1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অবিকল নকল সৃষ্টি করতে থ্রিডি প্রিন্টিং

থ্রিডি প্রিন্টিং ধীরে ধীরে এমন এক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, যেখানে খালি চোখে আসল আর নকলের মধ্যে তফাত বোঝার জো নেই৷ জার্মান বিজ্ঞানীরা এক বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে নকলের মান আরও উন্নত করে তুলেছেন৷

একটি আপেল – দেখলে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সেটি আসলে থ্রিডি কপি৷ নকল বলে চেনার কোনো উপায় নেই৷ এর পেছনে যে প্রিন্টিং প্রযুক্তি রয়েছে, তা অক্টোপাসের কাছ থেকে ধার নেওয়া৷ অক্টোপাস গোত্রের কাটলফিশ ভোল বদলের কাজে ওস্তাদ৷ পরিবেশ অনুযায়ী সে নিজেকে এমনভাবে ক্যামোফ্লাজ করে ফেলে যে, শত্রুরা তাকে চিনতেই পারে না৷ নতুন ধরনের ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সে এক নিখুঁত আদর্শ৷

ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট-এর ড.ফিলিপ উরবান নতুন এই সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘সত্যি আমরা কাটলফিশ থেকে প্রেরণা পেয়েছি, কারণ সে কম রং নিয়েও নিখুঁতভাবে পারিপার্শ্বিকের সঙ্গে মিশে যেতে পারে৷ তার ত্বকে ‘ক্রোম্যাটোফোর' নামের ক্ষুদ্র রংয়ের ঝুলি রয়েছে৷ তা দিয়ে সে পানির নীচে সব রকম রং মেলে ধরতে পারে৷ এমনকি তার ত্বকের কাঠামো ও বিন্যাসও ফুটে ওঠে৷ একইভাবে আমাদের সফটওয়্যার থ্রিডি প্রিন্টিং করে৷''

গবেষকরা প্রিন্টিং-এর ক্ষেত্রে যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, ক্যামোফ্লাজ করতে কাটলফিশ-এরও সেই একই সমস্যার মুখে পড়তে হয় – অর্থাৎ ত্বকের মধ্যে সীমিত সংখ্যার রং দিয়ে পারিপার্শ্বিকের নিখুঁত নকল করা৷ ড. উরবান বলেন, ‘‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এই সিস্টেম মাত্র চারটি উপাদান ব্যবহার করতে ও একটি বস্তুর মধ্যে তার কম্বিনেশন করতে পারে৷ অথচ আমাদের আশেপাশের জগত রংয়ে ভরা৷ অর্থাৎ এই সব উপাদানকে এমনভাবে সাজাতে হয়েছে, যাতে ত্রুটিগুলি – মানুষের চোখে ধরা পড়ে না – এমন অংশে সরিয়ে দেওয়া হয়৷''

ডার্মস্টাট শহরে ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউটের তৈরি ওয়েবসাইট-ভিত্তিক এই প্রিন্টার সফটওয়্যার আসলে এক ধরনের ‘ইউনিভার্সাল প্রিন্টার ড্রাইভার', যা সব থ্রিডি প্রিন্টারে কাজে লাগানো সম্ভব৷ প্রিন্টিং-এর পর বস্তুটি কেমন দেখাবে, ‘প্রিভিউ'-এর মাধ্যমে আগেই তা দেখে নেওয়া যায়৷ ফলে ভুলত্রুটি আগেই শুধরে নেওয়া যাবে৷ মনে রাখতে হবে, প্রিন্টিং-এর উপাদান এখনো খুব দামি, এক কিলোর দাম প্রায় ৪০০ ইউরো৷

ডার্মস্টাট শহরের বিজ্ঞানীরা তাঁদের গবেষণার জন্য সবচেয়ে নতুন প্রজন্মের থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহার করছেন৷ প্রিন্টারের ‘নজল' চার রকম বিশেষ কালি নিক্ষেপ করে৷ মূল বস্তুটির জন্য ম্যাজেন্টা, সায়ান, ব্লু ও হোয়াইট – মুদ্রনের জগতে যাকে সিএমওয়াইকে বলা হয়৷ এছাড়া ফাঁপা অংশকে মজবুত করতে বিশেষ উপাদান যোগ করা হয়৷ ড. উরবান বলেন,

‘‘তথাকথিত তরল ফটো-পলিমার-এর সাহায্যে প্রিন্ট করা হয়৷ এটা এক ধরনের কালি, যা ইংক-জেট প্রক্রিয়ায় স্প্রে করা হয়৷ সাধারণ ইংক-জেট প্রিন্টার যেমনটা করে থাকে৷ এরপর আল্ট্রা ভায়োলেট বা অতি বেগুনি রশ্মি দিয়ে কালিকে শক্ত করা হয়, একের পর এক স্তরে নকল বস্তুটি গড়ে তোলা হয়৷''

নেফারটিটি-র আবক্ষ মূর্তি থেকে এই সফটওয়্যার কয়েক হাজার স্তরের ছবি তুলেছে৷ সেগুলির সাহায্যে একের পর এক স্তর ‘প্রিন্ট' করা যায়৷ জটিল অ্যালগোরিদম-এর মাধ্যমে মূল বস্তুর অত্যন্ত বাস্তবসম্মত নকল গড়ে তোলা হয় – একেবারে উন্নততম হাই-রেজোলিউশন থ্রিডি প্রযুক্তিতে৷ এক বর্গ সেন্টিমিটারে প্রিন্টারটি ৯০ লাখ বিন্দু স্প্রে করে৷ গবেষকরা অবশ্য শুধু বস্তুর আকার ও তার সারফেস নকল করে সন্তুষ্ট নন৷ ড. উরবান বলেন, ‘‘শুধু আকার ও বিন্যাস ফুটিয়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য নয়৷ অন্যান্য ‘এফেক্ট'-ও নকল করতে চাই – যেমন বস্তুটির আলোকচ্ছটা, আলোর সামনে তার স্বচ্ছতার মাত্রা, প্রতিফলন ইত্যাদি৷ অর্থাৎ বস্তুটি ঘোরালে যাতে নানারকম রং সৃষ্টি হয়৷ আসলে আমরা আমাদের চারিপাশের জগত নকল করতে চাই৷''

আলোর সামনে স্বচ্ছতার মাত্রার ক্ষেত্রে গবেষকরা যে সাফল্য অর্জন করেছেন, তার জন্য তাঁরা গর্ব অনুভব করেন৷ শুধু বাইরের দৃশ্যমান স্তরেই রং ব্যবহার করা হয়৷

বস্তুর ত্রিমাত্রিক নকল প্রিন্ট করার প্রবণতা বেড়েই চলেছে৷ গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রিন্ট করা হয়৷ কখনো হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া থেকে শিল্পসামগ্রী রক্ষা করা হয়, কখনো বা নতুন কোনো পণ্যের বিকাশের প্রক্রিয়া এভাবে আরও দ্রুত করে তোলা হয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়