1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

জার্মানি ইউরোপ

অভিবাসনই লন্ডনের টেক স্টার্ট-আপ'দের সমস্যা

লন্ডন হলো ইউরোপের স্টার্ট-আপ ‘হাব', অর্থাৎ কেন্দ্রস্থল৷ টেক দুনিয়ার নতুন ইনোভেশন, নতুন বিজনেস আইডিয়া এখানেই সার্থক হতে পারে – যদি না ঠিকমতো কর্মী সংগ্রহ করতে গিয়ে ব্রিটেনের অভিবাসন নীতির সম্মুখীন হতে হয়৷

টেক স্টার্ট-আপগুলোকে বাড়তে গেলে, তাদের নতুন কর্মী নিতে হয়৷ কিন্তু ব্রিটেনের অভিবাসন নীতি ক্রমেই আরো সংকীর্ণ হওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী যে প্রতিভাধরদের ভাণ্ডার রয়েছে, তা থেকে কর্মী সংগ্রহ করা ক্রমেই আরো বেশি শক্ত হয়ে উঠছে৷

রয়টার্স সংবাদ সংস্থার ‘ইনসাইট' পর্যায়ে গত সপ্তাহে ব্রিটেনের দিকে নজর দেওয়া হয় এবং মার্কিন মুলুক থেকে লন্ডনে আগত এক টেক প্রতিভার কাহিনি শোনানো হয়৷ এফে কাকারেল তাঁর এমইউবিআই বা মুবি কোম্পানিটির গোড়াপত্তন করেন সাত বছর আগে৷ তখনও তিনি ক্যালিফর্নিয়ার পালো আল্টোতে থাকতেন৷ ২০১০ সালে তিনি লন্ডনে আসার সিদ্ধান্ত নেন, কেননা স্বদেশে থেকে নেটফ্লিক্স কিংবা হুলুর মতো বড় কোম্পানির গ্রাসে পড়ার ইচ্ছে তাঁর ছিল না৷

কেন? কারণ মুবি হলো একটি অনলাইন সার্ভিস, যা থেকে দিনে একটি ফিল্ম (অর্থাৎ কাহিনিচিত্র) অর্ডার করা যায়৷ কারাকেল তাঁর মুবি কোম্পানি নিয়ে ইউরোপে আসেন এবং অবশ্যই লন্ডনে আড্ডা গাড়েন – বিশেষ করে ব্রিটেন যখন তাঁকে বিশেষ দক্ষ কর্মীদের জন্য ‘স্পেশ্যাল' ভিসাটি প্রদান করে৷ সেযাবৎ কারাকেল-এর কোম্পানি প্রতি সপ্তাহে তিন শতাংশ করে বাড়ছে৷ কোম্পানিটি গোড়ায় মার্কিন মুলুক থেকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এনেছিল৷ তাই দিয়েই অফিসের ভাড়া, কর্মীদের মাইনে ইত্যাদি দেওয়া সম্ভব হয়েছিল৷ তার পর থেকে কোম্পানি বাড়তে থাকে: আজ মুবিতে ২০ জন মানুষ কাজ করেন এবং কারাকেল-এর আরো ডজন খানেক ভালো প্রোগ্রামার দরকার – যাঁদের তিনি পারলে সরাসরি সিলিকন ভ্যালি থেকে নিয়ে আসতেন৷ কিন্তু সে গুড়ে বালি দিয়েছে ব্রিটেনের অভিবাসন নীতি৷

ভিসা বাতিল

কারাকেল যে ভিসায় ব্রিটেনে এসেছিলেন, তা বাতিল হয়ে গেছে ২০১২ সালে৷ টায়ার ওয়ান পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা বলে যে ভিসাটিতে ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটিগুলির বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা পড়াশুনা শেষ করার পর অন্তত কিছুদিন ব্রিটেনে কাজ করার সুযোগ পেতেন – তা-ও বাতিল করা হয়েছে৷ অবশ্যই লন্ডনের টেক সম্প্রদায় প্রচুর চেঁচামেচি করার পর গত এপ্রিল মাস থেকে একটি টায়ার ওয়ান ‘এক্সেপশনাল ট্যালেন্ট' বা ‘ব্যতিক্রমী প্রতিভা' ভিসা চালু করা হয়েছে, কিন্তু তার কোটা হলো বছরে দু'শোটি ভিসা৷ অথচ লন্ডনে টেক স্টার্ট-আপ'এর সংখ্যা প্রায় এক হাজার এবং তাদের মধ্যে একশো'টি সংস্থা লোক নিচ্ছে৷ কাজেই ব্যতিক্রমী প্রতিভাদের কোটায় সে খাঁই মিটবে না৷

এই পরিস্থিতিতে লিংকডইন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক গত মে মাসে বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে যে, লিংকডইন-এর টেক দক্ষতা সম্পন্ন সদস্যদের মধ্যে অধিকাংশ নতুন চাকুরি নিচ্ছেন ভারতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ায় – বার্লিন, মন্ট্রিয়ল এবং টরোন্টো, সকলেই লন্ডনকে ছাড়িয়ে গেছে৷ যাঁরা স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠা করেন, তাঁরা বলছেন, যে সব দেশের সরকার উচ্চ দক্ষতার অভিবাসী আকর্ষণ করায় সেরা ফলাফল দেখাচ্ছেন, সেগুলি হলো অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ক্যানাডা, চিলি এবং জার্মানি৷

কাজেই লন্ডনকে কোনো একটা পন্থা ভাবতে হবে: ইউকেআইপি-র মতো অভিবাসন-বিরোধী দলের বিপুল সাফল্যে চমকে গিয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না৷ কারাকেল যেমন বলেছেন: ‘‘লোক চাই, লোক দিয়েই কাজ হয়৷ তোমার যদি প্রতিভাধরদের ধরে রাখার মতো নীতি না থাকে, তাহলে সেই প্রতিভা অন্য কোথাও যাবে৷''

এসি/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন