1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অবরোধ তুলে না নিলে চুক্তি স্বাক্ষর করবে না ইরান

প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি বলেন, অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে না নিলে তাঁর দেশ পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না৷ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরের এক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের পক্ষে এ কথা বললেন৷

বুধবার আণবিক প্রযুক্তি দিবস পালন করেছে ইরান৷ আণবিক গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের সব অর্জন উদযাপনের দিনে প্রেসিডেন্ট রোহানি বলেন, ‘‘চুক্তি কার্যকর শুরুর প্রথম দিনেই সব অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে না নিলে আমরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবো না৷''

গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের লোসানে টানা আট দিনের আলোচনা শেষে ছয় বিশ্বশক্তি, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানির সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে খসড়া চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান৷ চুক্তি অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা ধীরে ধীরে কমাবে৷ খসড়া চুক্তিতে বলা হয়, ইরান তার পারমাণবিক ক্ষমতা দুই তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনবে৷ পরমাণু গবেষণাও ধীরে ধীরে বন্ধ করা হবে৷ চুক্তি অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)৷ চুক্তি অনুযায়ী কাজ হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে- এ কথাও বলা হয়েছে চুক্তিতে ৷ ৩০ জুনের মধ্যে দু পক্ষের মূল চুক্তিতেও স্বাক্ষর করার কথা৷

কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তির বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান৷ রোহানি সরকারের ওপর দেশের জনগণের প্রত্যাশার চাপ এর একটা কারণ হতে পারে৷

খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরের পর উল্লাসে মেতে ওঠে ইরান৷ ইরানের সর্বস্তরের মানুষ মনে করছে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং দেশের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা সরে যাবে, যার অর্থ, আবার মুক্ত হবে ইরান৷ ইরানের মানুষ অনেক বছর ধরে এমন একটি দিনের অপেক্ষায়৷

শুক্রবার খসড়া চুক্তি স্বাক্ষরের আনন্দে উদ্বেল মিনা দেরাখশান্দে বলছিলেন, ‘‘অবশেষে সব শেষ হলো৷ (ইরানের) নির্বাসনপর্ব শেষ৷ অর্থনৈতিক দুরবস্থা এখন কেটে যাবে৷ রোহানি কথা রেখেছেন৷'' বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মিনা সঙ্গে এ-ও বলেছেন, ‘‘(চুক্তি নিয়ে) আলোচনাটা ব্যর্থ হলে আমাদের, অর্থাৎ ইরানের মানুষদের সর্বনাশ হয়ে যাবে৷ এমন কথা আমি ভাবতেই পারিনা৷''

ইরানের অধিকাংশ মানুষের মনের কথাই বলেছেন মিনা৷ আণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আশ্বাস দিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন হাসান রোহানি৷ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চুক্তি না হলে এবং সে কারণে অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার না হলে ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট ব্যাপক রূপ নেবে৷ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ করিম সাদজাদপুর মনে করেন, ‘‘চুক্তি ফলপ্রসূ না হলে বেশিরভাগ অ্যামেরিকান এ নিয়ে হয়তো মাথাই ঘামাবেনা, কিন্তু ইরানিদের খুব খারাপ অবস্থা হবে৷'' জনগণের প্রত্যাশার এমন চাপের কারণেই হয়তো চুক্তি চুক্তি কার্যকর শুরুর দিনেই অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে না নিলে চুক্তিতে স্বাক্ষর না করার হুমকি দিয়েছেন হাসান রোহানি৷

এসিবি/এসবি (এপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়