1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিজ্ঞান পরিবেশ

অনুমতি না মেলায় স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে

মিন্টু চৌধুরী৷ পেশায় বুয়েট অটোমোবাইল শপের টেকনিশিয়ান৷ কয়েক বছর আগে নিজের তৈরি গ্লাইডারে চড়ে কিছুক্ষণের জন্য আকাশে উড়েছিলেন তিনি৷ স্বপ্ন ছিল আরও এগিয়ে যাবার৷ কিন্তু সেটা আর হয়নি৷

default

বুয়েট অটোমোবাইল শপের টেকনিশিয়ান মিন্টু চৌধুরী

সময়টা ২০০৮ সালের শেষ দিক৷ রাঙামাটির পাহাড়ঘেরা অঞ্চলে নিজের গ্রামে গ্লাইডার নিয়ে আকাশে উড়াল দিয়েছিলেন মিন্টু ও তাঁর সহযোগী ওয়াকী আবদুল্লাহ৷ প্রায় ১৫ মিনিট করে তিন-চারবার আকাশে উড়েছিলেন তাঁরা৷ ওড়ার অনুমতি না থাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে পাহাড়ঘেরা এলাকায় বেছে নিয়েছিলেন৷ পরবর্তীতে সরকারের কাছে অনুমতি নিতে গেলে বারবারই ফিরে আসতে হয়েছে৷ একেক সময় একেক অজুহাতে আজও তাঁর সরকারি অনুমতি পাওয়া হয়নি৷

Mintu Chowdhury mit Teilen seines Segelflugzeugs

গ্লাইডারের বিভিন্ন অংশ এখন খুলে রেখেছেন মিন্টু চৌধুরী৷ ছবিতে প্রোপেলার হাতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে৷

ডয়চে ভেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মিন্টু জানান, একবার সিভিল অ্যাভিয়েশনের অনুমতি পেতে সেখানকার দুজন কর্মকর্তাকে নিজের গ্লাইডারটি দেখিয়েছিলেন৷ ‘‘তাঁরা দেখে বললেন এটা অ্যামেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী হয়নি৷ আমরা বলেছিলাম, এটা তো অ্যামেরিকান স্ট্যান্ডার্ড হওয়ার কথাই না৷ এটা বাংলাদেশে তৈরি৷ এটা বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ডে হয়েছে কিনা সেটা দেখেন৷ তখন ওনারা বললেন, না ভাই আমরা এটা বুঝতে পারবো না৷ কারণ আমরা অ্যামেরিকান ছাড়া বা অন্য কোনো কান্ট্রি ছাড়া আমরা এটা বুঝবো না৷ বাংলাদেশে তো কখনো এটা হয় নাই এবং এটা আমরা বলতে পারবো না৷ এই বলে ওনারা আমাদের ফিরিয়ে দিলেন৷''

এর পরেও অনেকবার অনেক জায়গায় দৌ়ড়াদৌড়ির কথা জানান মিন্টু৷ কিন্তু কোনো কাজ হয়নি৷ অনুমতি পেতে তিনি ও ওয়াকী আব্দুল্লাহ মিলে ‘মা অ্যাভিয়েশন' নামে একটি কোম্পানিও গঠন করেছিলেন৷ কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি৷ তাই নিজের তৈরি গ্লাইডারটির বিভিন্ন অংশ খুলে এখন ওয়ার্কশপেই ফেলে রেখেছেন৷

Mintu Chowdhury mit Teilen seines Segelflugzeugs

বুয়েটের ওয়ার্কশপে থাকা মিন্টুর গ্লাইডারের সাইলেন্সার

মিন্টুর ইচ্ছা আর পাঁচ বছর পর যখন তাঁর বুয়েটের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর হয়ে যাবে তখন তিনি পেনশন পাবার যোগ্য হবেন৷ সেই টাকা দিয়ে তিনি আবার গ্লাইডার তৈরি করে সবার সামনেই আকাশে উড়বেন৷ ‘‘ঐ সময় যদি কেউ আমাকে গ্রেপ্তারও করে, আমাকে যদি সারা জীবন জেলেও পঁচতে হয় তাও আমি আরেকবার গ্লাইডার তৈরি করে আমার শখ মেটাবো,'' বলেন মিন্টু৷ এ প্রসঙ্গে তাঁর কাছে জানতে চাই তাঁর শখ সম্পর্কে৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার শখ হইলো বাংলাদেশের একজন কৃষক বলবে যে আমার বাংলাদেশ তৈরি করতে পারে, বিমান উড়াইতে পারে৷ আর সরকারের কাছে আমার চাওয়া ছিল, যদি সরকার আমাকে একটা ছোটখাটো জায়গা দিত তাহলে আমি সেখানে একটা রিসার্চ সেন্টার করতাম৷''

বাণিজ্যিক দিক

মিন্টু বলেন, চাইলে বাণিজ্যিকভাবেও গ্লাইডার তৈরি করা যেত৷ তাহলে কক্সবাজার সহ অন্যান্য আকর্ষণীয় স্থানে পর্যটকদের এ সব গ্লাইডারে চড়ানোর ব্যবস্থা করা যেত৷

অডিও শুনুন 09:23

মিন্টু চৌধুরীর সাক্ষাৎকার শুনুন এখানে

এছাড়া দুর্যোগের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও গ্লাইডার ব্যবহার করতে পারতো৷ এ প্রসঙ্গে মিন্টু জানান, সেনাবাহিনী থেকে দু'জন কর্মকর্তা তাঁর গ্লাইডার দেখে সেটা নিয়ে যেতে চেয়েছিল৷ ‘‘কিন্তু আমি দেয়নি৷ ওনারা চেয়েছিলেন, ওনাদের নামেই এটা ওড়ানোর জন্য৷ তো আমার এতো কষ্ট, এত কিছু৷ যদি ওনাদের নামেই উড়াতে হয় তাহলে তো আর কিছুই থাকবে না,'' বলেন মিন্টু৷

গ্লাইডার থেকে বিমান

মিন্টু জানান, একটা গ্লাইডারে সর্বোচ্চ তিনজন চড়তে পারে৷ ‘‘তবে আমাদের পরিকল্পনা ছিল, আমার কাছে যন্ত্রপাতি কেনা আছে যে, আমরা ৮-১০ জন চড়তে পারে এমন একটা প্লেন তৈরি করবো৷''

স্বশিক্ষিত

শুধুমাত্র বিদেশ থেকে পাওয়া এবং অনলাইনে পাওয়া বইপুস্তক পড়েই গ্লাইডার তৈরি করেছেন বলে জানান মিন্টু৷ ছোটবেলায় প্লেন উড়তে দেখেই তাঁর মনে বিমান তৈরির আগ্রহ জন্মে বলে জানান তিনি৷

সাক্ষাৎকার: জাহিদুল হক

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও