1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

অভিবাসীদের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রা সহজে উদ্যোগ

ফেডারেল পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০১২ সালে ১০ লক্ষেরও বেশি বিদেশি জার্মানিতে এসেছেন৷ স্পেনিশ, গ্রিক ও পর্তুগিজদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে৷ নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই উচ্চ শিক্ষিত৷

নবাগতরা অবশ্য জার্মানিতে এসে নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হয়৷ তাদের মনে প্রশ্ন জাগে, কোথায় আমি একটি ভালো কাজের সুযোগ পাব, কোন কোন ডিগ্রি জার্মানিতে স্বীকৃত, নতুন জীবনযাত্রায় কীভাবে খাপ খাওয়াতে পারব, আমি কী এখানে থাকতে পারব? ইত্যাদি ইত্যাদি৷ এইসব প্রশ্নের দ্রুত সন্তোষজনক উত্তর খুঁজে না পেলে জার্মানি এমন সব মানুষকে হারাবে, যারা জনসংখ্যা হ্রাস, বার্ধক্যের হার বৃদ্ধি, বিশেষজ্ঞের অভাব ইত্যাদি রোধে সাহায্য করতে পারতো৷ এই আশঙ্কাই সমাজ গবেষক রাজনীতিবিদদের৷

আইনকানুনের মারপ্যাচ

নতুন অভিবাসীরা জার্মানিতে এসে জটিল আইনকানুনের মারপ্যাচে খেই হারিয়ে ফেলেন৷ কোন বিষয়ের দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের হাতে – তা বুঝে উঠতে পারেন না৷

অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রসচিব এর্ন্সট বুর্গবাখার ডয়চে ভেলের সাথে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা স্বীকার করে বলেন, জার্মানিতে অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর চেয়ে প্রত্যাখ্যান করার একটা প্রবণতা চলে আসছিল বহুদিন ধরে৷ ‘‘সারা বিশ্বের মানুষদের জানা উচিত, যে তারা এখানে স্বাগত৷'' বুর্গবাখার জানান, জার্মানিতে কাজের অনুমতি পাওয়ার জন্য আয়ের নির্ধারিত পরিমাণ কমানো হবে৷ বিরোধী দল অবশ্য একে অন্তঃসার শূন্য প্রতিশ্রুতি বলে মনে করে৷

পয়লা জুলাই থেকে চাকরির ব্যাপারে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি হচ্ছে জার্মানিতে৷ এই বিধান অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলি থেকে আসা বিশেষজ্ঞদেরও চাকরির সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে৷ বিশেষ করে যে সব পেশায় লোকের অভাব রয়েছে৷ বছর খানেক ধরে নতুন এক আইন বলে বিদেশের পেশাগত ডিগ্রিকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে৷

স্বদেশে থেকেই তথ্য সংগ্রহ

স্বদেশে থেকেই জার্মানি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারাটা অভিবাসীদের জন্য বিশেষ জরুরি৷ এই লক্ষ্যে ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম ‘মেক ইট ইন জার্মানি'-তে একটি ইন্টারনেট পুল গড়ে তোলা হয়েছে৷ যাতে থাকে চাকরির বাজারের খবরাখবর৷ কোনো প্রশ্ন থাকলে সাহায্য পাওয়া যায় টেলিফোন-পরামর্শদাতার কাছে, প্রচলিত যে কোনো ভাষায়৷ ১০ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ এই সুযোগ সুবিধাটা গ্রহণ করেছে৷

জার্মানিতে কোনো কিছুর অনুমোদন পেতে হলে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার যাতায়াত করতে হয় অভিবাসীদের৷ ধীরে ধীরে এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ তথ্যাদি ও দলিলপত্র কেন্দ্রীয়ভাবে সংগঠিত করা হচ্ছে৷

‘ওয়েল কাম সেন্টার'

হামবুর্গ নগর কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের জন্য একটি ‘ওয়েল কাম সেন্টার' খুলেছেন৷ ২০০৯ সাল থেকে বিয়র্টে শ্টেলার এই কেন্দ্রের প্রধান৷ নবাগতদের তিনি মূল্যবান খদ্দের বলে মনে করেন৷ তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার করা হয়৷ ‘‘মাঝে মাঝে বিস্ময় প্রকাশ করে অনেকে প্রশ্ন করেন, এটা কী কোনো অফিস না অন্য কিছু?'' গর্বের সাথে জানান বিয়র্টে শ্টেলার৷ এই দৃষ্টান্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও গ্রহণ করছে৷ অন্যান্য শহরেও এই ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে৷ যেমন মিউনিখ শহরের বিদেশিবিষয়ক দপ্তরে একটি ওয়েল কাম সেন্টার খোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷

কোনো কোনো শহরে রাজনীতিকরাও কর্মপ্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে ইউরোপব্যাপী চাকরিতে আগ্রহী অভিবাসীদের খোঁজ করছেন৷ যাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ্য কর্মীর অভাব কিছুটা পূরণ কার যায়৷

স্পেন থেকে আসছেন কর্মপ্রার্থী

লিঙেন শহরের লর্ড মেয়র ডিটার ক্রোনে স্পেনের শহর সাল্ট থেকে তরুণ কর্মপ্রার্থীদের সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়েছেন৷ সাল্টের তরুণদের মধ্য বেকারত্বের হার ৫০ শতাংশ৷ কিন্তু শহরটি থেকে যে সব প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলি তাঁদের কাজে লাগাতে পারবে না৷ কেননা এই তরুণ স্পেনিশরা যে পেশার জন্য লোক খোঁজা হচ্ছে, সেই পেশা শেখেননি৷

Berufschüler lernen im Seminar einer Fachhochschule. #35641899

স্বদেশে থেকেই জার্মানি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারাটা অভিবাসীদের জন্য বিশেষ জরুরি

এইসব দেখেশুনে এখন নির্দিষ্ট পেশার জন্য শিক্ষিত অভিবাসী খোঁজা হচ্ছে৷ ‘‘কর্মপ্রতিষ্ঠানগুলিকে আমাদের জানাতে হবে, কোন ধরনের পেশার জন্য লোক খুঁজছেন তারা৷ তারপর আমরা কাজ শুরু করে দেই৷ স্পেনে আমাদের সহকর্মীদের অনুরোধ করি, কিছু যোগ্য প্রার্থীর নাম পাঠাবার জন্য৷'' বলেন মেয়র ক্রোনে৷

এক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা থাকতে হবে৷ বিদেশ থেকে সস্তায় কর্মী আনা, বেকার সমস্যায় ভারাক্রান্ত দেশগুলির দুরবস্থার সুযোগ নেওয়া, এটা হতে পারে না৷ ডিটার ক্রোনে নিশ্চিত যে, তাঁর এলাকার সব প্রতিষ্ঠান এই দায়বদ্ধতার ব্যাপারে সচেতন৷ এই ধরনের মধ্যস্থতা এখন খুব ভালোভাবে চলছে৷ তাই পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ উদ্যোগটি চালিয়ে যাওয়া হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন