1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অফিসবাড়ি থেকে ফ্ল্যাটবাড়ি

প্রোমোটাররা যখন লাভের আশায় অফিসবাড়ি বানিয়ে তা ভাড়া দিতে পারেন না, তখন তারা কী করেন? তখন অন্য প্রোমোটাররা এসে সেই অফিসবাড়িকে ফ্ল্যাটবাড়ি বানান৷ ঠিক এমনটাই ঘটেছে জার্মানির ফ্রাংকফুর্ট শহরের নিডাররাড এলাকায়৷

default

নিডাররাড শহর

সেটা নগর উন্নয়নের একটা পন্থা হতে পারে, কিন্তু অফিস এলাকাকে আবাসিক এলাকায় পরিবর্তন করার কাজটা সময়সাপেক্ষ৷ প্রোমোটারদের ধৈর্য ধরতে হয়৷ যেমন ফ্রাংকফুর্ট সিটি থেকে নিডাররাড এলাকাটি গাড়িতে মাত্র দশ মিনিট৷ তা সত্ত্বেও একটি বহুতল অফিসবাড়ি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে খালি পড়ে ছিল৷

বাড়ি তৈরির প্রোমোটার আটিলা ও্যজকান এই পরিস্থিতি বদলাতে চেয়েছিলেন: কেউ যদি অফিস না খুলতে চায়, তাহলে এখানে মানুষজনের বাস করতে বাধা কোথায়?

ও্যজকান-এর যুক্তি হল: ‘‘এই নিডাররাড এলাকাটি আশির দশকে নতুন অফিস-পাড়া হিসেবে গড়ে ওঠে, কিন্তু সে পরিকল্পনা সফল হয়নি৷ অপরদিকে ফ্রাংকফুর্টে বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট খুঁজে পাওয়া দুষ্কর৷ কাজেই বিকল্পের খোঁজ চলেছে৷ নিডাররাড সেই ধরনের একটি বিকল্প৷''

অফিসপাড়ার ভেতরে অফিসবাড়ির মধ্যে বাস? এখনও সেটা ব্যতিক্রম৷ সাবেক অফিসবাড়ি থেকে বাসের উপযোগী ফ্ল্যাটবাড়ি তৈরি করাটা খুব সহজ কাজ নয়: প্রোমোটার আটিলা ও্যজকান বাড়ির নকশা অনুসরণ করেননি৷ সুবিশাল অফিসের এক-এক তলা মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে ১৯৬টি খুদে ফ্ল্যাট তৈরি করেছেন৷ বাড়ির কাঠামোর উপরে তাঁকে কোনো খরচ করতে হয়নি৷ বিপদটা অন্যত্র৷ ও্যজকান ব্যাখ্যা করলেন: ‘‘আমরা জানি না, বাড়িটা কী ধরনের মালমশলা দিয়ে তৈরি৷ সেটা অবশ্য এখানে-সেখানে স্যাম্পল নিয়ে দেখা সম্ভব – সেই মালমশলায় কাজ হবে, না বাড়ির খোলনলচে পালটাতে হবে৷ এ সবই ব্যয়সাপেক্ষ, কাজেই এ সব ফ্ল্যাট তৈরির খরচ বেড়ে যাবে৷''

আটিলা ও্যজকানের মতো যারা ফ্রাংকফুর্টের নিডাররাড এলাকায় বিনিয়োগ করতে চান, তাদের সে ঝুঁকি নিতে হবে৷ অফিসবাড়ি ভাড়া দিয়ে যে বসতবাড়ির চেয়ে অনেক বেশি মুনাফা করা যায়, এ নিয়ম নিডাররাডের বেলায় খাটে না৷ স্থপতি একার্ট ফন শোয়ানেনফ্লুগ বলেন: ‘‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, নিডাররাড অফিসপাড়ায় অফিসবাড়ির ভাড়া স্থানীয় বসতবাড়ির ভাড়ার চেয়ে অনেক নীচে নেমে গেছে৷

কাজেই যারা অফিসবাড়ি থেকে বসতবাড়ি বানানোর কাজ করেন, তাদের পক্ষে এটা সুখবর বৈকি৷''

এই ‘‘পরিবর্তনের'' পরাকাষ্ঠা হল এই অফিস টাওয়ার-টি৷ বাড়িটিতে আজ মোট একশো'টি আংশিক আসবাব সম্বলিত ফ্ল্যাট রয়েছে৷ ফ্ল্যাটের জানলা খুললে অনেকদূর চোখ যায়৷ কাজেই ফ্ল্যাটগুলোর চাহিদা ভালোই৷ রোজকার বাজার করার সুপারমার্কেট কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁরও কোনো অভাব নেই: ধীরে ধীরে একটা গোটা আবাসিক এলাকা গজিয়ে উঠেছে৷ বিশেষজ্ঞরা সে বিষয়ে বিশেষ সুখী নন৷ ফন শোয়ানেনফ্লুগ মনে করেন: ‘‘তবে এ থেকে দ্রুত সাফল্যের আশা না করাই ভালো৷ বরং তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে, এমনটা ধরে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, কেননা লক্ষণীয় প্রগতি ঘটতে ঠিক ততোটাই সময় লাগবে৷''

বিনিয়োগকারীরা অবশ্য আশা রাখেন যে, শীঘ্রই মোট ছ'হাজার মানুষ এখানে বাস করবেন এবং এলাকাটি জমজমাট হয়ে উঠবে৷ কারণ হিসেবে ও্যজকান জানালেন: ‘‘প্রকল্পটি সফল হবে, কেননা এর কাছেই প্রায় এক লাখ মানুষ চাকুরি করেন৷ অথচ এই এলাকায় বসতবাড়ি প্রায় নেই বললেই চলে৷ নিডাররাডের কাছেই রয়েছে ফ্রাংকফুর্ট বিমানবন্দর ও একটি বড় হাসপাতাল৷''

পৌর কর্তৃপক্ষও এখন চাকুরিজীবী পরিবারবর্গের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজে উৎসাহ দিচ্ছেন৷ তবুও আপাতত দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ডেলি প্যাসেঞ্জারদের শহরতলি নিডাররাড সত্যিই তাদের স্থায়ী বাসস্থান হয়ে উঠতে চলেছে কিনা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক