1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অমূল্য শিল্প সংগ্রহ যখন হাতের নাগালে

গুপ্তধন বা লুকানো সম্পদের কথা শুনলে কার না মনে রোমাঞ্চ হয়? জার্মানির ড্রেসডেন শহরে এমনই এক সম্পদের সংগ্রহ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা৷ তবে তার জন্য নিরাপত্তার বেড়াজাল পার হতে হয়৷

এ যেন ব্যাংকের ভল্টের মতো নিরাপত্তা৷ দর্শকদের দু-দুটি ফটক পেরিয়ে ড্রেসডেন শহরে শিল্প মিউজিয়ামে প্রবেশ করতে হয়৷ এই সংগ্রহ তার নিজস্ব ঐতিহাসিক স্থানে আবার গড়ে তুলতে এর কর্ণধার বেশ কয়েক বছর পরিশ্রম করেছেন৷ গোটা বিশ্বে এটাই বারোক যুগের কোনো কাউন্টের সম্পদের একমাত্র ভাণ্ডার, যা এখনো অক্ষত রয়েছে৷ প্রাচ্যদেশীয় শৈলিতে এটি তৈরি করা হয়েছিল৷ কোটি কোটি ডলার মূল্যের সোনা, রুপো ও দামি পাথর এখানে শোভা পাচ্ছে৷ গ্রিন ভল্টের প্রধান প্রো. ডিয়র্ক স্যুনড্রাম বলেন, ‘‘এই সব বস্তু বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ৷ ধনসম্পদের এমন ভাণ্ডার অতি বিরল৷ তার উপর মূল জায়গায় এমন সংগ্রহ আর পাওয়া যায় না৷''

ড্রেসডেন শহরের রাষ্ট্রীয় শিল্প সংগ্রহের সবচেয়ে বড় বস্তুটি হলো তুরস্কের এক রাজকীয় তাঁবু৷ প্রাচ্য শৈলির এই নিদর্শন হাতে তৈরি এক অসাধারণ শিল্পকর্ম৷ প্রায় ৬৫ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে চল্লিশ হাজারেরও বেশি হাতে-বোনা ফিলিগ্র্যান ফুল দিয়ে তৈরি তাঁবু৷ যেন সোনা ও রেশম দিয়ে তৈরি এক টুকরো স্বপ্ন৷ সেই মহামূল্যবান সম্পদ একমাত্র টেক্সটাইল ওয়ার্কশপে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব৷ ওয়ার্কশপের প্রধান মেশ্টহিল্ড ফন ফেল্টহাইম বলেন, ‘‘অত্যন্ত সূক্ষ্ম হাতের কাজ৷ টেক্সটাইলের অনেকগুলি স্তর পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে৷ অসাধারণ সুন্দর সেই বিন্যাস৷ এ সব নষ্ট হতে দেওয়া যায় না৷ সেই সৌন্দর্য ধরে রাখা টেক্সটাইল জগতের মানুষের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে৷ বেশি পরিশ্রম হলেও পরোয়া নেই৷''

তাঁতিরা পাঁচটি স্তর পর্যন্ত রেশম ও সোনার জল দেওয়া চামড়ার টুকরা বোনেন৷ অতি মনোযোগ দিয়ে প্রায় ৪০০ বছর পুরানো নাজুক টেক্সটাইল নিয়ে কাজ করতে হয়৷ সেখানে ভুলের কোনো অবকাশ নেই৷ এমন এক তাঁবুকে কয়েক'শ বছরের পুরানো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগে৷

ড্রেসডেন শহরের রাষ্ট্রীয় শিল্প সংগ্রহের ওয়ার্কশপে প্রায় ৪০০ বছর পুরানো তৈলচিত্র মেরামত করা হচ্ছে৷ প্রায় অর্ধেক অংশের রং মূল অবস্থায় ফিরে এসেছে৷ তবে বাকি কাজ করার আগে কনজারভেটররা জানতে চান, শিল্পী ঠিক কীভাবে ছবিটি এঁকেছিলেন৷

আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁরা এই ছবিটি বিশ্লেষণ করতে চান৷ এক ইনফ্রারেড ক্যামেরা তেলের রংয়ের গভীর স্তর পর্যন্ত উঁকি দিতে পারে এবং বড় পর্দায় তা ফুটিয়ে তুলতে পারে৷ সেই ছবিতে অবিশ্বাস্য সব খুঁটিনাটি বিষয় চোখে পড়ে৷ এই টিম মূল ছবির নীচের স্তরে শিল্পীর অদৃশ্য স্কেচ-ও আবিষ্কার করেছে৷ তৈলচিত্র রেস্টোরেশন প্রকল্পের প্রধান প্রো. মারলিস গিবে বলেন, ‘‘দেখা যাচ্ছে, শিল্পী হয়ত একটি নক্সা মেনে ছবি এঁকেছেন৷ অথবা তিনি স্বাধীনভাবে এই স্কেচের ভিত্তিতে আইডিয়া এগিয়ে নিয়ে গেছেন৷ শিল্পীর গভীর চিন্তার এমন খসড়া এবং তাতে রদবদলের বিবর্তনের পরিচয় পেলে তা আমাদের অত্যন্ত সমৃদ্ধ করে৷''

এক্স-রে রশ্মিও ছবির রহস্য সমাধানে সাহায্য করে৷ তাছাড়া নিখুঁত বিশ্লেষণ ও ছবির উপর তুলি চালানোর সঠিক মাত্রাও দেখিয়ে দেয় এই প্রযুক্তি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক