1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

অপহরণ-নিখোঁজ নিয়ে নানা প্রশ্ন

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. মোবাশ্বার হাসান সিজারের নিখোঁজের ঘটনায় বাংলাদেশে আবারো আলোচনায় উঠে এসেছে নিখোঁজ-অপহরণের বিষয়টি৷ ফরহাদ মজহারের ঘটনার পর এমন আরো ঘটলেও এই ঘটনাটি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে৷

default

প্রতীকী ছবি

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোশিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোবাশ্বার হাসান সিজার মঙ্গলবার বিকাল থেকে নিখোঁজ৷ তাঁর বাবা মোতাহার হোসেন বাংলা বুধবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘দক্ষিণ বনশ্রীর বাসা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৭টায় আমার ছেলে বের হয়৷ বিকাল ৩টায় তার মোবাইলে ফোন দেই৷ তখন সিজার কল রিসিভ করেনি৷ ঘণ্টাখানেক পর বিকাল ৪টার দিকে সে ফোন করে বলে, জাতিসংঘের একটি বৈঠকে যাচ্ছে, রাতে ফিরবে৷ রাত ৯টা বেজে যাওয়ার পরও ছেলে বাসায় না ফিরলে ফোন দেই৷ কিন্তু তখন থেকেই তার মোবাইল বন্ধ পাই৷''

এরপর ছেলের নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে খিলগাঁও থানায় একটি জিডি করেন তিনি৷ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিজারের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি৷

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা তার সন্ধান পেতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি৷''

সিজার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে কিছুদিন সাংবাদিকতা করেন৷ পরে যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করেন৷ দেশে ফিরে এসে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন৷

তিনি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন৷ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মীয় সম্পৃক্ততাও গবেষণার বিষয় ছিল তাঁর৷ এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন' প্রকল্পের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন৷ তাঁর এক বন্ধু ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘সিজারের এ সব কাজ ছিল পুরোপুরি গবেষণাধর্মী৷ এই গবেষণার মধ্যে জঙ্গি দমন বা এ জাতীয় কিছু ছিল না৷ তবে সে সম্প্রতি তার নিরপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল৷ আর এ কারণেই সম্প্রতি সে তার বাসায় ‘সিসি ক্যামেরা' লাগিয়েছিল৷''

অডিও শুনুন 01:44

‘সিজার তাঁর নিরপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে থানায় কখনও কোনো তথ্য দিয়েছে বলে আমাদের জানা নাই’

যদিও মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘সিজার তাঁর নিরপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে থানায় কখনও কোনো তথ্য দিয়েছে বলে আমাদের জানা নাই৷''

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ফরহাদ মজহারের পর গত আড়াই মাসে ৯টি নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে৷ ফরহাদ মজহার অবশ্য নিখোঁজ হওয়ার ১৬ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার বাইরে খুলনা থেকে উদ্ধার হন৷ তবে তিনি উদ্ধার হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনো কথা বলেননি৷ শুধু পুলিশ এবং আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন৷

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত, অর্থাৎ এই সাড়ে তিন বছরে বাংলাদেশে নিখোঁজ বা অপহরণের শিকার হয়েছেন মোট ২৮৪ জন৷ এঁদের মধ্যে মৃতদেহ উদ্ধার হয় ৪৪ জন ব্যক্তির৷ নিখোঁজের পর গ্রেপ্তার দেখানো হয় ৩৬ জনকে এবং পরিবারের কাছে বিভিন্নভাবে ফিরে আসেন ২৭ জন৷ তবে এখনও ১৭৭ জনের কী অবস্থা তা জানা যাচ্ছে না৷ তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা পরিবার বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ বলতে পারছেন না৷

আসক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যে অনেককেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে৷ এমনকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকেও অপহরণের অভিযোগ আছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে৷ তাছাড়া প্রতিটি অপহরণ ও নিখোঁজের ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে সহায়তার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যাওয়া হলে, তারা তাঁদের কোনো উত্তর দিতে পারেনি৷

অডিও শুনুন 04:34

‘অপহরণের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত এবং সুশৃঙ্খল ব্যক্তিরা অপহরণের সঙ্গে জড়িত’

গত বছরের ১৬ মার্চ অপহৃত হন তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা৷ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির যে ঘটনা ঘটেছিল, তার নানা দিক নিয়ে গণমাধ্যমে নিজ পরিচয়ে মতামত দেওয়ার পর তাঁকে মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকা থেকে তুলে নেয়া হয়৷ সাতদিন পর অবশ্য এয়ারপোর্ট রোড এলাকায় পাওয়া যায় তাঁকে৷ গত ১৯ জুলাই ডয়চে ভেলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি৷ সে সময় জোহা জানান, ‘‘আমাকে আটকের পর মাইক্রোবাসে তুলে চোখ বেঁধে ফেলা হয়৷ এরপর আমাকে কোথায় নেয়া হয়েছে, কোথায় রাখা হয়েছে, তার কিছুই আমি বুঝতে পারিনি৷ আমাকে কতদিন আটক রাখা হয়েছিল, তাও আমি বুঝতে পারিনি৷ উদ্ধার হওয়ার পর পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেরেছি৷''

তিনি আরো বলেন, ‘‘তবে প্রথমেই যে আমাকে ইনজেকশন ‘পুশ' করা হয়েছিল, তা আমি বুঝতে পারি৷ যারা আমাকে মাইক্রোবাসে তুলেছিল তাদের কাউকেই আমি চিনতে পারিনি৷ আমি শুরুতে তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলাম৷ কিন্তু তারা কোনো জবাব দেয়নি৷'' 

গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওনা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক ফিরে আসার পরও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি৷ পুলিশও এটা নিয়ে কোনো তদন্ত করেনি৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

লক্ষীপুরের চিকিৎসক মুহাম্মদ ইকবাল মাহমুদ গত ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড় থেকে অপহৃত হন৷ ঘটনার সাড়ে সাত মাস পর, এ বছরের ১ জুন চোখ বাঁধা অবস্থায় লক্ষিপুরে তাঁকে ফেলে যায় অপহরণকারীরা৷ ইকবালের বাবা নুরুল আলম জানান, ‘‘আমরা ছেলে কোনোকিছুই বলতে পারে না৷ ঘটনার পর আমরা দৌড়াদৌড়ি করেছি৷ সবার সহযোগীতায় তাকে ফিরে পেয়েছি৷ ইকবাল এখন মোটামুটি ভালো আছে, চলাফেরা করছে৷''

আসক-এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান নিখোঁজ এবং অপহৃতদের নিয়ে কাজ করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘যাঁরা নিখোঁজ বা অপহৃত হন, তাঁদের পরিবার এবং যাঁরা ফিরে আসেন, তাঁদের কাছ থেকে আমরা কিছু তথ্য পাই৷ অপহরণের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত এবং সুশৃঙ্খল ব্যক্তিরা অপহরণের সঙ্গে জড়িত৷ যাঁরা ফিরে আসেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, তাঁদের অত্যন্ত সুরক্ষিত জায়গায় রাখা হয়েছিল৷ যারা পহারায় থাকে তারাও নাকি সুশৃঙ্খল৷''

নূর খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এত ঘনবসতিপূর্ণ জায়গা যে এখানে সাধারণ অপহরণকারীরা কাউকে অপহরণ করে বেশিদিন রাখতে পারে না৷'' তিনি জানান, ‘‘অপহরণ বা নিখোঁজের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তেমন কোনো তৎপরতাও দেখায় না৷ এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগও নিতে চায় না৷''

আরেক প্রশ্নের জবাবে নূর খান বলেন, ‘‘নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. মোবাশ্বার হাসান সিজারের নিখোঁজের ঘটনাটি নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করার সময় আসেনি৷ তবে তিনি জঙ্গি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গবেষণা করতেন৷ নিজেও নিজের নিরপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন৷ এর থেকে ধারণা করা যায় যে, ঐ গবেষণা সংক্রান্ত বিষয় তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পিছনে কাজ করে থাকতে পারে৷ কিন্তু এটা একটা ধারণা মাত্র৷ বাস্তবতা ভিন্নও হতে পারে৷''

উপ-কশিনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা নানাভাবে তাঁকে উদ্ধারে কাজ করছি৷ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক ‘টিম' কাজ করছে৷ নিখোঁজ হওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলোও খতিয়ে দেখছি আমরা৷''

নিঁখোজ বা অপহরণের পর পুলিশের কোনো তৎপরতা থাকে না – এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের ঢালাও অভিযোগ মেনে নেয়া যায় না৷ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে আমরা তা দেখতে পারি৷''

এদিকে বৃহস্পতিবার সিজারের বাবা বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি৷ তবে এ দিন দুপুরের পর তাঁরা সিজারের ব্যাপারে তথ্য জানতে এবং জানাতে গোয়েন্দা দপ্তরে যান বলে খবর৷

মোবাশ্বার হাসানের নিখোঁজের পিছনে কী কারণ রয়েছে বলে আপনি মনে করেন? লিখুন মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়