1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অবরোধে শুরু নতুন বছর, তবুও স্বপ্নময় বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ২০১৩ সালে যে রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়, তার মধ্য দিয়েই ২০১৪-র যাত্রা শুরু৷ ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন থেকে লাগাতার অবরোধ৷ সড়ক, সহাসড়ক, রেলপথ, নৌপথ আর অবরুদ্ধ রাজপথ মানে স্থবির জীবন, নিশ্চল প্রিয় স্বদেশ৷

এমন বাংলাদেশ আশা করেননি টগবগে তরুণ ইরফান আহমেদ৷ দু'বছর আগে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তখন তাঁর চোখে ছিল সত্যিই এক ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর স্বপ্ন৷ কিন্তু এখন তিনি মনে করেন, উল্টো পথে হাটছে তাঁর দেশ৷ তাঁর স্বপ্নও ফিকে হয়ে এসেছে৷ তাঁর একটিই কথা, ‘‘বাধা না দিলে বাংলাদেশ আপন শক্তিতে এগিয়ে যাবে৷ অথচ যাঁদের এই অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা করার কথা, সেই রাজনীতিবিদরাই বাংলাদেশকে পিছনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন৷''

কেন এমন হচ্ছে? জানতে চেয়েছিলাম ঢাকার তরুণ সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নার কাছে৷ তাঁর সাফ জবাব, রাজনীতিবিদরা দেশের কথা ভাবেন না৷ তাঁরা ভাবেন ক্ষমতার কথা৷ রাজনীতি এখন বাংলাদেশে একটি বড় ব্যবসা৷ আর ক্ষমতায় থাকলে কিছু না করে কাড়ি কাড়ি টাকা উপার্জন সম্ভব৷ তাই কেউই ক্ষমতা ছাড়তে চান না৷ দেশের মানুষ তাঁদের কাছে রাজনীতির গিনিপিগ৷

১লা জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবরোধ কবে শেষ হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না৷ কারণ এই অবরোধের মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধী ১৮ দল ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করতে চায়৷ ওদিকে সরকার কোনোভাবেই এই নির্বাচন থেকে সরে আসবে না৷ তাই যুদ্ধ চলবে দুই রাজনৈতিক জোটের মধ্যে৷ আর তাতে পুড়বে মানুষ, ব্যবসা বন্ধ হবে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পথে বসবেন, রপ্তানিতে ধস নামবে, স্কুল-কলেজ লাটে উঠবে৷

তারপরও চলবে এই ‘গণন্ত্রের লড়াই'৷ বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আহমেদ আজম খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তাদের হাতে আর কোনো বিকল্প নেই৷ তাঁর কথা, সরকারই দেশকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে৷ গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে৷ তাই এই সরকারের বিদায় এবং সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া সংকট কাটবে না৷

Bangladesch Demonstrationen in Dhaka 30. Dez. 2013

বাংলাদেশ নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্রগুলিরও চিন্তার কমতি নেই

মজার বিষয়, এর ঠিক বিপরীত কথা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের৷ তিনি বলেন, দেশের এই সংকটে জন্য দায়ী বিরোধী দল৷ তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে সহিংসতা চালাচ্ছে৷ গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করতে চাইছে৷ তারা চাচ্ছে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে৷ কিন্তু নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়ার আর কোনো পথ নেই৷ ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের ট্রেন ‘মিস' করে তারা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে৷

সিপিডি-র অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, অল্প সময়ে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সব সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশের৷ সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সূচক সে কথাই বলে৷ উত্পাদন, রপ্তানি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রেমিটেন্স – সব কিছুই ইতিবাচক৷ তার সঙ্গে আছে পরিশ্রমী ও মেধাবী তরুণরা৷ আছে তাঁদের নতুন চিন্তা এবং উদ্যোগ৷ নেই শুধু ইতিবাচক রাজনীতি৷ তিনি বলেন, দায় না নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি, সহিংসতার রাজনীতি যদি চলতে থাকে, যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে বাংলাদেশের সব সম্ভাবনা, সম্ভাবনাই থেকে যাবে৷

বাংলাদেশ নিয়ে বন্ধু রাষ্ট্রগুলিরও চিন্তার কমতি নেই৷ আবারও দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা৷ মঙ্গলবার তিনি ‘অবরুদ্ধ' খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের পর সহিংসতা বন্ধে এখনই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন৷ এছাড়া, ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট গিবসন সোমবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার পর, মঙ্গলবার দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে৷ অ্যাজেন্ডা একটাই: সহিংসতা বন্ধ, সংলাপ আর সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন৷

Bangladesch Ausschreitungen 29. Dez. 2013

লাগাতার অবরোধ কবে শেষ হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না

২০১৩ সালের শুরুর দিকে তাজরীন ফ্যাশানস-এ আগুন, তারপর রানা প্লাজা ধস৷ বাংলাদেশকে এক ‘নেগেটিভ ইমেজ'-এর মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়৷ বছর শেষে রানা প্লাজা নিয়ে তাসলিমা আক্তারের ছবি আবারো বিশ্বকে তা মনে করিয়ে দিয়েছে৷ অন্যদিকে, রাজনীতির পেট্রোল বোমা যেন এখন বাংলাদেশের পুরো ইতিবাচক ইমেজটাকে পুড়িয়ে দিতে চাইছে৷ তাই তো, এবারের ‘থার্টি ফার্স্ট'-এ ঘরোয়া আয়োজনের বেশি কিছু করার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ৷

তাহলে কি এভাবেই সব কিছু ভেঙে পড়বে? ‘না' – দৃঢ় জবাব ইরফান আর পান্নার৷ তাঁরা বলেন, রানা প্লাজার ছবি তুলে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলা মেধাবী ফটোগ্রাফার তাসলিমা বাংলাদেশেরই একজন৷ শুধু তাসলিমা নয়, দেশে-বিদেশে এরকম অনেক বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে৷ কৃষক আর শ্রমিক তাদের ঘামে অর্থনীতি সচল রাখছে৷ তাই পরিবর্তন আসবেই৷ আসতেই হবে৷ ইরফান আর পান্নার কথায়, কোনো গোষ্ঠীর ক্রীড়নকে পরিণত হতে পারে না মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ৷ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই পথ দেখাবে৷ বাংলাদেশকে একদিন নিয়ে যাবে স্বপ্নের বাংলাদেশে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়