1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

‘অন্যরকম এক বিজয়ের দিন'

বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়েছে ৪৩ বছর আগে৷ পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালি যে লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়েছিল, তা আজও সগৌরবে মাথা তুলে আছে৷ কিন্তু আসলেই কি আমরা বিজয় পেয়েছি? সত্যিকারের বিজয় দেখেছি?

‘‘হ্যাঁ, এখন দেখছি৷ যুদ্ধাপরাধীদের একের পর এক শাস্তি হচ্ছে, একজনের মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হয়েছে৷ এটাই তো আসল বিজয়, অন্যরকম এক বিজয়ের দিন৷'' মঙ্গলবার বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভার স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়ে কথাগুলো বলছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ-র ছাত্র রাজীব রুদ্র৷

রাজীবের মতে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তার গতি খুবই ধীর৷ আসলে বাংলাদেশের মাটিতে যেদিন সব যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হবে, সেদিনই হবে আসল বিজয় দিবস৷ সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দণ্ড ঘোষিত যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত শাস্তি কার্যকরের জন্য৷

রাজীবের সঙ্গে আসা আরেক ছাত্র হাসান ফিরোজের মতে, ‘‘শুধু মুখ দিয়ে বললেই হবে না, দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে৷''

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ১৩টি রায়ে ১৪ জন যুদ্ধাপরাধীর সাজা হয়েছে৷ এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে৷ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণার পর কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে৷ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় হলেও, আদেশের কপি প্রকাশের অপেক্ষা৷ এরপরই কার্যকর হবে এই রায়৷ এছাড়া সর্বোচ্চ আদালত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে৷ শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে মুজাহিদের বিরুদ্ধে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের আপিল শুনানি শুরু হচ্ছে৷ অন্যগুলোও শুনানির অপেক্ষায়৷ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ৩ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রয়েছে৷ বিচার কাজ চলছে আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে৷ এছাড়া তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে আরো ১০-১২টি মামলা৷

Bangladesch Dhaka Gericht Kriegsverbrechen Delwar Hossain Sayeedi Protest gegen Urteil

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করেছে তরুণ প্রজন্ম

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘‘আমরা শুরু থেকেই বলছি, বিচার প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে হবে৷'' স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যারা মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড় করে বিচারের আওতায় আনাটা কতটা সহজ হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘‘এ সব অপরাধের প্রত্যক্ষদর্শীরা এখনও জীবিত আছেন, ফলে তথ্য-প্রমাণ তাঁদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে৷'' তিনি বলেন, ‘‘শহিদ পরিবারগুলো অবশ্যই সাক্ষ্য দেবে৷ তবে এক্ষেত্রে সরকারকে সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে৷''

মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিদের বিচার কার্যক্রমের পর এবার জেলা-উপজেলা পর্যায়ে রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জিয়াদ আল মালুম৷ তিনি বলেন, ‘‘শীর্ষ অপরাধীদের পর সারা দেশে বিস্তৃতভাবে যারা ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে, চার লক্ষ মা-বোনকে নির্যাতন করেছে, যারা ধর্মান্তরিত করায় জড়িত, তাদের বিচার কার্যক্রম চলবে৷''

মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের ৪৩তম বার্ষিকীতে বীর সন্তানদের স্মরণ করছে জাতি৷ যাঁদের রক্তের বিনিময়ে দুই যুগের পাকিস্তানি শাসনের অবসান ঘটেছিল৷ বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছিল বাংলাদেশ নামের নতুন এক রাষ্ট্রের৷ ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শেরে বাংলা নগরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে (পুরনো বিমানবন্দর) ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয়ের এই দিনের কর্মসূচি শুরু হয়৷ সকাল সাড়ে ৬টার পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে সেই মুক্তিসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যাঁরা প্রাণের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিল বাংলার স্বাধীনতার সূর্য৷

এরপর ফুল দেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা৷ বাঙালির গৌরব এই স্মৃতিসৌধের নকশাকার ভাস্কর সৈয়দ মাইনুল হোসেনকে মাত্র দেড় মাস আগেই হারিয়েছে দেশবাসী৷ ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়৷ পতাকা আর ফুল হাতে জনতার ঢল নামে সৌধ প্রাঙ্গণে৷ মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহিদের স্মৃতির এই মিনার৷

স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়ার পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপিত আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন জাতির দাবি৷ এ নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই৷ ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে পতাকা পেলাম, স্বাধীনতা পেলাম, তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা থাকতে হবে৷ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সবার মধ্যেই একটা শোকাভিভূত ভাব থাকবে৷ চোখেমুখে, চলায়-বলায়, শরীরে যেটা থাকা দরকার৷ কিন্তু এখানে লাঠিসোটা, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে যে প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক৷''

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘‘সরকারকে বলবো, যুদ্ধাপরাধীদের রায় দ্রুত কার্যকর করুন৷ জাতিকে কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিন৷''

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়