1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

অবৈধ ডাউনলোডের দায় নেবে না ইন্টারনেট সেবাদাতারা

দিনে দিনে ইন্টারনেটের গতি যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ডাউনলোডের পরিমাণও৷ ছোট্ট এমপিথ্রি গান থেকে শুরু করে পুরো সিনেমা - সবই এখন ডাউনলোড হয় ইন্টারনেটে৷ বিষয়টি গ্রাহকের জন্য উপভোগ্য হলেও, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত৷ এযে অবৈধ!!!

default

ফাইল ফটো

বিশ্বজুড়েই আলোচনায় বিষয় কপিরাইটস বা মেধাসত্ত্ব৷ ইন্টারনেট ডাউনলোডে এই বিষয়টি খুব একটা পাত্তা পায়না৷ বিশেষত যখন কেউ অবৈধভাবে কোন কিছু ডাউনলোড করে৷ একবার ভাবুন, হালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘অবতার' তৈরিতে নাকি খরচ হয়েছে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার৷ আর সেই ছবি কিনা আপনি ইন্টারনেটে নামিয়ে নিলেন বিনা খরচায়! পরিচালক, নির্মাতারা তাহলে সিনেমার খরচ তুলবে কিভাবে বলুন?

অবতার-এর ক্ষেত্রে অবৈধ ডাউনলোড খুব একটা সমস্যা না করলেও অনেক সিনেমা নির্মাতাদের বা সঙ্গীত সংস্থার জন্য এটা বড় মাথাব্যাথার কারণ৷ আর তাই তারা দল বেঁধে মামলা ঠুকেছিল অস্ট্রেলিয়ার এক ইন্টারনেট সেবাদাতার বিরুদ্ধে৷ উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীদের অবৈধ ডাউনলোডের দায়ভার ইন্টারনেট সেবাদাতার উপর ফেলা৷ কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার আদালত নির্মাতাদের এই কষ্ট বুঝি আরো বাড়িয়ে দিল৷ কারণ, আদালতের রায় বলছে অবৈধ ডাউনলোডের দায় ইন্টারনেট সেবাদাতারা নিতে পারেনা৷

একথা সত্য যে, ইন্টারনেট ডাউনলোড অনেকটাই কমাতে পারে সেবাদাতারা৷ কারণ তাদের হাতেই আছে ব্যবহারকারীকে পুরো নিয়ন্ত্রণের চাবি৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোনটা বৈধ ডাউনলোড আর কোনটা অবৈধ সেটা গুণে গুণে দেখা কি চাট্টিখানি কথা! তারপরও অস্ট্রেলিয়ায় করা এই মামলাটির দিকে নজর রাখছিলেন সারাবিশ্বের চলচ্চিত্র নির্মাতা, সঙ্গীত প্রকাশক এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো৷ কারণ অস্ট্রেলিয়ায় ঐ রায় নির্মাতাদের পক্ষে গেলে সারাবিশ্বেই তা উদাহরণ হয়ে থাকতো৷

কিন্তু সেটা হলনা৷ আর তাই মামলা ঠোকা ইউনিভার্সাল পিকচার্স, ওয়ার্নার ব্রাদার্স আর টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরির ফক্স এর মতো নামজাদা ৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে আদালতের দরজা থেকে ফিরতে হলো ব্যর্থমনোরথ হয়ে৷

এদিকে, যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে অবৈধ ডাউনলোড নাকি ঘরের চেয়ে অফিসে হয় বেশি৷ আর তার কারণ হচ্ছে, অফিসের কর্পোরেট ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের ডাউনলোড গতি থাকে অনেক বেশি৷ তাই অফিস কর্মীরা কাজের ফাঁকে ফাঁকি দিয়ে প্রয়োজনীয় অবৈধ(?) ডাউনলোডটাও সেরে নেন৷ স্ক্যানসেফ নামক ইন্টারনেটের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানটি চালিয়েছে এই তথ্য৷ তাদের ভাষায়, গত তিনমাসে বিভিন্ন অফিস নেটওয়ার্কে অবৈধ এমপিথ্রি, সফটওয়্যার আর সিনেমা ডাউনলোডের পরিমাণ নাকি বেড়েছে ৫৫ শতাংশ!

অবৈধ ডাউনলোডের কারণে ভুগছে দক্ষিণ এশিয়া বিশেষত ভারতের নির্মাতা, সঙ্গীতজ্ঞরাও৷ গত বছর ভারতের ফেডারেশন অফ চেম্বারস এন্ড কমার্সের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ভারতের সঙ্গীত শিল্পে সাত ৭.৩ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়েছে, তিন বছর আগে এই ব্যবসার পরিমাণ ছিল ৮.৩ বিলিয়ন ইউরো৷ শুধু তাই নয়, ২০১৩ সালের মধ্যে এই খাতে ব্যবসার পরিমাণ নয় শতাংশ কমবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, অবৈধ ডাউনলোডের কারণে কেমন ব্যবসা হারাচ্ছে সংগীত শিল্প৷

প্রতিবেদক: আরাফাতুল ইসলাম

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট বিষয়