1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

অভিভাবকের অসচেতনতায় সংকটে পড়ছে সন্তানরা

পর্নো ভিডিও দেখে ঢাকার অন্তত ৭৭ ভাগ স্কুলগামী শিশু৷ মেয়েদের অশ্লীল ছবি, ভিডিও প্রকাশ করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র৷ লজ্জায় আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছে কেউ কেউ৷

Ring von Kinderschändern in Spanien zerschlagen Symbolbild Kinderpornografie (picture-alliance/dpa)

প্রতীকী ছবি

মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েও মেয়ের সম্মান রক্ষা করতে না পেরে পুলিশে অভিযোগ করছেন বাবা৷ পুলিশের এক কর্মকর্তা ডয়চে ভেলেকে বলছিলেন, ‘‘দেশের একটি নামকরা গার্মেন্টসের মালিক সম্প্রতি আমার কাছে এসেছেন৷ নিজের মেয়েকে নিয়ে তিনি বড় বিপদে পড়েছেন৷ বিষয়টি কাউকে বলতেও পারছেন না, আবার লুকিয়ে রাখাও সম্ভব নয়৷ তার মেয়ে একটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত অনেকদিন ধরে৷ এখন ওই গ্রুপ থেকে মেয়ের অশ্লীল ছবি পাঠিয়ে টাকা দাবি করছে৷ কিছু টাকা তিনি দিয়েছেন৷ এখন আরও টাকা চায়৷ এখনও তারা মেয়ের অশ্লীল কোনো ভিডিও অনলাইনে ছাড়েনি৷ হুমকি দিচ্ছে টাকা না দিলে সেটাই করবে৷ ওই ভিডিওগুলোও সত্যি ধারণ করা৷ ওই ব্যবসায়ী স্বীকার করেছেন, মেয়ের দিকে খেয়াল না রাখায় সে অসামাজিক কাজে যুক্ত হয়েছে৷ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ওই মেয়েকে নিয়ে বাবা এখন দিশেহারা৷''

ডয়চে ভেলেকে এমন আরো অনেক তথ্যই জানিয়েছেন পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা৷ জানালেন, ওই ব্যবসায়ী তাঁর পূর্ব পরিচিত৷ সম্প্রতি এক ফেসবুক গ্রুপের তিন অ্যাডমিন গ্রেফতার হওয়ার পর ওই ব্যবসায়ী অভিযোগ করার সাহস পেয়েছেন৷ এখন ওই গ্রুপটি নিয়ে কাজ করছে পুলিশের একটি টিম৷

এই ধরনের বেশ কিছু অভিযোগ আছে পুলিশের কাছে৷ এমন একটি অভিযোগের জের ধরেই সম্প্রতি তিনজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট৷ গ্রুপটি ‘ডেসপারেটলি সিকিং-আনসেন্সরড' (ডিএসইউ) নামে একটি ফেসবুক পেজ চালাতো৷ এই গ্রুপে ১৬ জন নারীও আছে৷ মূল অ্যাডমিন রোজাউল চৌধুরী থাকেন মালয়েশিয়ায়৷ তাকে ধরতে পারছে না পুলিশ৷ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার৷

অডিও শুনুন 02:35

‘এটা একটা গুরুতর অপরাধ’

  

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বেশ কিছু অভিভাবক আমাদের কাছে এসেছেন৷ আমরা তাঁদের পরিচয় গোপন রেখেই তদন্ত করে তিন জনকে গ্রেফতার করেছি৷ অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে৷''  তিনি বলেন, ‘‘এটা একটা গুরুতর অপরাধ৷ সেটা বিবেচনায় নিয়েই আমরা কাজ করছি৷''

গত ১৩ অক্টোবর বিভিন্ন নারীর ব্যক্তিগত ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে তাদের হেয় করার অভিযোগে ফেইসবুক গ্রুপ ‘ডেসপারেটলি সিকিং-আনসেন্সরড'-এর ৩ সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন৷ তারা হলেন- তৌহিদুল ইসলাম অর্ণব (১৯), জুবায়ের আহম্মেদ (২১) ও মোহাম্মদ আসিফ রানা (১৮)৷ রাজধানীর পান্থপথের একটি ফ্যাটের ষষ্ঠ তলা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করে৷

গ্রেফতারের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘‘তারা দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি, অভিনেতা-অভিনেত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মেয়েদের অনলাইনে লাঞ্ছনার শিকার করে আসছিলো৷ তারা যে কোনো অপরিচিত মানুষের ছবি, গোপনে ধারণকৃত ভিডিও লিংক ফেইসবুকে শেয়ার করে তাতে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করত৷ এই গ্রুপের সঙ্গে আরো বেশ কিছু মানুষ জড়িত রয়েছে৷''

অডিও শুনুন 02:55

‘এর জন্য অভিভাবকদের অসচেতনতাই দায়ী’

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘‘যারা এ ধরনের কাজ করে, তারা মানসিক বিকারগ্রস্ত৷ যারা না বুঝে জড়িয়ে পড়ছে, বুঝতে পারার পর তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারছে এমনটাও বলা যাবে না৷'' বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ভোগ বিলাসের চিন্তা থেকেই এই ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটছে৷ আর এর জন্য অভিভাবকদের অসচেতনতাই দায়ী৷ সন্তানদের দিকে তারা খেয়ালই করছেন না৷ ফলে হঠাৎ করেই একদিন ইনবক্সে মেয়ের অশ্লীল ছবি দেখে হুশ ফিরছে৷ তখন আর তাদের কিছুই করার থাকে না৷ ততদিনে সেটা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গেছে৷ অথবা ইন্টারনেটে না গেলেও টাকা দিতে হচ্ছে৷ সন্তানের এমন কর্মে অনেক অভিভাবক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন৷ এমন অনেক রোগীই বর্তমানে আমাদের কাছে আসছে৷'' 

ডেসপারেটলি সিকিং-এর তিনজনকে আটকের পর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, গ্রুপটির অ্যাডমিন ও তাদের সহযোগীরা ফেসবুক আইডি হ্যাকিংয়ে জড়িত৷ তারা নারী মডেল, অভিনেতা ও কলেজ শিক্ষার্থীদের আইডি হ্যাক করে তাদের টাইমলাইনে পর্নোগ্রাফি দিয়ে সম্মানহানি করে, ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে৷

এদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এক নারী শিক্ষার্থী সম্প্রতি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন৷ ডেসপারেটলি সিকিং প্রথমে ওই শিক্ষার্থীর আইডি হ্যাক করে ও একটি ব্যক্তিগত ভিডিও পোস্ট করে, যা পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে৷ সারাবিশ্বেই পর্নোগ্রাফি এখন একটি বড় ব্যবসা৷ ২০০৭ সালে পর্নোগ্রাফি ব্যবসায় ২০ বিলিয়ন ডলার নিট লাভের হিসাব দিচ্ছে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত মাকের্ট রিচার্স গ্রুপগুলো৷ এই ব্যবসা দিনদিন বাড়ছে৷  ২০১৭ সালে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিট ব্যবসার আভাস দিচ্ছে বিজনেজ ইনসাইডার৷ বলা হচ্ছে, ১৭ বছরের মধ্যে এই খাতে এটাই হবে সর্বোচ্চ ব্যবসা৷ এই পর্নোগ্রাফি প্রোডাক্টের শিকার ও টার্গেট- উভয়ই টিনএজার৷ বিজনেস ইনসাইডার জানায়, এখন ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ট্যাব সবখানেই ঢুকে পড়েছে পর্নোগ্রাফি৷

গত ২ অক্টোবর বেসরকারি সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন' দিয়েয়ে আরও ভয়াবহ এক তথ্য৷ এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা জানিয়েছে, ঢাকায় স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৭৭ ভাগই এখন পর্নোগ্রাফি দেখে৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেশে তৈরি এই পর্ণোগ্রাফিগুলোতে যাদের ভিডিও দেখানো হচ্ছে, তাদের বয়স ১৮-র কম৷ ঢাকার ৫০০ স্কুলগামী শিক্ষার্থীর ওপর তিন বছর আগে পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, ৭৭ ভাগ শিশুই পর্নোগ্রাফি দেখতে অভ্যস্ত৷

বিশ্লেষকরা শিশুদের পর্ণোগ্রাফিতে ঝুঁকে পড়ার কারণ হিসেবে ইন্টারনেটের অবাধ ব্যবহারকেই দায়ী করছেন৷ তাঁদের মতে, অভিভাবকদের নজর না রাখা এবং অল্প বয়সি একটি শিশুর স্মার্ট ফোন পেয়ে যাওয়াই এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি করেছে৷ অল্প বয়সে স্মার্টফোন পেয়ে যাওয়ার ফলে সে যা ইচ্ছে তা-ই দেখছে৷

অডিও শুনুন 01:38

‘সবচেয়ে প্রথমে দরকার শিশুদের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘‘মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তিনি কথা বলবেন৷  সন্তানদের রক্ষা করার একটা উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি৷''

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল মামুন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সবচেয়ে প্রথমে দরকার শিশুদের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ৷ সারা বিশ্বে শিশুরা কোন কোন সাইট ভিজিট করতে পারবে তার লিমিট দেয়া থাকে৷ ইন্টারনেটের প্যাকেজ কেনার সময় সাইটগুলো নির্ধারণ করে দেয়া হয়৷ কিন্তু এখানে সেই ধরনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই৷ সরকার যদি এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয় তাহলে আমরাও সঙ্গে থাকব৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়