1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অযোধ্যা-যাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণ

ভারতের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের মতো কিছু মৌলবাদী হিন্দু সংগঠনের বিতর্কিত রাম জন্মভূমি ‘অযোধ্যা পরিক্রমা‘ যাত্রা আটকে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টি সরকার৷

এর প্রতিবাদে দিল্লিতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলে৷

বিতর্কিত রাম জন্মভূমি অযোধ্যাকে কেন্দ্র করে উত্তর ভারতের ‘গো-বলয়' বল পরিচিত এলাকায় রাজনৈতিক মেরুকরণের ঢেউ আছড়ে পড়েছে রাজধানী দিল্লিতে৷ উত্তর প্রদেশ রাজ্যে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি সরকার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দলের মত কিছু মৌলবাদী হিন্দু সংগঠনের ‘অযোধ্যা পরিক্রমা‘ যাত্রা রুখে দিতে পেরেছে বলে দাবি করেছে৷ গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় হাজার দেড়েক নেতা-কর্মীকে৷ আদালতের নির্দেশে পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেয়া হয়৷

সঙ্ঘ পরিবারের নেতাদের মতে, যাত্রা আটকে দেয়ায় আগামী নির্বাচনে ভোটের মেরুকরণে লাভ হবে বিজেপির৷ ভোটের আগে মেরুকরণের রাজনীতি উসকে দিয়ে সমাজবাদী পার্টি ও বিজেপি তথা মৌলবাদী হিন্দু সংগঠনগুলির মধ্যে নেপথ্য সমঝোতার গন্ধ পাচ্ছে কংগ্রেস আর বহুজন সমাজ পার্টি৷ সমাজবাদী পার্টির লক্ষ্য মুসলিম ভোট এবং বিজেপির নিশানা হিন্দু ভোট৷ যা নিজ নিজ স্বার্থপূরণের যৌথ স্ট্র্যাটিজি৷

একদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ৮৪-ক্রোশ অযোধ্যা পরিক্রমা এবং অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি সরকারের প্রতিরোধের ফলে রাজনৈতিক মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তাতে লাভ বেশি কার? বিজেপির কতটা দরকার বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে? অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সাধুসন্তারা পরিক্রমাকে ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার এবং সাম্প্রদায়িকতা ধুয়ো তোলার চেষ্টার জন্য দায়ী করেন ভিএইচপি এবং বজরং দলের মত সংগঠনগুলিকে৷ তাঁদের মতে, এতে বিজেপির রাজনৈতিক লাভ হবেনা৷

অযোধ্যার বিতর্কিত রামজন্মভূমি চত্বরে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য বিজেপি এবং ভিএইচপি রাজনৈতিক সহমত বা বৃহত্তর সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে৷ ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট রামজন্মভূমি মামলায় যে রায় দিয়েছিলেন, তাতে মন্দির নির্মাণপন্থি সাধুসন্তরা কার্যত খুশি হয়েছিলেন৷ এখন যদি এর মধ্যে রাজনীতি ঢোকানো হয়, তাহলে সেটা আইন-বিরুদ্ধ হবে এবং আদালতের রায়ে যেটুকু লাভ হয়েছিল তা বিফলে যাবে৷ উল্লেখ করা যেতে পারে, এলাহাবাদ আদালতের রায়ে কথিত রাম জন্মভূমি চত্বরের জমিকে তিনভাগে ভাগ করার কথা বলা হয়েছিল৷ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, রামলালা এবং নির্মোহী আখড়ার মধ্যে৷ এর বিরুদ্ধে আপীল করে ওয়াকফ বোর্ড সুপ্রিম কোর্টে৷ শীর্ষ আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন৷

২০১৪ সালের ভোটের মুখে এই রকম একটা স্পর্শকাতর ইস্যুকে খুঁচিয়ে তুলে সাম্প্রদায়িক শান্তি বিঘ্নিত করতে না দিয়ে উত্তর প্রদেশ সরকারের কড়া পদক্ষেপ সমর্থনযোগ্য৷ এই অযোধ্যা যাত্রা আটকে দেয়াকে ধর্মীয় স্বাধীনতায় অহেতুক হস্তক্ষেপ বলে নিন্দা করেছে বিজেপি৷ বিদগ্ধ ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিক সমাজ মনে করে, ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে একাসনে বসালে তার পরিণাম যে কী হতে পারে, তার অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়া উচিত নয়৷ অযোধ্যার রামমন্দির-বাবরি মসজিদের রক্তাক্ত ইতিহাস ফিকে হয়ে যায়নি৷ নতুন করে তা উসকে দেবার অর্থ আগুন নিয়ে খেলা৷ বিজেপির উচিত, সুশাসন এবং উন্নয়নকে নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা, ধর্মীয় আবেগকে নয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়