1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

অনার কিলিং বা পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে হত্যা বাড়ছে ভারতে

প্রতি বছর ঠিক কতজন মেয়ে বা মহিলাকে এভাবে জীবন দিতে হয় তার সঠিক কোন তথ্য নেই৷ সম্প্রতি ভারতের বেশ কিছু আদালত সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে এই ‘অনার কিলিং’ বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে৷

default

গত মাসে ভারতের বেশ কিছু আদালত সরকারের কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়েছে ‘অনার কিলিং' বা পরিবারের সম্মান রক্ষার ওজর তুলে মেয়েদের যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তা বন্ধ করতে৷ ভারতে ইদানিং যা দেখা গেছে তা হল বর্ণাশ্রম না মেনে নিজের জাতের বাইরে কেউ যদি বিয়ে করে তাহলে - পরিবারের সম্মান ক্ষুন্ন করা হয়েছে এমনটি ধরে নেয়া হয়৷ তখন পরিবারের পুরুষ সদস্যরা প্রতিশোধ নিতে উঠে পড়ে লাগে৷ যেভাবেই হোক পরিবারের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে এবং তা করা যাবে যদি মেয়েটিকে হত্যা করা হয়৷ এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাবা-ভাই, আত্মীয় স্বজনরা পর্যন্ত থাকে৷ কিন্তু অত্যন্ত আদরের কন্যা বা বোনকে হত্যার পর পরিবারের সম্মান কি আদৌ ফিরে এসেছে?

এসব ‘অনার কিলিং'-এর ঘটনা মূলত গ্রামে দেখা যায় বেশি৷ সেখানে পঞ্চায়েত বা গ্রাম্য আদালত বেশির ভাগ সময়ে শাস্তির বিধান দেয়৷ তাদের কাছে জাতপাতের বিষয়টা সবসময় গুরুত্বপূর্ণ৷ তারাই এসব ‘অনার কিলিং'--এ গ্রামের সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করে৷

Frauen SHG Majhdalih

অনেক নারীই বর্ণ প্রথার শিকার হন

পুরনো দিনের মানসিকতা এখনো টিকে রয়েছে

কলকাতায় হাইকোর্টের আইনজীবী সিদ্ধার্থ চ্যাটার্জি জানালেন,‘‘এই অনার কিলিং-এর পেছনে যে মানসিকতা কাজ করে তা হল পুরনো দিনের সেই মানসিকতা৷ আমার জাতের বা গোত্রের বাইরে বিয়ে করলে অথবা যদি বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি বিয়ে করি তখন আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়৷ পরিবারের সদস্যরা তখন গর্ববোধ করে যে যারা পরিবারের বিরোধীতা করেছে তাদের মেরে ফেলা উচিৎ৷ শুধু যে বিয়ে করেছে তাকে মেরে ফেলা নয় যাকে বিয়ে করা হয়েছে তাকেও মেরে ফেলা হয়৷ এটা বহু বছর ধরে চলে আসছে৷ ইদানিং আগের চেয়ে হয়তো কমেছে কিন্তু আমার মনে হয় শেষবার এক হাজার বা দেড় হাজার অনার কিলিং-এর ঘটনা আমি শুনেছি৷ আর এ ধরণের ঘটনা সবচেয়ে দেখা যায় পাঞ্জাবে৷ তবে হরিয়ানাতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়৷ চণ্ডিগড়েও দেখা যায় অনার কিলিং-এর ঘটনা৷ এছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে দিল্লী আর কেরালাতেও এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে৷''

গতমাসে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারক মারকান্দেয়া কাটজু এবং জ্ঞানশুধা মিশ্র এই ‘অনার কিলিং'-এর তীব্র সমালেচনা করেন৷ তারা বলেন, ‘‘কোন মানুষকে হত্যা করা কোন অবস্থাতেই সম্মানজনক হতে পারে না৷ এটা অমানবিক এবং পাশবিক একটি ঘটনা ছাড়া আর কিছু নয়৷ গ্রাম্য পঞ্চায়েত ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের মানুষের মধ্যে বিয়ে কোন অবস্থাতেই সমর্থন করেন না৷ এসব পঞ্চায়েতের লোকরা সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করছে৷ কার কী পছন্দ তাতে পঞ্চায়েত সবসময়ই মাথা ঘামাচ্ছে৷'' বেশ জোর দিয়েই দুই বিচারক বলেন, ‘‘আমরা মনে করি ‘অনার কিলিং'-এর মত পাশবিক এই প্রথাকে নির্মূল করা উচিৎ৷''

পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশে অনার কিলিং-এর ঘটনা বেশি ঘটে

ভারতে প্রতি বছর ঠিক কত মেয়ে অনার কিলিং-এর শিকার হয় তার কোন সঠিক হিসাব নেই৷ তবে ধরে নেয়া হয় যে প্রায় ৯০০ মেয়ে প্রতি বছর এর শিকার৷ যে সব প্রদেশে এসব ঘটনা ঘটে তার মধ্যে হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশ উল্লেখযোগ্য৷

এছাড়া অনেক ‘অনার কিলিং'-এর কাহিনী গোপন থাকে৷ পুলিশের কাছে পর্যন্ত তা নিয়ে কোন রিপোর্ট করা হয়না৷ অনেক সময় পুলিশ নিজেও না দেখা বা না জানার অভিনয় করে৷ কারণ তাদের মধ্যেও এমন অনেকে আছে যারা বিশ্বাস করে যে ‘অনার কিলিং'-এর প্রয়োজন রয়েছে৷ যেসব পুলিশ ‘অনার কিলিং' মত ঘটনা ঘটছে দেখেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যদি গ্রহণ না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ওপর জোর দেন দুই ভারতীয় বিচারপতি৷

অনার কিলিং বন্ধ করতে খসড়া বিল প্রস্তাব করা হয়েছে

গত বছরের অগাস্ট মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পি. চিদাম্বরম জানান, সংসদে তিনি অনার কিলিং প্রতিরোধ করতে একটি খসড়া বিলের প্রস্তাব করবেন৷

সেই খসড়া প্রস্তাব সম্পর্কে আইনজীবী সিদ্ধার্থ চ্যাটার্জি ভীষণভাবে আশাবদী৷ তিনি বললেন,‘‘ভারত সরকার একটা বিল প্রস্তাব করার চেষ্টা করছে৷ অনার কিলিং-কে ভারতীয় পিনাল কোড অন্তর্ভুক্ত করবে৷ মার্ডারের যে সংজ্ঞা রয়েছে সেখানে অনার কলিং-কে যুক্ত করা হবে৷ সেটা করলে এর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে৷ প্রায় ১৮টি রাজ্যে এই প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে৷ ১৫টি রাজ্য এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছে৷ দুটি রাজ্য কিছু জানায়নি আর হরিয়ানা রাজ্য এর বিরোধীতা করেছে৷ তারা বলছে এর কোন প্রয়োজন নেই৷ দেশের প্রচলিত আইন দিয়েই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব৷ তবে এই বিল এখনো পাশ হয়নি, আশা করছি বিলটি পাশ হয়ে যাবে৷''

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-ফারূক

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়