1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অভিবাসনকে ‘ইস্যু' করে লাভ নেই

এ বিরোধের একদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং সম্ভবত ব্রিটেনের বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ, আর অন্যদিকে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল থেকে শুরু করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লোদ ইয়ুঙ্কার৷

বিরোধটাকে এত বড় করে দেখার কারণ আছে কি নেই, তা নিয়েই বিতর্ক চলতে পারে৷ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনকে আগামী বছর একটি সংসদীয় নির্বাচনের সম্মুখীন হতে হবে৷ সেক্ষেত্রে যে ইস্যুটি ব্রিটিশ ভোটারদের কাছে এখন অর্থনীতির চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটি হলো, ইমিগ্রেশন বা অভিবাসনের ইস্যু৷ সে অভিবাসন আবার বহির্বিশ্ব থেকে অভিবাসন নয়; সে অভিবাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অপরাপর দেশ, যেমন রোমানিয়া কিংবা বুলগেরিয়ার মতো পূর্ব ইউরোপের দেশগুলি থেকে অভিবাসন৷ এই ধরনের ইইউ অভিবাসীরা নাকি কোনোরকম কাজের প্রস্তাব ছাড়াই যুক্তরাজ্যে এসে নানা সামাজিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন৷ এছাড়া তারা যে হারে ব্রিটেনে আসছেন, তা নিয়েও নাকি ব্রিটেনের জনগণ চিন্তিত৷ অর্থাৎ বিষয়টি নিঃসন্দেহে একটি ‘ইস্যু' এবং আগামী নির্বাচন অবধি একটি ‘ইস্যু' থাকবে - বিশেষ করে ইউকেআইপি-র মতো ইউরো-নিন্দুক দলগুলির কল্যাণে৷ অর্থাৎ ক্যামেরনের এই ইস্যুটিকে অবজ্ঞা করার কোনো উপায় নেই৷ কাজেই ক্যামেরন বলেছেন যে, তিনি ইইউ থেকে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন এবং বড়দিনের আগেই এ সম্পর্কে ঘোষণা দেবেন৷

জার্মান প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া এসেছে বার্লিন থেকে৷ সোমবার চ্যান্সেলর ম্যার্কেলের মুখপাত্র স্টেফান জাইফার্ট জানিয়েছেন যে, ম্যার্কেল ইইউ-র অভ্যন্তরে জনগণের অবাধ চলাফেরাকে ‘নন-নেগোশিয়েবল', অর্থাৎ সব রকম আলাপ-আলোচনা কিংবা আপোশের ঊর্ধে বলে মনে করেন৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে মুক্ত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় অর্জন', কিন্তু প্রণালীটির যাতে অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করায় জার্মানিরও স্বার্থ আছে বলে জাইফার্ট মন্তব্য করেন৷

জাইফার্টকে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়, কেননা ঐ সোমবারেই জার্মানির ‘ডের স্পিগেল' সংবাদ সাপ্তাহিকে একটি খবর বেরোয় যে, গতমাসে ইইউ শীর্ষবৈঠকের অবকাশে ম্যার্কেল ক্যামেরনকে সাবধান করে দিয়েছেন যে, ক্যামেরন তাঁর অভিবাসন-বিরোধী প্রস্তাবের ফলে ইইউ-র সঙ্গে একটি ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন'-এর দিকে এগোচ্ছেন৷ ক্যামেরন এই পথে চললে জার্মানি আর ব্রিটেনকে ইইউ-তে রাখার চেষ্টা করবে না৷ ওদিকে ব্রিটেনে ইইউ সংক্রান্ত ‘মেক-অর-ব্রেক' গণভোটের তারিখ রাখা হয়েছে ২০১৭ সালে৷ অর্থাৎ ম্যার্কেল দৃশ্যত ক্যামেরনকে বলেছেন, ক্যামেরন অভ্যন্তরীণ অভিবাসন বিরোধী পদক্ষেপ নিলে, ২০১৫-র নির্বাচনের পর ব্রিটেন ইইউ-এর কাছ থেকে যে সব সুযোগ-সুবিধা পাবার আশা করছিল, সে গুড়ে বালি৷ এক কথায় অন্তত জার্মানি আর যে কোনো মূল্যে ব্রিটেনকে ইইউ-তে রাখতে রাজি নয়৷

জার্মান প্রতিক্রিয়ার ব্রিটিশ প্রতিক্রিয়া

‘ডের স্পিগেল'-এর বিবরণ সম্পর্কে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্রী বলেছেন, ওসব হলো ‘স্পেকুলেশন', অর্থাৎ কষ্টকল্পনা এবং ম্যার্কেলের এই অবস্থানও কিছু নতুন নয়৷ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য হলো, ‘‘ইইউ থেকে অভিবাসনের ব্যাপারে ব্রিটেনের জনতার যে উদ্বেগ আছে'' সে বিষয়ে কিছু করা৷ ক্যামেরনের নিজের কনজারভেটিভ দলের কিছু বিধায়কের মতে ‘ডের স্পিগেল'-এর বিবরণটি একটা জার্মান কূটনৈতিক চাল৷ বিবরণটি সম্পর্কে ব্রিটেনের অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবোর্নের মন্তব্য: ‘‘একটু অবিশ্বাস্য বলে আমার ধারণা৷''

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিক্রিয়া

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলতে যদি ইউরোপীয় কমিশন বোঝায়, তাহলে বলতে হয়, কমিশন ক্যামেরনের বাগাড়ম্বরে বিশেষ খুশি নয়৷ ক্যামেরন অভিবাসনের ওপর যে ধরনের সীমা আরোপ করতে চান, তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মাবলী লঙ্ঘন করবে৷

DW Bengali Arun Sankar Chowdhury

অরুণ শঙ্কর চৌধুরী, ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগ

ওদিকে কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লোদ ইযুঙ্কার জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট থেকে বলেছেন যে, গতায়াতের স্বাধীনতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আকরিক স্বাধীনতাগুলির মধ্যে গণ্য এবং তা থেকে ঠিক সেই দেশগুলি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে, যে সব দেশে পূর্ব ইউরোপ থেকে মানুষজন কাজের খোঁজে আসেন৷

অভিবাসন আজ ইউরোপের একটি বৃহত্তর সমস্যা

শুধু ইউরোপই নয়, বিশ্বে সমৃদ্ধি, শান্তি, শৃঙ্খলার ‘দ্বীপগুলি' ঠিক এভাবে ক্রমেই আরো বেশি চাপে পড়বে৷ দ্বিবিধ চাপ- সমৃদ্ধি বজায় রাখতে গেলে যে ধরনের ‘সস্তা' অথচ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিক দরকার, তা প্রথমে ‘নিকট' অভিবাসন, তারপর ‘দূরের' অভিবাসন দিয়েই একমাত্র মেটানো সম্ভব - কাজেই স্বদেশি শিল্প-বাণিজ্য-অর্থনীতির চাপ আসবে অভিবাসনের পথটা খোলা রাখার জন্য৷

অপরদিকে সমৃদ্ধ দেশে এক পর্যায়ে নাগরিক ও বাসিন্দারা দেখবেন, ধনি দেশের গরীব আত্মীয় হিসেবে তাঁরা যে সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাতে ভাগ বসানোর লোক আসছে৷ অন্যভাবে বলতে গেলে, বিশ্বায়নসহ সমৃদ্ধি অর্জনের প্রতিটি পথেই ‘উইনার্স' এবং ‘লুজার্স' থাকে, যাকে আমরা বাংলায় বলতে পারি ‘হিরো' এবং ‘হেরো'৷ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেই ‘হেরো'রাই সরকারের ওপর চাপ দেবে মানবিক ‘সংরক্ষণনীতির' দিকে ঝুকতে - যাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অথবা বহির্বিশ্ব, কারোরই মঙ্গল নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়