1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

অন্য রোগ ও গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি বাড়ায় চিকুনগুনিয়া

কখনও ম্যালেরিয়া, কখনও ডেঙ্গু, কখনও চিকুনগুনিয়া৷ মশাবাহিত রোগ থেকে নিস্তার নেই বাংলাদেশের৷ সাধারণত মৃত্যুঝুঁকি না থাকলেও কিছুক্ষেত্রে এই ঝুঁকি থেকেই যায়, ডয়চে ভেলেকে জানালেন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ৷

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগ এত ব্যাপক আকারে বারবার ছড়িয়ে যাওয়ার কারণ কী বলে মনে করছেন?

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: মশার যে বিস্তার, বা প্রজননক্ষেত্র যেগুলো আছে, এটাকে রোধ করার জন্য বিশেষ করে এইবার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি৷ মশাকে ধ্বংস করার জন্যে এবার যে ব্যবস্থাগুলো নেয়া হয়েছে তা অপ্রতুল৷ সেই কারণেই মশা বেশি বেড়ে গেছে৷ এর ফলে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ এবার বেশি, বিশেষ করে চিকুনগুনিয়া, এবার ডেঙ্গু কম৷ তাছাড়া এবার মাঝে মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছে৷ তাতে বিভিন্ন জায়গায় জমা পানিতে এডিস ইজিপ্টি মশা ডিম পাড়ার সুযোগ বেশি পেয়েছে৷

অডিও শুনুন 11:15

‘সাধারণত চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা বাসাতেই নেয়া যায়’

সাধারণ মানুষ কীভাবে সচেতন থাকতে পারেন?

ব্যক্তিগত প্রটেকশন নিতে হবে, যাতে মশা না কামড়াতে পারে৷ হাফপ্যান্ট, হাফশার্ট না পরে ফুলপ্যান্ট ফুলশার্ট পরতে হবে৷ ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখতে হবে৷ যেমন অনেকে ঘরে বা বারান্দায় ফুলের যে টবগুলো আছে, সেগুলো পরিষ্কার করে না৷ ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনের জমা পানিতেও মশা ডিম পাড়ে৷ নিজের আশেপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে৷

একজনের কাছ থেকে আরেকজনে কীভাবে ছড়ায় চিকুনগুনিয়া?

চিকুনগুনিয়া কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়, এটা মশার কামড়েই হয়৷ সুতরাং মশার কামড় থেকে বাঁচতে হবে৷ আক্রান্ত হলে ৫-৭ দিনের বেশি শরীরে এই ভাইরাস থাকে না, এর মধ্যে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়৷ দিনে ঘুমালে মশারি টানিয়ে ঘুমানো উচিত৷ আক্রান্ত কাউকে মশা কামড়ানোর পর এই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে ভাইরাস ছড়াতে পারে৷ তবে মশার কামড় ছাড়া অন্য কোনোভাবে এই ভাইরাস ছড়াতে পারবে না৷

কিছু কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ ধরে রোগিদের ভুগতে হয়...

চিকুনগুনিয়ার মূল লক্ষণ তো জ্বর আসবে৷ আমরা ১০৪, ১০৫, ১০৬ ডিগ্রি, এমন রোগি পাচ্ছি৷ প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা৷ এছাড়া বমিভাগ, পাতলা পায়খানা, অরুচি, দুর্বলতা – এগুলো হতেই পারে৷ তিন-চার দিন পর গায়ে কিছু র‍্যাশ হয়, সেগুলোও দু-তিন দিন থাকে৷ মেজরিটির এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে এইসব লক্ষণ ভালো হয়ে যায়৷ এদের মধ্যে ১০ শতাংশ রোগির হাড়ের জোড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা থেকে যায়৷ এটাকে পোস্ট-চিকুনগুনিয়া আর্থ্রাইটিস বলে, স্থানীয় ভাষায় এটাকে বলে ল্যাংড়া জ্বর৷ কারো কারো ক্ষেত্রে এটা মাসের পর মাস থাকতে পারে৷

এর চিকিৎসা, বা প্রতিকার কী?

এটা যেহেতু একটা ভাইরাস, এর কোনো ‘স্পেসিফিক' চিকিৎসা নেই৷ এর চিকিৎসা হয় লক্ষণভিত্তিক৷ আমরা সাধারণত সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ, যেমন প্যারাসিটামল খেতে বলি৷ সেই সাথে প্রচুর পানি, শরবত এবং তরল খাবার খেতে হবে৷ স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া কিন্তু চালিয়ে যেতে হবে৷ মাছ-মাংস, শাক-সবজি, ফলমূল এগুলোতে কোনো বাধা নাই৷ অনেকের ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য পেইনকিলার লাগতে পারে৷ কখনও কখনও ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়ার একই রকম লক্ষণ থাকে৷ ডেঙ্গুতে সাধারণত অন্য পেইনকিলার দেয়া হয় না, তাতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে৷ সুতরাং অন্য পেইনকিলার ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না৷ ব্যথা থাকলে বরফ কুঁচি দিয়ে ঠান্ডা সেঁক দেয়া যেতে পারে, কোনক্রমেই গরম সেঁক দেয়া যাবে না৷

বয়স্ক বা শিশুদের বিশেষ কোনো সতর্কতা কি অবলম্বন করতে হবে?

সাধারণত চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা বাসায় বসেই নেয়া যায়৷ তবে যাঁরা অন্যান্য রোগে ভোগেন, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি-লিভার-হার্টের রোগ, তাঁদের ঘরে বসে চিকিৎসা নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ৷ এইসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি৷ তাদের ক্ষেত্রে এই রোগে মৃত্যুর ঝুঁকিও থেকে যায়৷ এছাড়া গর্ভবতী নারীদের চিকুনগুনিয়া হলে সেটা মা এবং শিশুর জন্যও ক্ষতিকর৷ গর্ভবতীদেরও দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া উচিত৷

আপনার কি কিছু বলার আছে? লিখুন নীচের মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়