1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অন্ধ-বধিরদের জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি

স্কুলবাস থেকে শুরু করে অন্ধ-বধিরদের লর্ম বর্ণমালা অবধি – ডিজিটাল প্রযুক্তি আজ সর্বত্র নাক গলিয়েছে৷ ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রায় সব মানুষকেই আগামী ‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড'-এর অঙ্গ করে তুলতে চায়৷

বাসস্টপেই সকলে একজোট হয়৷ ম্যুনস্টার শহরের আশপাশের গ্রামগুলোর এই ছেলে-মেয়েরা লম্বা বাস-জার্নিতে অভ্যস্থ৷ একটি বাস তাদের স্কুলে নিয়ে যায়, আবার সেখান থেকে ফেরত আনে৷ তা-তে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়৷

অন্তত ফেরার পথে যা-তে কম সময় লাগে, তার ব্যবস্থা করতে চান টোমাস বার্টোশেক, যিনি জিও-ইনফরম্যাটিক্স-এ পিএইচডি করছেন৷ জিও-ইনফরম্যাটিক্স-এর গবেষক টোমাস বার্টোশেক বলেন:

‘‘ছেলে-মেয়েরা আমাদের বলেছে, বিশেষ করে ফেরার পথে বাসটা অনেক গ্রাম হয়ে ঘুরপথে আসে৷ এবং কোনো ছাত্র কিংবা ছাত্রী যদি সেদিন না থাকে, তবুও বাসটা তার গ্রাম হয়ে যায়৷ কাজেই আমরা ওদের সঙ্গে বসে ভাবার চেষ্টা করেছি, প্রযুক্তি দিয়ে এই সমস্যাটা কিভাবে ‘অপটিমাইজ' করা যায়৷''

সমাধান হলো একটি স্মার্টবাস অ্যাপ৷ প্রত্যেক ছাত্র বা ছাত্রী বাসে ওঠার সময় তার চিপ দিয়ে নিজের বাড়ির ঠিকানাটা জানিয়ে দেবে৷ স্মার্টফোনের অ্যাপটি হিসেবনিকেশ করে বাসের ড্রাইভারকে তার সেদিনের রুটটা জানিয়ে দেবে৷ এভাবে বাসটাকে অকারণে ঘুরতে হয় না, সময় বাঁচে৷ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা এই স্মার্টবাস অ্যাপ তৈরি করতে সাহায্য করেছে৷

এই জিও-ইনফরম্যাটিক্স ইনস্টিটিউটে ভবিষ্যতের শহর-নগরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে: প্রথমে মডেলে, তারপর বাস্তবে৷ কিশোর-কিশোরীরা তাদের উদ্ভাবন করা অ্যাপ নিয়ে ভারি খুশি৷

স্মার্টবাস এবং অন্যান্য অ্যাপ

অনলাইন প্রযুক্তির বুদ্ধিদীপ্ত প্রয়োগের একটি নিদর্শন হলো এই স্মার্টবাস অ্যাপ৷ জার্মান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিযোগিতার বিষয় হলো ভবিষ্যতের ডিজিটাল সমাজ৷ ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেরিত দল ও প্রকল্পকে দশ হাজার ইউরো করে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে৷ সেরা নেটওয়ার্ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ডার্মস্টাট প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকল্প৷ অনলাইন নিউজ পেজগুলিতে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রোগ্রামটি তাদের একত্রিত করে তাদের পারস্পরিক সম্পর্কও দেখায়৷

আরেক ফাইনালিস্ট হলো গিসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিগ্রা ডটকম৷ এখানে দেখা হয়, ‘মিগ্রান্ট' অর্থাৎ অভিবাসীদের কমিউনিকেশনের পন্থা কিভাবে বদলে যাচ্ছে, কীভাবে তারা স্কাইপ, হোয়াটসঅ্যাপ অথবা ভাইবার-এর মাধ্যমে স্বদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে৷

বার্লিনের এই তরুণ গবেষকরা চান, যারা আজও ডিজিটাল জগতে প্রবেশের সুযোগ পাননি, তাদের সেই পথ করে দেওয়া৷ অন্ধ-বধিররা না পান দেখতে, না পারেন শুনতে৷ তারা তথাকথিত লর্ম বর্ণমালা ব্যবহার করেন৷ হাতের তালু এবং আঙুলগুলোর বিশেষ বিশেষ জায়গায় চাপ দেওয়ার অর্থ এক-একটি অক্ষর৷ ডিজাইন রিসার্চ ল্যাব-এর টম বিলিং বলেন:

‘‘এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো, এই লর্ম বর্ণমালা দূর থেকে কাজ করে না৷ অর্থাৎ আমি যদি কারোর সঙ্গে কথা বলতে চাই, তাহলে প্রথমত তাকে এই বর্ণমালা জানতে হবে; দ্বিতীয়ত, তাকে সশরীরে এখানে থাকতে হবে৷''

এক বিশেষ ধরনের দস্তানা তার জায়গা নিতে পারে: অন্ধ-বধিররা এই লর্ম-দস্তানার ওপর ‘লিখতে' পারেন৷ সেন্সরের মাধ্যমে তাদের স্পর্শকে লেখায় পরিণত করে তা কম্পিউটারে পাঠানো হবে৷ অপরদিক থেকে যে ‘লিপি' আসবে, তা এই দস্তানায় কম্পনে রূপান্তরিত হয়ে অন্ধ-বধিরদের কাছে বোধগম্য হবে৷

সর্বাধুনিক উদ্ভাবন হলো: দস্তানার আকারের একটি টাচপ্যাড৷ টুইটার এবং ফেসবুকের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলির সঙ্গে এর সরাসরি সংযোগ আছে৷ অর্থাৎ অন্ধ-বধিরদের জন্য যোগাযোগের একটা সম্পূর্ণ নতুন পথ এবং পন্থা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক