপত্র ফেরৎ আনার উপযোগী করে তোলা যায়৷

সেজন্য এটিভি মহাকাশযানের সর্বাগ্রে যে বস্তুটির প্রয়োজন পড়বে, সেটা হলো একটি উত্তাপ-প্রতিরোধী আস্তরণ, যা তাকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সময় ঘর্ষণে জ্বলে-পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে৷ আর চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই তা করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা৷ তার প্রযুক্তি এখনই হাতে এসে গেছে৷ ‘অ্যাটমস্ফেরিক রিএন্ট্রি ডেমনস্ট্রেটর' বা এআরডি নামধারী তাপ-প্রতিরোধী ক্যাপসিউলটিকে নব্বইয়ের দশকের শেষেই মহাকাশে পরীক্ষা করা হয়েছিল৷

সফলভাবে ভূপৃষ্ঠে প্রত্যাবর্তনের পরেও যে স্বপ্নটি থেকে যায়, তা হলো, চালক সহ, মানুষ সহ, যাত্রী সহ মহাকশযাত্রা৷ আরিয়ান ৫ এবং এটিভি, উভয় যানই এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, তাতে মানুষ পাঠানো সম্ভব৷ তবে তার জন্য মহাকাশযানের ব্যাপক রদবদলের প্রয়োজন পড়বে, যা কিনা ব্যয়সাপেক্ষ৷ কাজেই স্বপ্ন সফল হতে হতে আরো কিছু বছর সময় লেগে যাবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক