1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

অন্যরকমভাবে বেঁচে থাকা এক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান

হ্যাঁ, আমরা যেরকমটা জানি সেইরকম নয়, একেবারেই অন্যরকমভাবে বেঁচে থাকা এক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে৷ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া লেকে এইরকমই এক ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা৷

default

ফাইল ফটো

দেখা গেছে ব্যাকটেরিয়াটি বেঁচে আছে শুধুমাত্র বিষাক্ত আর্সেনিকের ওপর নির্ভর করে৷ আর এই আবিষ্কার পৃথিবীর বুকে জীবনধারণ সম্পর্কে আমাদের পুরোনো সব ধ্যন ধারণার পরিবর্তন ঘটাবে বৈকি৷ সাধারণভাবে আর্সেনিক বিষক্রিয়া ঘটায় প্রাণীর দেহে৷ কিন্তু এই ব্যাকটেরিয়াই বিজ্ঞানীদের জানা প্রথম অণুজীব যা কিনা আর্সেনিক ব্যবহার করেও বেঁচে থাকতে পারে৷ এই ব্যাকটেরিয়া ডিএনএ সহ নিজের জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ফসফরাসের বদলে আর্সেনিককে কাজে লাগাতে সক্ষম৷ বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স'এর সাম্প্রতিকতম সংখ্যায় প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে৷

আমরা এখন পর্যন্ত জানি যে জীবনের যা কিছু রূপ, তার সব ক'টির জন্য ছয়টি মৌলিক উপাদান প্রয়োজন৷ তা হলো নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন, সালফার এবং ফসফরাস৷ কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন, লবণপ্রিয় এই অণুজীব গবেষণাগারে ফসফরাসের অনুপস্থিতিতেও দিব্যি বেঁচেবর্তে ছিল৷ মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা'র অ্যাস্ট্রোবায়োলজির সিনিয়র বিজ্ঞানী মেরি ভয়টেক বলেন,‘‘এ হল পৃথিবীতে বাস করতে সক্ষম এমনই এক জীবন৷ তবে আমরা যে জীবনের কথা জানি এটি তা নয়৷''

নাসার পৃষ্ঠপোষকতায় চালিত জ্যোতিরজীববিজ্ঞান সংক্রান্ত এক গবেষণারই একটি অংশ এটি৷ সমীক্ষার ফলে এই নতুন আবিষ্কারকে পৃথিবীতে জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এবং পৃথিবীর বাইরে জীবনের সন্ধানের ক্ষেত্রে এক নতুন দিকনির্দেশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে৷ নাসার আরেক গবেষক ফেলিসা ওলফসাইমন এই সমীক্ষার নেতৃত্ব দেন৷ বৃহস্পতিবার তিনি নাসার ব্রিফিং-এ বলেন, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আর কোথায় আর কী থাকার সম্ভাবনা আছে, তা জানার দরজাটা আমরা খুলে ফেলেছি হুট করে৷

গবেষকরা ঐ ব্যাকটেরিয়ার নাম দিয়েছেন, জিএফএজে-ওয়ান৷ ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা মাউন্টেনস-এর পূর্বাঞ্চলে মনো লেকে পাওয়া গেছে ব্যাকটেরিয়াটি৷ বলা হয়েছে, প্রটিয়োব্যাকটেরিয়ার হলোমনাডাসিয়াস পরিবারেরই একটি অংশ এই ব্যাকটেরিয়াটি৷ গবেষকরা মনো লেকের একেবারে তলা থেকে সংগ্রহ করা কাদার নমুনা ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়াটি তৈরি করান৷

নতুন এই আবিষ্কার পৃথিবীর বাইরে প্রাণীর সন্ধানকাজকে আরও প্রসারিত করতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা৷ বর্জ্য পানি শোধন, বিষাক্ত বর্জ্য পরিষ্কার করা এবং জৈবজ্বালানি উৎপাদনে বিরল ফসফরাস ব্যবহার না করার পথ প্রশস্ত করতে পারে এই আবিষ্কার৷

প্রতিবেদন: ফাহমিদা সুলতানা

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

সংশ্লিষ্ট বিষয়