1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অফিসে অফিসে ঘুসখোর ধরার কুমির!

ইন্দোনেশিয়ায় নাকি এমন কারাগার হবে যেখানে পাহাড়াদার হবে কুমির৷ পুলিশ ঘুস খায়, কিন্তু কুমির তা খায় না৷ কুমির খায় মাংস৷ তাই ঘুস দিতে গেলে আসামিকেই খেয়ে ফেলবে কুমির৷ ঘুস বন্ধ করতে বাংলাদেশের কিছু অফিসেও কি কুমির রাখা যায়?

ইন্দোনেশিয়ার মাদক বিরোধী সংস্থার প্রধান বুদি ওয়াসেসো বোধহয় গত কয়েকদিনে বিশ্বের সব দেশের সংবাদমাধ্যমেই বেশ প্রচার পেয়েছেন৷ প্রচার প্রাপ্তির কারণ মাদক পাচারকারী বা ব্যবসায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে তাঁর অদ্ভুত এক পরিকল্পনা৷ সারা ইন্দোনেশিয়া ঘুরে তিনি এমন এক দ্বীপ বেছে নেবেন, যেখানে বড় একটি কারাগার তৈরির জায়গা আছে৷ সেই দ্বীপে কারাগার তৈরি সেখানে শুধু মাদক পাচারের কারণে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদেরই রাখা হবে৷ কারাপ্রহরী হিসেবে থাকবে কুমির৷

এমন কারাগারের পক্ষে অদ্ভুত কিছু যুক্তি দেখিয়েছেন বুদি ওয়াসেসো৷ প্রথমত, বিভিন্ন সময় ধরা পড়া মাদকপাচারকারীরা যেভাবে পুলিসকে ঘুস দিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়, সেই কারাগারে পুলিশের জায়গায় কুমির থাকবে বলে আসামি ঘুস দিয়ে পালাতে পারবে না৷ ঘুস দিতে গেলে কুমির ঘুসদাতাকেই খেয়ে ফেলবে৷

দ্বিতীয়ত, কুমির মাংস খায়, এটা তার অধিকার৷ সুতরাং মাদকপাচারকারীদের ফাঁসি দিলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো যে ‘মানবাধিকার লংঘিত হয়েছে', ‘মানবাধিকার লংঘিত হয়েছে' বলে শোরগোল তোলে, কুমির আসামিকে খেলে তা হবে না৷ মাংস খাওয়া কুমিরের অধিকার মানুষের মাংস খাওয়াও তাদের অধিকার৷ বুদি ওয়াসেসো মনে করেন, কোনো আসামি যদি কুমিরের ‘খাবার' হয়, তাহলে কুমিরের অধিকার রক্ষিত হবে, কিন্তু মানবাধিকার লংঘিত হবে না৷

ইন্দোনেশিয়ার ওই কর্মকর্তার বক্তব্যে অনেকেই অবাক৷ কেউ কেউ মজাও পেয়েছেন৷ একজন মজা করে বলেছেন, সীমান্তরক্ষী হিসেবেও তিনি কুমিরের কথা ভাবছেন৷

বাংলাদেশেও ঘুস, দুর্নীতি বন্ধ করতে কুমিরদের সহায়তা নিলে কেমন হয়? ঘুসখোরদের তো এখন লজ্জা-শরম-ভয়-ভীতি বলে কিছু আছে বলেও মনে হয় না৷ ক'দিন আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি রপ্তানি কার্যালয় (সিসিআইই)-এর নিয়ন্ত্রক মো. শহিদুল হকের গুনে গুনে ঘুস খাওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল৷ তাকে অবশ্য সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে৷

দু-একজনকে শুধু সাময়িক বরখাস্ত করলে তো ঘুসখোরদের দৌরাত্ম কমে না৷ তাই শহিদুল সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার কাছাকাছি সময়ই দেখা গেল আরেকটি ভিডিও৷ সেখানে সাংবাদিককে ৫০ হাজার টাকা ঘুস সাধছেন, টাকা ফিরিয়ে দেয়ায় খুব মান-অভিমানের অভিনয়ও করলেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা৷ ঘুস না নেয়ায় ওই কর্মকর্তা পরে সাংবাদিককেই ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে৷

বাংলাদেশে এমন কোনো কার্যালয় আছে, যেখানে ঘুস খাওয়ার সুযোগ আছে কিন্তু ঘুস কেউ খায় না? আছে এমন পেশা যা পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত? যেসব কার্যালয়ে দুর্নীতি, ঘুসপ্রীতি চরমে উঠেছে, সেখানে কুমির রাখলে কেমন হয়? ঘুস-দুর্নীতি কমবে তো? নাকি মাংসখেকো কুমিরই শেষে ঘুসখেকো হয়ে যাবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা থাকলে জানিয়ে দিন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন