1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অভিবাসন – আমাদের চাওয়া-পাওয়া, আমাদের ভয়

সংখ্যা কিন্তু মিথ্যা বলে না৷ ২০১৩ সালে ৪ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসতি গেড়েছে, আগের যে কোনো বছরের তুলনায় তা অনেক বেশি৷ তাই হঠাৎই অভিবাসীদের দেশে পরিণত হয়েছে জার্মানি, এমনই ধারণা ডয়চে ভেলের ফল্কার ভাগেনার৷

মাত্র কয়েক বছর আগেও জার্মানির সাংবাদিকদের কাছে একটা বিষয় নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়েছিল, আর তা হলো জার্মানি থেকে প্রস্থান৷ ২০০৯ সালে ১ লাখ ৭৫ হাজার জার্মান নিজের দেশ থেকে অন্য দেশে পাড়ি জমান৷ শ্রমিকরা ক্যানাডায়, শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে আর রন্ধনশিল্পে পারদর্শীরা দক্ষিণ আফ্রিকায়৷ এমনকি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও অনেকে পাড়ি জমান৷ যাঁরা চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ালেখা করেন, তাঁরা ভালো কর্মক্ষেত্রের সন্ধানে চলে যান নরওয়ে, যুক্তরাজ্য এবং সুইজারল্যান্ডে৷

Deutsche Welle Zentralredaktion Volker Wagener

ডয়চে ভেলের ফল্কার ভাগেনার

কারণ একটাই, এ সব স্থানে উপার্জনের অঙ্কটা জার্মানি থেকে অনেক বেশি৷ এ ধরনের জার্মানদের উপরই তখন বেশি প্রতিবেদন করা হতো৷ উদ্দেশ্য – কী কারণে তাঁরা দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যান, সেটা বের করা৷ কিন্তু এটা ছিল কয়েক বছর আগের চিত্র৷

বর্তমানে জার্মানির অবস্থা

বর্তমানে জার্মানিতে সাংবাদিকদের কাছে সবচেয়ে গরম খবর ‘অভিবাসন'৷ পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে যত অভিবাসী রয়েছে, তাঁদের প্রতি তিনজনের একজন জার্মানিতে অভিবাসী৷ ২০০৭ সালে যা ছিল প্রতি ৭ জনে একজন৷ ২০০৮ সালে ইউরোপে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়৷ তাই কাজের খোঁজে গ্রিস, পর্তুগাল, স্পেন থেকে অনেকেই চলে এসেছেন জার্মানিতে৷ তবে জার্মান ইন্ডাস্ট্রি আসলে এতদিন যা খুঁজছিল তা পেয়ে যায়, অর্থাৎ দক্ষ কিছু কর্মী, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেকটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনে৷

অর্থনৈতিক উন্নয়নে অভিবাসীদের প্রয়োজন

২০০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দার পর ইউরোপের প্রতিটি কোণায় যখন বেকারত্বের হার চরমে পৌঁছে গিয়েছিল, সেখানে জার্মানিতে অর্থনীতি হয়ে উঠছিল শক্তিশালী৷ কেবল কর্মী সংখ্যার দিক থেকেই নয়, মানের দিক থেকেও জার্মানি হয়ে উঠল এক নম্বর৷ ছয় বছর আগের কথা, তখন অভিবাসীদের মাত্র ২৭ শতাংশের ছিল উচ্চ শিক্ষার সনদ, এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে৷

জার্মান অভিবাসন নীতিও ভীষণ গোছানো৷ কেবল রাজনীতি নয়, চেম্বার অফ কমার্স, শহর এবং বিভিন্ন সম্প্রদায় দক্ষ জনশক্তি গড়তে কাজ করে যাচ্ছে৷ এ জন্য অভিবাসীদের মধ্যে দক্ষ ব্যক্তি থাকলে তাঁদের গড়ে তোলার জন্য রয়েছে তহবিল৷ ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন একটি কর্মসূচি রয়েছে, যার নাম ‘মোবিপ্রো'৷ এই কর্মসূচির আওতায় ইউরোপের নানা দেশের ৯,০০০ তরুণ জার্মানিতে আসার আগ্রহ দেখিয়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি৷

জার্মানি দিন দিন বদলাচ্ছে৷ তবে জার্মানিতে সম্পর্কটা আসলে আদান-প্রদানের৷ আপনি যতটা দেবেন, ততটাই ফেরত পাবেন৷ অর্থাৎ জার্মানির প্রয়োজন দক্ষ কর্মী, আর এ কারণেই তাদের অভিবাসী প্রয়োজন৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়