1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

অভিবাসী সেবিকা: তাঁদেরই প্রয়োজন বিশেষ সেবা!

নাম ‘পোলিশ মুক্তা'৷ তবে আসলে তাঁদের অনেকেই জীবন থেকে মুক্তি চান৷ কে দেবে মুক্তি? একাকী জীবন থেকে অর্থকষ্ট দূর করতে এসেছেন জার্মানিতে৷ অন্যের সেবায় নিয়োজিত করেছেন প্রাণ৷ তারপরও সঙ্গী একাকিত্ব আর বঞ্চনার বেদনা!

জার্মানিতে নতুন এক শ্রেণির পেশাজীবীদের এখন খুব চাহিদা৷ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির তো অভাব নেই৷ বৃদ্ধাশ্রমে পাঠালে একাকিত্ব, পরিবার থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা কুঁড়ে কুঁড়ে খায় তাঁদের৷ তাই আপনজনেরা নিজেদের ব্যস্ত জীবনের সীমাবদ্ধতা মেনে খোঁজেন এমন কাউকে, যিনি কিনা সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে অসহায় স্বজনের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হতে পারবেন৷ এই সঙ্গীদেরই নাম দেয়া হয়েছে ‘পোলিশ মুক্তা', ‘২৪ ঘণ্টার পোলিশ সেবিকা' কিংবা ‘অভিবাসী সেবিকা'৷ সেবিকারা আসেন পূর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া বা ইউক্রেন থেকে৷ বেশিরভাগই পোল্যান্ডের, তাই নামকরণেও কোথাও কোথাও তাঁদের ‘পোলিশ' পরিচয়টা গুরুত্ব পায়৷

গুরুত্ব তাঁদের আসলেই অনেক৷ অনেকটা ‘কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরোলেই পাজি'-র মতো৷ বড় নিষ্ঠুর এক সত্যকে তুলে ধরে বাংলায় প্রচলিত এই প্রবাদ৷ বার্লিনে অভিবাসী সেবিকাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে আগনিয়েস্কা সাটোলা এমন কিছু তথ্য দিয়েছেন যেসব শোনার পর মনে হবে, জার্মানিতে এই সেবিকাদেরও এখন একই অবস্থা৷ নিজেদের প্রয়োজনে অর্থের বিনিময়ে তাঁদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কিনে নিলেও সেবা করতে গিয়ে তাঁদেরও যে সংকট হয়, তা নিয়ে কেউ ভাবে না৷ নিজের কাজ হলেই হলো, সেবিকার ভালোমন্দের কথা কে ভাববে!

সাধারণ ধারণা অনুযায়ী, জার্মানিতে এ মুহূর্তে এক থেকে দেড় লক্ষ অভিবাসী নারী প্রবীণ এবং শারীরিকভাবে অক্ষমদের সার্বক্ষণিক সেবা দানের কাজে নিয়োজিত আছেন৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আগনিয়েস্কা সাটোলা অবশ্য জানালেন, বার্লিনে শেষ হওয়া সম্মেলনে কোনো কোনো বক্তা সংখ্যাটা ৫ লক্ষ বলেও উল্লেখ করেছেন৷ অভিবাসী সেবিকাদের বিষয়ে আগনিয়েস্কাও কম জানেন না৷ তাঁদের নিয়েই তাঁর লেখাপড়া৷ এ বিষয়ে পিএইচডি করেছেন তিনি ফ্রাংকফুর্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে৷

নিজের পড়াশোনা, ‘পোলিশ মুক্তা' খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা এবং এ দুয়ের সমন্বয়ে আরো তীব্র হওয়া মানবিক মূল্যবোধ থেকে তিনি ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন এমন কিছু কথা যা জানার পর মানতেই হবে যে, অভিবাসী এই সেবিকাদেরই এখন বিশেষ সেবা প্রয়োজন৷

বৃদ্ধাশ্রম বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশে তো বটেই, এমনকি অর্থনৈতিকভাবে আরো পিছিয়ে থাকা বিশ্বের অনেক দেশেই আছে৷ উন্নত দেশের সেবাব্যবস্থাও উন্নত৷ জার্মানিতে প্রবীণদের জন্য বিশেষ এক সেবাব্যবস্থার নাম ‘হোমকেয়ার' বা ‘গৃহসেবা'৷ এ সেবার মূল কথা হলো, ভুক্তভোগীকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হবেনা, তাঁদের গৃহেই আসবেন সেবিকা, এসে সেবা দেবেন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত৷

নিয়ম অনুযায়ী সেবিকারা মাসে সব মিলিয়ে বড় জোর ৩০০ ঘণ্টা কাজ করতে পারবেন৷ ফলে প্রতিদিন দশ ঘণ্টার বেশি কাজ করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়৷ এ নিয়ম মানলে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা বা শারীরিকভাবে অক্ষমদের বাকি সময়টা নিঃসঙ্গ এবং সেবাবঞ্চিত থাকতে হবে৷ আবার গৃহসেবা কার্যক্রমের অধীনে থেকে যদি কেউ তাঁর প্রিয়জনকে এই সেবা দিতে চান তাহলে মাসে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ১০ হাজার ইউরো পর্যন্ত খরচ হবে৷ এত টাকা অনেকের পক্ষেই খরচ করা সম্ভব নয়৷ তাই জার্মানির অনেকে ধরছেন সরকার এবং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর পথ৷

তাঁদের সহায়তায় এগিয়ে আসছে এমন কিছু বেসরকারি সংস্থা যাদের কাজই হলো পোল্যান্ড, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া বা ইউক্রেনের মতো পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে সেবিকা নিয়ে আসা৷

Pflege in Deutschland

অনেক সেবিকাকে ২৪ ঘণ্টাই থাকতে হয় শারীরিকভাবে অক্ষমদের বাড়িতে

প্রতিমাসে ৯০০ থেকে ১,৫০০ ইউরো হাতে তুলে দিলেই সেবিকা হাজির৷ জার্মান ভাষা এবং সেবায় দক্ষতা থাকলে যে কোনো নারী যোগ দিতে পারেন এই কাজে৷ সাধারণত মুখে মুখেই হয় চুক্তি৷ কাগুজে সনদ বা চুক্তিপত্রের বালাই নেই৷ ফলে ৪ হাজার ৮০০ থেকে ১০ হাজার ইউরো নয়, সর্বোচ্চ দেড় হাজার ইউরো খরচ করলেই পাওয়া যায় বার্ধক্য কিংবা শারীরিক অক্ষমতার কারণে গুরুত্ব হারানো আপনজনের একজন সার্বক্ষণিক সঙ্গী এবং সেবিকা৷

আগনিয়েস্কা সাটোলা জানালেন, আইনকে ফাঁকি দিয়ে প্রিয়জনদের ভালো রাখতে গিয়ে অনেকে সেবিকাদের প্রতি একই অন্যায় করছেন যা নিজের প্রিয়জনের সঙ্গে তাঁরা করতে চান না৷ এই বিশেষ সেবিকাদের অনেকের বয়সই নাকি ৫০ থেকে ৬০ বছর৷ আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকলে তাঁরাও নিশ্চয়ই অন্য কারো সাহচর্য এবং সেবায় বাকি জীবন আরাম-আয়েশেই কাটাতেন৷ আগনিয়েস্কা সাটোলা জানালেন, বাধ্য হয়ে সেবা করতে এসে অভিবাসী সেবিকারাই পড়ছেন চরম সংকটে৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘অনেক সেবিকাকে ২৪ ঘণ্টাই থাকতে হয় শারীরিকভাবে অক্ষমদের বাড়িতে৷ কখনো কখনো তাঁদের কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও একা থাকতে হয় এমন কারো সঙ্গে, ভাষার তারতম্যের কারণে কিংবা সেই ব্যক্তি চলৎশক্তিহীন বলে যাঁর সঙ্গে মনের কোনো যোগাযোগ গড়ে ওঠে না৷ এ বিষয়টি তাঁদের (সেবিকা) মনের ওপরও খুব বিরূপ প্রভাব ফেলে৷''

প্রশ্ন হলো, দেশ এবং পরিবার-পরিজন ছেড়ে আসা এই সেবিকাদের সেবা দেবে কে?

নির্বাচিত প্রতিবেদন