1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

অত্যাচারের সম্মুখীন মিয়ানমারের মেয়েরা

মিয়ানমার মানেই অং সান সু চি৷ সম্প্রতি তিনি মুক্তি পেয়েছেন৷ স্বাধীনভাবে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারছেন, চলাফেরা করতে পারছেন৷ কিন্তু মিয়ানমারের অন্য মেয়েদের অবস্থা কী? মেয়েদের ওপর নির্যাতনে নাকি বিশ্ব রেকর্ড করেছে মিয়ানমার?

default

মিয়ানমারের নারীদের উপর অত্যাচার বন্ধে প্রতিবাদ

জাতিসংঘের ১৮২০ নম্বর প্রস্তাবে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে কোন নারীর ওপর অত্যাচার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমতুল্য৷ অথচ মিয়ানমারে যেসব সেনা নিয়মিত মেয়েদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে তারা থাকে একেবারে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, আইনের ঊর্ধ্বে৷

২০০৮ সালে জাতিসংঘ জানিয়েছে, নারীর ওপর অত্যাচার এবং নির্যাতনকে যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য গণ্য করা হবে৷ ১৮২০ নম্বর প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করা হয়েছে৷ কয়েক মাস আগে জাতিসংঘের নারী বিষয়ক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্গট ওয়ালস্ট্রম জানিয়েছেন, যে কোন সংঘর্ষ এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মেয়েদের যৌনপীড়নের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে, সেটা যেভাবেই হোক না কেন৷ আর যে বা যারা এসব অপরাধের জন্য দায়ী থাকবে তাদের যথাযোগ্য বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে৷ পরোক্ষভাবে তিনি ইঙ্গিত করেন মিয়ানমারের প্রতি৷

Bürgerkrieg in Birma

মিয়ানমারের সেনা সদস্যদের হাতেই নারীরা বেশি নির্যাতিত হন

১৯৬২ সালে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে নেয়৷ তখন থেকেই মিয়ানমারের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসে নানা ধরণের অত্যাচার৷ বিশেষ করে মেয়েদের ওপর৷ এসব মেয়েরা প্রায় সময়ই সেনাদের যৌন হয়রানির শিকার হত৷ গত আট বছর ধরে এসব যৌন অত্যাচার আর হয়রানির নথি সংগ্রহ করেছে একটি নারীবাদী সংস্থা ‘সোয়ান'৷ তারা নজর রাখছিল ‘শান' নামের একটি এলাকার ওপর৷ ৬২৫টি ঘটনা ঘটেছে ৬ বছরে৷ এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে তথ্য৷ অল্পবয়স্ক মেয়েরাও রেহাই পায়নি সেনাদের পাশবিক কামনা-বাসনার হাত থেকে৷ ‘সোয়ান' জানিয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ হল সেনা কর্মকর্তা৷ যৌনপীড়নের প্রতি তিনজন শিকারের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্কা৷ প্রতি চারজন মেয়ের মধ্যে একজন প্রাণ হারায়৷ খুবই অল্প সংখ্যক সেনার বিচার হয়েছে এ পর্যন্ত৷

নভেম্বর মাসের শুরুতে ঘটে আরেকটি ঘটনা৷ নির্বাচনের আগের দিন সন্ধ্যায় জানানো হয় সোয়ান-এর সদস্যা সেং নুওং লিন্টনার ক্যাথলিক একটি সংস্থার সাহায্যে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে একটি আন্তর্জাতিক আলোচনাসভায় অংশগ্রহণ করেছেন৷

Margot Wallström

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্গট ওয়ালস্ট্রম

মিয়ানমারে মেয়েদের ওপর অত্যাচারের কথা সেখানে তুলে ধরা হয়৷ লিন্টনার'এর কথায়, ‘‘আজ পর্যন্ত সামরিক বাহিনী ডানা মেলে রয়েছে দেশটিতে৷ ক্ষমতাসীন দল অকারণে সাধারণ মানুষদের নাজেহাল করছে৷ মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে৷ এবং তা করছে ইচ্ছে করেই৷ হ্যাঁ, আমি বলতে চাচ্ছি ইচ্ছাকৃতভাবেই এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে৷ যখন একজন বা একাধিক সেনা একটি মেয়ের ওপর চড়াও হয়, মেয়েটির পেছনে লেগে থাকে, তখন মেয়েটিকে নিয়ে পুরো পরিবার পালাতে বাধ্য হয়৷ এর ফলে বেশ কিছু জায়গা জনশূন্য হয়ে পড়েছে৷ আমি জানি একটি পরিবারে মা এবং মেয়েকে একই সঙ্গে ধর্ষণ করা হয়েছে৷ তাদেরকে জোর করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানো হয়েছিল৷ প্রথম রাতেই তাদের ওপর হামলা করে সেনারা৷''

নভেম্বর মাসে মার্গট ওয়ালস্ট্রম জাতিসংঘের সদর দপ্তরে জানান, একটি সমাজকে, একটি মেয়েকে, একটি পরিবারকে সারাজীবনের জন্য মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিতে পারে ধর্ষণের মত ঘটনা৷ ধর্ষণ কোন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মত গর্জন করে না ঠিকই কিন্তু এর পরিণতি একটি মেয়েকে পঙ্গু করে দেয় সারাজীবনের জন্য৷ তিনি বলেন, যে সব স্থানে সংঘাত-সংঘর্ষ চলছে সেসব এলাকার পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে৷ মেয়েদের রক্ষার দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে৷ ক্ষোভ প্রকাশ করে পুরুষদের উদ্দেশ্যে ওয়ালস্ট্রম বলেন, ‘‘আপনারা উপযুক্ত নন, আপনাদের মা-বোনকে রক্ষা করার ক্ষমতা আপনাদের নেই৷''

ভেরোনিক নাহুম-গ্রাপ ফরাসী নৃবিজ্ঞানী৷ তিনি জানান, ‘‘যখন একটি মহিলাকে ধর্ষণ করা হয় তখন সে আর মহিলা থাকে না৷ একটি নারীর ভেতর যে কোমলতা লুকিয়ে থাকে তার পুরোটাই হরণ করা হয়৷ যে বা যারা এ কাজটি করে তারা একটি মেয়ের নিজস্ব সত্তাকেই হত্যা করে, পড়ে থাকে শুধু দেহটি৷ সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করতে ধর্ষণের মত অস্ত্রকে বেছে নেওয়া হয়েছে৷ সমাজে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে পরিত্যক্ত হিসেবে, জঞ্জাল হিসেবে৷ তাদের লক্ষ্য হল এসব সংখ্যালঘুদের নির্মূল করা৷''

লিন্টানার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন৷ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার হাত থেকে এইসব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা করার আর্জি জানিয়েছেন বহির্বিশ্বকে৷ সামরিক জান্তার অবসানের দাবি জানিয়েছেন তিনি৷ প্রশ্ন, অং সান সু চি'র মত মিয়ানমারের প্রতিটি মেয়ে স্বাধীন হবে কবে?

প্রতিবেদন: মারিনা জোয়ারদার

সম্পাদনা: আবদুল্লাহ আল-ফারুক

সংশ্লিষ্ট বিষয়