1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অনিশ্চিত জিএসপি: বিষযটি শুধু শর্তপূরণের নয়

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বা জিএসপি ফিরে পাবে কিনা – তা নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা৷ প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র শর্তপূরণের কথা বললেও, তারা ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে বিবেচনায় নিচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা৷

গত বছরের ২৭শে জুন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়৷ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কখনো জিএসপি সুবিধা না পেলেও, পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়েই জিএসপি স্থগিত হয়৷ বিশেষ করে তাজরীন ফ্যাশানস-এ আগুন এবং রানা প্লাজা ধসে মোট ১,৩৪২ জন পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু জিএসপি স্থগিতকে ত্বরান্বিত করে৷

স্থগিতের পর জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশকে ১৬টি শর্ত দেয় যুক্তরাষ্ট্র৷ গত সপ্তাহে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে দেখা করার পর ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা বলেন, জিএসপি ফিরে পেতে বাংলাদেশ বেশ কিছু কাজ করেছে, তবে আরো অনেক কাজ বাকি৷ গত মঙ্গলবার মার্কিন সহাকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালও ঐ একই কথা বলেছেন৷ তিনি বলেন, জিএসপি ফিরে পেতে বাংলাদেশকে আরো অনেক কাজ করতে হবে৷ এর সঙ্গে তিনি ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থানের কথাই জানিয়েছেন৷ বলেছেন, সংলাপ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা৷



বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অবশ্য দাবি করেছেন, জিএসপি ফিরে পেতে ১৬টি শর্তের মধ্যে ১৩টি পূরণ করা হয়েছে৷ বাকি তিনটি আরো দুই মাসের মধ্যেই পূরণ করা সম্ভব৷ সেগুলো হলো: পোশাক কারাখানার জন্য ২০০ জন পরিদর্শক নিয়োগ, ইপিজেড এলাকায় ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ এবং ১৯টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক নির্যাতনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, পোশাক কারাখানার কাজের পরিবেশ, শ্রমিক নিরাপত্তা, শ্রমিকদের মজুরি এবং ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ দেয়া এই চারটি হলো মূল শর্ত৷ স্বল্প মেয়াদে কিছু শর্ত পূরণ করা গেলেও কাজের পরিবেশ ও শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টি দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না৷ কারণ পোশাক কারখানার ভবন মান সম্মত করতে হলে অনেক সময় লাগবে৷ সেটা যুক্তরাষ্ট্রও জানে৷

তিনি বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে হলে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয় বুঝতে হবে৷ আর তা হলো ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন৷ যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশে আরেকটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং তার জন্য সংলাপ৷ সেটা নিশ্চিত না হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা জিএসপি সুবিধাকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে৷ এই সময়ে তাদের কথা-বার্তাতেও তা স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি মনে করেন৷

ড. হেলাল বলেন, ৬ই এপ্রিল টিকফার প্রথম রাউন্ডের আলোচনা হবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে৷ টিকফা দু'দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক ফোরাম হলেও এটা বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে তিনি মনে করেন না৷ এখানেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে৷ তাই তাঁর মতে, আলোচনা শুরু হলেই তা বোঝা যাবে৷

এদিকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত শুক্রবার বলেছেন, জিএসপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যা করছে তা ভুল৷ এ জন্য তিনি বিএনপির ‘প্ররোচনাকেও' দায়ী করেন৷ তিনি বলেন, এই সরকার পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে৷ সুতরাং মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন