1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অপরাধের কিনারা করবে আরএনএ

অপরাধের রহস্য উন্মোচনে ইদানীং ডিএনএ পরীক্ষা কাজে লাগিয়ে অনেক সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে৷ নতুন আরেকটি প্রক্রিয়া ‘জেনেটিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট' শনাক্ত করার ক্ষেত্রে আরও বড় বিপ্লব আনতে পারে৷ জার্মানিতে চলছে এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা৷

খুনের ঘটনাস্থলে পুলিশ তদন্ত করছে৷ নিহত মানুষটির গায়ে বেশ কয়েকটি গুলি লেগেছিল৷ এখন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন৷ আঙুলের ছাপ ছাড়াও পুলিশ হত্যাকারীর ‘বায়োলজিকাল ক্লু' খুঁজছে৷ ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীর জেনেটিক আঙুলের ছাপ খুঁজে বিশেষজ্ঞরা অনেক কেসের সমাধান করেছেন৷ নতুন গবেষণা অনুযায়ী ডিএন-এর ‘ছোট ভাই' – অর্থাৎ মাইক্রো এরএনএ তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে৷

বন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিস্ট ও ফরেনসিক জেনেটিক বিশেষজ্ঞ ড. কর্নেলিউস কুয়র্টস তদন্তের কাজে মাইক্রো এরএনএ ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘ডিএনএ দিয়ে মানুষ শনাক্ত করা যায়৷ যেমন মৃত মানুষের পরিচয় জানা যায়, কে অস্ত্র ছুঁয়েছে তা জানা যায়৷ কী ঘটেছিল, তা আরএনএ-র সাহায্যে জানা যায়৷ স্যাম্পেল বিচার করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঙ্গে তার সম্পর্ক নির্ধারণ করা যায়৷''

হিংসাত্মক অপরাধের রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে গোটা ঘটনা যতটা সম্ভব নিখুঁতভাবে সাজানো অত্যন্ত জরুরি৷ ঘটনাস্থলে পাওয়া ক্লু-গুলির বিস্তারিত মূল্যায়ন করতে হয়৷ যেমন একটি ছুরির উপর রক্তের দাগ নিয়ে দুই বিশেষজ্ঞ ব্যস্ত৷ কীভাবে তা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বার করা যায়, সেটাই আসল চ্যালেঞ্জ৷

ছুরিতে লাগানো রক্তের দাগ থেকে যে মাইক্রো-আরএনএ ক্লু পাওয়া গেছে, তা বিশেষ কোনো প্রত্যঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করছে৷ কিছুকাল আগে জানা গেছে, যে মানুষের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলির আলাদা আলাদা মাইক্রো-আরএনএ অণু রয়েছে৷ ফলে সেগুলি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করাও সম্ভব৷ ড. কুয়র্টস বলেন, ‘‘এই পদ্ধতি প্রয়োগের একটা দৃষ্টান্ত হলো, অপরাধের পর ছুরির মতো কোনো অস্ত্রে শরীরের টিস্যু বিশ্লেষণ করে জানতে পারা উচিত, সেটি শরীরে কত গভীরে প্রবেশ করেছিল৷

সেটি যদি শরীরের ভিতরে যকৃতের মতো কোনো অংশে আঘাত করে থাকে, তখন তাতে যকৃতের টিস্যু পাওয়া যাবে৷ তখন এই অপরাধের কিনারা করা অনেক সহজ হবে৷''

যৌন অপরাধের ক্ষেত্রেও মাইক্রো-আরএনএ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া বিশেষ সহায়ক হতে পারে৷ কারণ মাইক্রো-আরএনএ-র সাহায্যে রক্ত, থুতু বা বীর্যের মতো শরীরের তরল পদার্থ স্পষ্টভাবে আলাদা করা সম্ভব৷ ড. কুয়র্টস বলেন, ‘‘ঠিক কী ঘটেছে এবং সেটি যৌন অপরাধ কিনা, তা বিচার করতে গেলে জানতে হবে ঠিক কোথা থেকে ক্লু নেয়া হয়েছে – যৌনাঙ্গ নাকি শরীরের বাইরে থেকে? তাতে কি বীর্য পাওয়া গেছে? খালি চোখে তা বোঝা অসম্ভব৷ কিন্তু তাতে যদি সেই মাইক্রো-আরএনএ পাওয়া যায়, যা শুধু বীর্যের মধ্যেই থাকে, তখন ধারণা আরও বদ্ধমূল হয়ে যাবে৷''

স্যাম্পেল থেকে মাইক্রো আরএনএ আলাদা করতে গবেষকরা নানা রাসায়নিকের সাহায্যে সেটিকে প্রস্তুত করছেন৷ বিশেষ এক বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তা থেকে মাইক্রো আরএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়, যা কোনো স্যাম্পেলের গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়৷ ড. কুয়র্টস বলেন, ‘‘প্রমাণিত আরএনএ-র সূচক হিসেবে এই খানে এক বাঁক দেখা যায়৷ এটি একমাত্র বীর্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়৷ ফলে এক্ষেত্রে যে মিশ্রণ পাওয়া যাচ্ছে, তা যৌন অপরাধের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছে৷''

কয়েক মিটার দূর থেকে গুলি খেলে আক্রান্ত মানুষটির রক্ত ও টিস্যুর ক্ষুদ্র অংশ এবং সেই সঙ্গে তার মাইক্রো আরএনএ অস্ত্রের পথে ছড়িয়ে পড়ে৷ এমনকি দ্বিতীয় গুলি চালালেও প্রথমটির চিহ্ন নষ্ট হয় না৷ ক্ষুদ্র অথচ মজবুত মাইক্রো আরএনএ অক্ষত অবস্থায় তা সামলে নেয়৷ তখন এমনকি লাশ পাওয়া না গেলেও জানা যায়, মানুষটির মাথায় গুলি লেগেছিল কি না৷ ড. কুয়র্টস বলেন, ‘‘মাথায় গুলি লাগলে তার পেছনের অংশ থেকে মস্তিষ্কের টিস্যু বেরোবে৷ তখন আমরা এমন মাইক্রো আরএনএ খুঁজি, যা শুধু মস্তিষ্কের মধ্যেই থাকে৷ তেমন মাইক্রো আরএনএ পেয়ে গেলে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে গুলি মাথায় লেগেছিল৷''

অপরাধের রহস্য উন্মোচন করতে মাইক্রো আরএনএ এখনই কাজে লাগানো যেতে পারে৷ তবে জার্মানিতে পুলিশের কাজে তার নিয়মিত প্রয়োগের অনুমতি পেতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে৷ তার আগে অনেক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়