1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ব্লগওয়াচ

অপু-শাকিব ইস্যুতে চাপা পড়া গুরুত্বপূর্ণ অন্য খবরগুলো

সোমবার এক টিভি চ্যানেলে নায়িকা অপু বিশ্বাসের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সেই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে৷ তবে এ সব আলোচনায় অনেকে বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন৷

সাক্ষাৎকারে এক শিশু কোলে নিয়ে অপু বিশ্বাস জানান, শিশুটি তাঁর ও চিত্রনায়ক শাকিবের৷ ২০০৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয় বলেও দাবি করেন তিনি৷ এরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে শাকিব ও অপু বিশ্বাসের আরও সাক্ষাৎকার প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়৷ শাকিব খান জানান, তিনি সন্তানের দায়িত্ব নেবেন, অপুর নয়৷ অপু বিশ্বাসের টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নাম আসা আরেক চিত্রনায়িকা বুবলিও বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন

ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহারকারীরাও বিষয়টি নিয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন৷ এক্ষেত্রে অপু বিশ্বাসের সাহসের প্রশংসা করেছেন অনেকে৷ নুরুল ইসলাম হাসিব লিখেছেন, ‘‘অপুর প্রতি শ্রদ্ধা – সাহসী, এম্পাওয়ার্ড, স্মার্ট!'

শরিফুল হাসান লিখেছেন, ‘‘অপু বিশ্বাসকে আজ আমার সত্যিকারের নায়িকা মনে হচ্ছে৷'' জান্নাতুন নাইম প্রীতি লিখেছেন, ‘‘অভিনন্দন অপু বিশ্বাস! আপনিই সম্ভবত এদেশে প্রথম দেখালেন মা হয়ে যাওয়া মানে ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়ে দেওয়া নয়, কিন্তু শাকিব খানের মতন কিছু লোকের কাছে বাবা হয়ে যাওয়াটা লজ্জার৷ লজ্জা মানুষের শরীরে নয়, লজ্জা তার কুকর্মে!''

শাকিব খানের সমালোচনা করে আশিক আমিন লিখেছেন, ‘‘শাকিব খান, এটিএম বুথে কার্ড ঢুকাইসো! পাসওয়ার্ড চাপসো! টাকাও বের হইসে! দাবি করছো সেই টাকার মালিকও তুমি৷ কিন্তু অ্যাকাউন্ট তোমার না; সেটা কী করে হয়?''

ফারহানা মিলি মনে করছেন অপু যদি সাধারণ নারী হতেন তাহলে শাকিব খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার সাহস হয়ত পেতেন না৷ এটা নারীর ক্ষমতায়নের সুফল বলে মনে করছেন তিনি৷ ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘‘...নারীর ক্ষমতায়নের মাজেজা এটাই....ক্ষমতাহীন সাধারণ নারী হলে শাকিব খানের মতো ক্ষমতাধর নায়কের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নালিশ করার সাহসও অপু করতে পারতেন না....কোনো মিডিয়া কি তখন শাকিব খানের নাম-না-জানা বউয়ের কথা প্রকাশ করত?''

সুলতান মির্জা একটি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত অপু-শাকিবের সাক্ষাৎকারের ভিডিও টুইট করেছেন৷

তবে জুলফিকার আলী মানিক মনে করছেন, অপু-শাকিবের খবরে তাঁর দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়ংকর একটি খবর পত্রিকায় কম গুরুত্ব পেয়েছে৷ খবরটি হচ্ছে, সরকার কওমি মাদ্রাসার সনদকে স্বীকৃতি দিচ্ছে৷ হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর দাবি মেনেই সরকার এই স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে বলে বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে৷ মানিক ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘কওমি মাদ্রাসায় একটা ছাত্র ছোট থেকে বাংলাদেশের চিন্তা, চেতনা, আদর্শ, সংস্কৃতি, ইতিহাস তথা বাংলাদেশ বিরোধী সব শিখে বড় হয়৷ সে সমাজের অন্যদের ঘৃণা করতে হবে, এই শিক্ষায় বড় হয়৷....স্কুলের বাচ্চাদের পাঠ্যপুস্তক হেফাজতে ইসলামের ইচ্ছায় পাল্টানো হয়েছে৷ এখন ওই সব পাকিস্তান, সৌদি আরব, হরকাতুল জিহাদ, তালেবান, আল-কায়েদাপন্থিদের কওমি মাদ্রাসার মাস্টার্সের সনদের স্বীকৃতি সরকার দিলে বাংলাদেশের নামটা দয়া করে পাল্টে আরব দেশ রাখার প্রস্তাব করছি৷ সবাই জানুক এটা আসলে দক্ষিণ এশিয়ার আরব দেশ৷ আর সবাই ঘরে ঘরে নিজের ইচ্ছা মত কওমি মাদ্রাসা গড়ে তুলুন – এই আহ্বান থাকবে৷ দেখি তখন সরকার বাহাদুর কী করে৷''

ব্লগার আরিফ জেবতিকও কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতির বিষয়টি তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘কওমি মাদ্রাসার সরকারি স্বীকৃতি নিয়ে কাজ করছে সরকার৷ সেখানে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ এবং দেওবন্দী গ্রুপকে কোনঠাসা করে কমিটির একক কর্তৃত্ব পাচ্ছে হেফাজতপন্থিরা৷ দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল কুফল নিয়ে আলাপ প্রয়োজন৷'' এছাড়া তিনি হাওর অঞ্চলে বোরো খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের অনিশ্চিৎ ভবিষ্যৎ ও হাজারীবাগে ট্যানারি বন্ধ করার পর শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি পাওয়া, না-পাওয়া ইত্যাদি বিষয়ও উল্লেখ করেছেন৷ কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনায় এ সব বিষয় প্রাধান্য না পেয়ে অপু-শাকিব ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় জেবতিক লিখেছেন, ‘‘...এই বোধশূন্যতা, এই সংবেদনহীনতা কবে কাটবে আমাদের, কতকাল পরে?''

সংকলন: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক