1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অবৈধভাবে বন উজাড় মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে

আগে বলা হত গাছপালা কাটলে পরিবেশের ক্ষতি হয়৷ জলবায়ু পরিবর্তনেও সেটা ভূমিকা রাখে৷ এখনও কথাটি শতভাগ ঠিক৷ শুধু এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানবাধিকার সংকট৷

কারণ অবৈধভাবে যারা গাছ কাটে, তারা সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার সহ অন্যান্য শক্তিশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চলে৷ ফলে অনেকটা বিনা বাধায় কাজটি করতে পারে তারা৷ কিন্তু বিভিন্ন বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে৷ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে যতটা সম্ভব বন ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে লড়ছে এসব সংস্থা৷ এই কাজের সঙ্গে বন ও তার নিকটে বসবাসকারীদের যুক্ত করছে তারা৷ কিন্তু এভাবে কাজে বাধা পাওয়ায় অবৈধভাবে যারা বন ধ্বংস করছে তারা বাধা কাটাতে মানুষ হত্যার মতো কাজও করছে বলে জানা গেছে৷

মার্কিন ফ্রিল্যান্স লেখক আলেক্সান্ডার জাইটচিক মনে করেন, অবৈধভাবে বন ধ্বংস একসময় জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য হুমকিস্বরূপ হলেও দিন দিন সেটা একটি মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে৷ সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর এক প্রবন্ধে তিনি গত সেপ্টেম্বরে পেরুতে দুর্বৃত্তদের হাতে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেছেন৷ আমাজন রেনফরেস্টে অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে যারা জড়িত তারাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ৷ কারণ অবৈধভাবে গাছ কাটা বন্ধ করার কার্যক্রমের সঙ্গে নিহতরা বেশ কয়েক বছর ধরে জড়িত ছিলেন৷ এবং এ কাজ বন্ধ না করলে তাদের মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়েছিল৷ এভাবে ২০০২ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এশিয়া ও দক্ষিণ অ্যামেরিকার বিভিন্ন দেশে প্রায় ৯০০ জনকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে বলে জাইটচিক তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন৷ হত্যা ছাড়াও অবৈধ বন ধ্বংসকারীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বন এলাকায় বাস করা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন৷

জাইটচিক বলেন, ফার্নিচার তৈরির কাজে ব্যবহৃত ভারী ও টেকসই কাঠের মূল্য গত ১০ বছরে দ্বিগুন হয়েছে৷ এছাড়া দিন দিন এই কাঠের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অবৈধভাবে গাছ কাটার পরিমাণ বেড়েই চলেছে৷ আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘দি এনভায়রনমেন্টাল ইনভেস্টিগেশন অ্যাজেন্সি'-র মতে, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পেরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যত কাঠ রপ্তানি হয়েছে তার এক-তৃতীয়াংশের বেশি অংশ অবৈধভাবে সংগ্রহ করা৷

জাইটচিকের প্রবন্ধটি টুইটারে শেয়ার করেছেন অনেকে৷

পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার' বা ডাব্লিউডাব্লিউএফ-এর হিসেবে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যে কাঠের ব্যবসা চলছে তার ১৫ থেকে ৩০ ভাগই অবৈধ উপায়ে সংগ্রহ করা৷ এটি এখন মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হয়েছে৷

পাম তেল উৎপাদনের জন্য পাম গাছ লাগানোর জায়গা খুঁজতে গিয়েও আজকাল বন ধ্বংস করা হচ্ছে৷ এভাবে উৎপাদিত তেল মার্জারিন, বিস্কুট, ব্রেড তৈরিতে ব্যবহৃত হয়৷ এছাড়া মেকআপ, ত্বকের ক্রিম, শ্যাম্পু ইত্যাদিতেও পাম তেলের ব্যবহার রয়েছে৷ ফলে এসব জিনিস ব্যবহার করতে গিয়ে কোনো না কোনোভাবে অবৈধ গাছ কাটার বিষয়টিকে উৎসাহ দেয়ার সঙ্গে মানুষের জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে৷

এভাবে নিজের অজান্তে অবৈধ কাজকে প্রশ্রয় দেয়া থেকে কীভাবে বিরত থাকা যাবে সে সম্পর্কে কিছু পরামর্শ পাওয়া যাবে এই টুইটের লিংকে৷

সংকলন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়