1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

অন্বেষণ

অনিশ্চয়তার যুগে জ্যোতিষশাস্ত্রের রমরমা

জ্যোতিষীর উপর ভরসা করেন কি? ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করেন? সংকটের সময় অনেক মানুষই কিন্তু কিছু একটা আঁকড়ে ধরে আশার আলো ধরে রাখার চেষ্টা করেন৷ অস্ট্রিয়ার এক জ্যোতিষী মানুষের আশা-ভরসার কথা শোনালেন৷

হাজার-হাজার বছর ধরে নক্ষত্রমণ্ডল মানুষকে মুগ্ধ করে চলেছে৷ এমনকি আমাদের জীবনযাত্রার উপরও নাকি তাদের প্রভাব আছে৷ রাশিফল নিয়ে বিতর্ক সম্পর্কে গ্যার্ডা রজার্স বেশ সচেতন৷ অস্ট্রিয়ার এই তারকা জ্যোতিষীর নিজের রাশি ‘ক্যাপ্রিকর্ন'৷ রাশির আরেকটি অংশ ‘অ্যাসেন্ডেন্ট' – জন্মস্থান ও জন্মের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত৷ গ্যার্ডা-র ক্ষেত্রে সেটি হলো ‘স্করপিয়ন'৷ ৭৩ বছর বয়স্ক এই জ্যোতিষীর মতে, সেই কারণে একদিকে তাঁর পা জমিতেই রয়েছে, অন্যদিকে আধ্যাত্মিকতার প্রতি টানও রয়েছে৷ গ্যার্ডা বলেন, ‘‘আমার কাছে জ্যোতিষশাস্ত্র মানেই মানুষের আত্মার ভিতরে উঁকি দেওয়া, তাদের চারিত্রিক প্রবণতা চিনতে পারা – সময়ের প্রেক্ষিতে মানুষটি ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাও চিহ্নিত করা৷ আমার মনে হয়, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বা কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জ্যোতিষশাস্ত্র সহায়তা করতে পারে৷''

গ্যার্ডা রজার্স জার্মানির বিভিন্ন পত্রপত্রিকার জন্য রাশিফল লেখেন৷ বিশেষ ক্ষেত্রে তিনি তারকাদের ভূত-ভবিষ্যতের দিকেও নজর দিতে ভালবাসেন৷ যেমন ২০১৪ সালে ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতায় কনচিতা ভুয়র্স্ট-এর জয়ের পূর্ববাণী করেছিলেন তিনি৷ জীবনের নানা ক্ষেত্রেই মানুষ জ্যোতিষশাস্ত্রের শরণাপন্ন হয়৷ গ্যার্ডা বলেন, ‘‘সব বয়সের, সব পেশার মানুষ আমার কাছে আসেন – পুরুষ-নারী, কিশোর-কিশোরী সবাই৷ এ নিয়ে আর কোনো ভণিতা নেই৷ ইদানীং লক্ষ্য করছি, অর্থনৈতিক সংকটের ফলে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে৷ এখন বেশি পুরুষ আসছেন, অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করছেন৷''

বিজ্ঞানে জ্যোতিষশাস্ত্রের কোনো ব্যাখ্যা নেই৷ তবে অনেকে স্বীকার না করলেও বলতেই হবে যে রাশিফলের একটা আকর্ষণ রয়েছে৷ ২০১২ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী জার্মানিতে ৫ শতাংশেরও বেশি মানুষ এতে বিশ্বাস করেন৷ ২২ শতাংশের মনে আংশিক বিশ্বাস রয়েছে৷ অস্ট্রিয়ার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ তাঁদের রাশিফলে বিশ্বাস করেন৷ চার হাজার বছর আগে বিজ্ঞানীরা প্রথম জ্যোতিষশাস্ত্র ও মানুষের উপর সৌরজগতের প্রভাব যাচাই করার চেষ্টা করেছিলেন৷

এই জনপ্রিয়তার পেছনে কারণ কী? মিডিয়া সাইকোলজিস্ট ইয়ো গ্র্যোবেল বলেন, ‘‘তথ্য-পরিসংখ্যান অনুযায়ী জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি বিশ্বাস সত্যি বেড়ে গেছে৷ এর এমন অর্থ হতে পারে যে মানুষের ‘ওরিয়েন্টেশন'-এর অন্যান্য মানদণ্ড কমছে৷ তাছাড়া সংকটের সময়ে মানুষ আবার সুদিনের স্বপ্ন দেখে৷ তখন জ্যোতিষশাস্ত্র তার পূর্বাভাষ দিলে অথবা জীবনে আরও নিশ্চয়তা পেলে সবার মনে কিছুটা আশা জন্মায়৷''

প্রায় ৩০ বছর আগে ভিয়েনা শহরের কাছে গ্যার্ডা রজার্স জ্যোতিষী হিসেবে নিজের চেম্বার খুলেছিলেন৷ ৫০ ইউরো থেকে তাঁর পারিশ্রমিক শুরু৷ জন্মদিন, জন্মের সময় ও জন্মস্থান দিয়ে বিশেষ কম্পিউটার প্রোগ্রামের সাহায্যে তিনি কোষ্ঠী তৈরি করেন৷ তারপর তাঁর আসল কাজ শুরু হয় – অর্থাৎ সেই কোষ্ঠীর ব্যাখ্যা করেন তিনি৷ গ্যার্ডা বলেন, ‘‘২০১৫ সালকে আমি ইতিবাচক পরিবর্তনের সাল হিসেবে দেখছি – বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধ থেকে৷ তখন কন্যা রাশির ঘরে বৃহস্পতি প্রবেশ করবে৷ পায়ের নীচে আমরা আরও শক্ত মাটি পাবো৷ জীবনে আনন্দ আসবে৷''

এমন পূর্ববাণী অবশ্যই ইতিবাচক৷ গ্যার্ডা রজার্সের ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক ছিল কিনা, এক বছরের মধ্যেই তা আমরা জেনে যাবো৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক