1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

অন্ধদের সাহায্যে এক উজ্জ্বল নাম সাব্রিয়ে টেনব্যার্কেন

সাব্রিয়ে টেনব্যার্কেন জার্মান নাগরিক৷ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিব্বতে৷ নারী এবং শিশু অধিকারই তাঁর কাজের মূল বিষয়৷ ২০০০ সালে তিনি পেয়েছেন এলিজাবেথ নরগাল পুরস্কার, ২০০৫ সালে মনোনয়ন পেয়েছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য

default

ব্রেইল উইদাউট বর্ডাসের প্রতিষ্ঠাতা সাব্রিয়ে টেনব্যার্কেন

সাব্রিয়ে টেনব্যার্কেন অন্য দশ জনের মত স্বাভাবিক হয়ে জন্মাননি৷ তিনি দৃষ্টিহীন৷ কিন্তু তাই বলে তিনি জীবনকে, আশেপাশের পৃথিবীকে থামিয়ে রাখেননি, নিজেও থেমে থাকতে চাননি৷ ১৯৯৮ সালে তিনি গঠন করেছেন, ‘ব্রেইল উইদাউট বর্ডার্স' সংস্থা৷ অন্ধ হয়েও তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে অন্যদের সাহায্য করা যায়৷ তিনি তিব্বতি ভাষা কীভাবে ব্রেইলে লেখা যায়, তা আবিষ্কার করেছেন৷ মূলতঃ তিনি সাহায্য করেন তাদের, যারা তাঁর মতই দৃষ্টিহীন৷ তিব্বতে একটি এনজিও গড়ে তোলার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘আমার মনে হয়ে এই সংস্থা গড়ে তোলার বিরোধিতা করেনি চীনা সরকার৷ আমাদের কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি৷ কারণ আমরা মূলত কাজ করছি দৃষ্টিহীন, তাদের জন্য৷ আমার মনে হয় সারা বিশ্বেই অন্ধদের সহায়তার জন্য নানা দেশে বিভিন্ন রকমের সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে৷ সারা বিশ্বেই এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে৷''

ফ্রেন্ডশিপ পুরস্কার প্রাপ্তি

Sabriye Tenberken in einer Blindenschule in Tibet

অন্ধ শিশুদের সাহায্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ টেনব্যার্কেন

২০০৬ সালে সাব্রিয়ে চীনা সরকারের কাছ থেকে পান ‘ফ্রেন্ডশিপ প্রাইজ' বা বন্ধুত্ব পুরস্কার৷ এটা হচ্ছে বিদেশিদের জন্য চীনা সরকারের সর্বোচ্চ পুরস্কার৷ এ'পর্যন্ত মাত্র ২,০০০ মানুষ এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে৷ চীনা সরকার কি সাব্রিয়েকে এই পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে নিজের স্বার্থ হাঁসিল করতে চাইছে ? এ প্রশ্নের উত্তরে সাব্রিয়ে জানালেন, ‘‘আমি পুরো বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখছি৷ আমার মনে হয় এই পুরস্কারের মধ্যে দিয়ে চীনা সরকার বুঝিয়ে দিচ্ছে, যে চীনা সমাজে অন্ধদের মেনে নেয়া হচ্ছে, তাদের জীবনও অন্যদের মত সহজ হোক, সেদিকে নজর দেয়া হচ্ছে৷ সমাজের অন্যান্য কাজে অন্ধরাও এগিয়ে আসুক, চীনা সরকার সেটাই চায়৷'' বন্ধুত্ব পুরস্কার পাওয়ার পর অনেক চীনা এসে সাব্রিয়েকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে৷ তাদের মধ্যে অনেকেই ছিল অন্ধ৷ তারা সাব্রিয়েকে বলেছে, ‘‘তোমার কাজ, এই পুরস্কার, আমাদেরই সাহায্য করবে৷ এর মধ্যে দিয়েই আমরা বোঝাতে পারবো যে সমাজে আমাদেরও কিছু করার আছে৷ এই পুরস্কার প্রমাণ দিয়েছে, যে সমাজে আমরা যারা অন্ধ, তাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে৷''

তিব্বতের সমাজে কুসংস্কার

তিব্বতে যারা অন্ধ, তাদের জীবন খুব সহজ নয়৷ তাদের সহজে মেনেও নেয়া হয় না৷ এ কারণে তাদের বাইরে বা পথে-ঘাটে খুব বেশি দেখাও যায় না৷ এখনও কেন এই অবস্থা চলছে, এই প্রশ্নের উত্তরে সাব্রিয়ে বললেন, এর সঙ্গে ধর্ম কিছুটা জড়িত৷ অনেকেই মনে করে, অন্ধ হওয়া বা অন্ধ হয়ে জন্মানো এক ধরণের শাস্তি৷ পূর্বজন্মে অত্যন্ত খারাপ কাজ করলে পরজন্মে অন্ধ হয়ে জন্মাতে হয় – এমন একটি বিশ্বাস প্রচলিত৷ সবাই মনে করে এটা কর্মফল৷ আমি অনেক প্রাপ্তবয়স্কদের দেখেছি, যাদের সন্তান অন্ধ৷ তারা ভুল করেও বাচ্চাদের স্পর্শ করে না৷ কারণ তারা বিশ্বাস করে, অশুভ কিছু ভর করেছে বাচ্চার ওপর৷ বাচ্চাকে স্পর্শ করলে অশুভ শক্তি তাদের উপর ভর করবে৷ এ'ধরণের কুসংস্কারের বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করছেন সাব্রিয়ে টেনব্যার্কেন৷

প্রতিবেদক: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদক: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী

সংশ্লিষ্ট বিষয়