1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অপহরণ আর গুম নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ আর গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় দেশের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান৷ এমনকি এর ফলে শাসক দলের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে৷

default

‘‘অপহৃতদের পরিবারের বড় একটি অংশের অভিযোগ যে তাঁদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে অপহরণ করা হয়েছে’’

রবিবার নারায়ণগঞ্জের এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ পাঁচজনকে অপহরণের প্রায় একই সময় ঐ একই এলাকা থেকে একজন আইনজীবী এবং তাঁর সহকারী অপহৃত হন৷ ভালুকায় দুই শিক্ষককে হাড়কড়া পরিয়ে অপহরণ করা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে সোমবার৷ শনিবার আটটি পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করে এক বছর আগে অপহৃত স্বজনদের উদ্ধারের দাবি জানায়৷ এর আগে ‘বেলা'-র সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিকের অপহরণের ঘটনায় সারাদেশে তোলাপাড় হয়৷ শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা৷ কিন্তু কারা অপহরণ করেছিল – তা এখনো জানা যায়নি৷

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুয়ায়ী, চলতি বছরের সোমবার পর্যন্ত গত প্রায় চার মাসে মোট ৫২ জনকে অপহরণ করা হয়েছে বাংলাদেশে৷ কেন্দ্রের পরিচালক ও মানবাধিকার নেতা নূর খান ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘অপহৃতদের পরিবারের বড় একটি অংশের অভিযোগ যে তাঁদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে অপহরণ করা হয়েছে৷''

Syeda Rizwana Hasan Goldman Environmental Prize 2009

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী ফিরলেও অপহরণের কারণ এখনো জানা যায়নি

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ আর গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে৷ মানুষ এখন উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন৷''

তিনি বলেন, ‘‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উচিত হবে তাঁদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া৷ নয়ত আইন এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলবে৷'' ড. মিজান বলেন, ‘‘রাষ্ট্র এবং সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণের নিরাপত্তা দেয়া৷ তাই সেটা দিতে না পারলে সরকারের প্রতিও দেশের মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হবে৷''

এদিকে এই অপহরণ আর গুমের ঘটনায় উদ্বিগ্ন খোদ শাসক দলের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি৷ তিনি সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘গুম ও অপহরণ সীমা অতিক্রম করেছে৷'' তিনি বলেন, ‘‘সরকারের বাইরে আরেক সরকার থাকলে তো চলবে না! এখানে দুর্বলতা দেখানো যাবে না, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে৷ ক্রমাগত এ জাতীয় অপহরণ ও গুম আইনের শাসনের দৃষ্টান্ত নয়৷ মানুষ আইনের কাছে যায় বিচারের আশায়৷ সেখান থেকে অপহরণ হলে আইনের শাসন বৃথা হয়ে যাবে৷ এছাড়া আইনজীবী, যিনি অফিসার অফ দ্য কোর্ট, তিনি সরকারেরই লোক৷ তাঁকেও অপহরণ করা হয়েছে৷ এখানে নমনীয় হওয়া যাবে না৷ সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে দোষীদের জনতার সামনে আনতে হবে৷''

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘এই অপহরণের পর আইনের শাসনে বিশ্বাসী মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত৷ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘দেখি নাই, জানি না, বুঝি না' – এগুলো বললে চলবে না৷ এটা কোনোভাবে আইনের শাসন নয়৷ এর পেছনে যারা আছে, তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে৷''

মানবাধিকার নেতা নূর খান বলেন, ‘‘এইসব ঘটনায় অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা হতাশাজনক৷ তাই সরকারকে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রতিটি অপহরণ-গুমের ঘটনা তদন্ত করতে হবে৷ তাছাড়া অপহৃতদের উদ্ধার এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে৷''

তিনি বলেন, ‘‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সাদা পোশাকে অভিযান বন্ধ করতে হবে৷ আর যদি সাদা পোশাকে অভিযান চলেও, তাহলে তাঁদের সঙ্গে ইউনিফর্মড সদস্য থাকতে হবে৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়